১২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
বিমানবন্দর–কমলাপুর, হেমায়েতপুর–ভাটারা ও গাবতলী–দাশেরকান্দি রুটে এগোচ্ছে প্রকল্প

ঢাকায় একসঙ্গে শুরু হচ্ছে তিন মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ

The gallery was not found!

রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের লক্ষ্যে একই সময়ে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প তিনটি হলো—এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর–কমলাপুর), এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুট (হেমায়েতপুর–ভাটারা) এবং এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট (গাবতলী–দাশেরকান্দি)।

তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে নতুন লাইন-৫ সাউদার্ন রুট নির্মাণের পাশাপাশি লাইন-১ ও লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের ব্যয় সংশোধন করা হয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়।

এমআরটি লাইন-১: বিমানবন্দর–কমলাপুর

প্রায় ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটের বড় অংশ হবে পাতালপথ। প্রকল্পটির সংশোধিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা। রুটটি চালু হলে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে।

এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন: হেমায়েতপুর–ভাটারা

প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটের সংশোধিত ব্যয় ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। এর একটি অংশ উড়ালপথে এবং বাকি অংশ পাতালপথে নির্মিত হবে। প্রকল্পটি ২০৩২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন: গাবতলী–দাশেরকান্দি

নতুন এই রুটের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৪৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার হবে পাতালপথ। প্রকল্পটি ২০৩৩ সালের আগস্টে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্মাণকাজে নতুন অগ্রগতি

গত ২৭ অক্টোবর এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের চারটি নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় ১১ দশমিক ৫০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ, আটটি স্টেশন এবং ডিপোর বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।

লাইন-১-এর আওতায় তিনটি এবং নর্দার্ন রুটের আওতায় পাঁচটি উড়াল স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকল্প দুটির মাঠপর্যায়ের নির্মাণকাজ আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

যানজট ও জনভোগান্তির আশঙ্কা

তিনটি মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ প্রায় একই সময়ে চলায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানজট ও জনভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কুড়িল, বাড্ডা, মিরপুর, গাবতলী, শ্যামলী, আসাদ গেট ও কারওয়ান বাজারের মতো ব্যস্ত এলাকায় নির্মাণকাজের প্রভাব পড়তে পারে।

পাতালপথ নির্মাণের ক্ষেত্রে ওপরের সড়কে সরাসরি প্রভাব তুলনামূলক কম হলেও স্টেশন, প্রবেশপথ ও ডিপো নির্মাণের সময় সড়কের জায়গা সংকুচিত হতে পারে। এ ছাড়া পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইন স্থানান্তরের কাজেও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) বলছে, আগের মেট্রোরেল নির্মাণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প সড়কের ব্যবস্থাও করা হবে।

বদলে যেতে পারে রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থা

তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকার উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর, কমলাপুর, গাবতলী, মিরপুর, গুলশান, বাড্ডা ও পূর্বাচলসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকার যোগাযোগ সহজ হবে।

তবে বিপুল ব্যয়ের এসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে এবং মান বজায় রেখে বাস্তবায়ন করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। নির্মাণকালীন জনভোগান্তি কমানো এবং প্রকল্প ব্যয়ের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক রাজধানীর গণপরিবহনে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

জনতা ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক অগ্রযাত্রা, নয় মাসে আয় বেড়ে ১.৩৬ টাকা

Business Times24

বিমানবন্দর–কমলাপুর, হেমায়েতপুর–ভাটারা ও গাবতলী–দাশেরকান্দি রুটে এগোচ্ছে প্রকল্প

ঢাকায় একসঙ্গে শুরু হচ্ছে তিন মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ

Update Time : ০১:১১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের লক্ষ্যে একই সময়ে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প তিনটি হলো—এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর–কমলাপুর), এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুট (হেমায়েতপুর–ভাটারা) এবং এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট (গাবতলী–দাশেরকান্দি)।

তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে নতুন লাইন-৫ সাউদার্ন রুট নির্মাণের পাশাপাশি লাইন-১ ও লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের ব্যয় সংশোধন করা হয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়।

এমআরটি লাইন-১: বিমানবন্দর–কমলাপুর

প্রায় ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটের বড় অংশ হবে পাতালপথ। প্রকল্পটির সংশোধিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা। রুটটি চালু হলে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে।

এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন: হেমায়েতপুর–ভাটারা

প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটের সংশোধিত ব্যয় ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। এর একটি অংশ উড়ালপথে এবং বাকি অংশ পাতালপথে নির্মিত হবে। প্রকল্পটি ২০৩২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন: গাবতলী–দাশেরকান্দি

নতুন এই রুটের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৪৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার হবে পাতালপথ। প্রকল্পটি ২০৩৩ সালের আগস্টে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্মাণকাজে নতুন অগ্রগতি

গত ২৭ অক্টোবর এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের চারটি নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় ১১ দশমিক ৫০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ, আটটি স্টেশন এবং ডিপোর বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।

লাইন-১-এর আওতায় তিনটি এবং নর্দার্ন রুটের আওতায় পাঁচটি উড়াল স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকল্প দুটির মাঠপর্যায়ের নির্মাণকাজ আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

যানজট ও জনভোগান্তির আশঙ্কা

তিনটি মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ প্রায় একই সময়ে চলায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানজট ও জনভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কুড়িল, বাড্ডা, মিরপুর, গাবতলী, শ্যামলী, আসাদ গেট ও কারওয়ান বাজারের মতো ব্যস্ত এলাকায় নির্মাণকাজের প্রভাব পড়তে পারে।

পাতালপথ নির্মাণের ক্ষেত্রে ওপরের সড়কে সরাসরি প্রভাব তুলনামূলক কম হলেও স্টেশন, প্রবেশপথ ও ডিপো নির্মাণের সময় সড়কের জায়গা সংকুচিত হতে পারে। এ ছাড়া পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইন স্থানান্তরের কাজেও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) বলছে, আগের মেট্রোরেল নির্মাণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প সড়কের ব্যবস্থাও করা হবে।

বদলে যেতে পারে রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থা

তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকার উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর, কমলাপুর, গাবতলী, মিরপুর, গুলশান, বাড্ডা ও পূর্বাচলসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকার যোগাযোগ সহজ হবে।

তবে বিপুল ব্যয়ের এসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে এবং মান বজায় রেখে বাস্তবায়ন করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। নির্মাণকালীন জনভোগান্তি কমানো এবং প্রকল্প ব্যয়ের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক রাজধানীর গণপরিবহনে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে।