দেশের বাজারে টানা দুই দফা কমেছে সোনার দাম। সব মিলিয়ে শুক্রবার ও শনিবার দুই দিনে প্রতি ভরিতে সোনার দাম কমেছে ৭ হাজার ১১৫ টাকা। এর ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ টাকা। নতুন এ দাম শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন দাম নির্ধারণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। সংগঠনটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ প্রতি ভরি সোনার দাম কমানো হয়েছে ৫ হাজার ৪৮১ টাকা। এর আগে গতকাল শুক্রবার কমানো হয়েছিল ১ হাজার ৬৩৩ টাকা।
এ নিয়ে টানা চার দিন দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করা হলো। এর আগে গত সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দফায় সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল মোট ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। তবে পরবর্তী দুই দফায় বড় অঙ্কে দাম কমায় বাজারে নতুন করে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৭ হাজার ৭৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ টাকা।
দাম কমানোর আগে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।
সোনার পাশাপাশি দেশের বাজারে কমেছে রুপার দামও। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা এবং ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্ববাজারেও বড় দরপতন
দেশের বাজারে সোনার দাম কমার পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের নিম্নমুখী প্রবণতার প্রভাব রয়েছে। গতকাল শুক্রবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে নিউইয়র্কের বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে ১৪৩ ডলার। এতে প্রতি আউন্স সোনার দাম নেমে এসেছে ৩ হাজার ৮৭৫ ডলারে।
সাধারণত যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ে। এতে মূল্যবান এই ধাতুর দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়। তবে এবার ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমছে।
বাজার বিশ্লেষণে এর অন্যতম কারণ হিসেবে মার্কিন ডলারভিত্তিক বন্ডের সুদ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। সুদের হার বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ সোনা থেকে সরে গিয়ে বন্ডে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার চাহিদা ও দামে চাপ তৈরি হয়েছে।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ দিনে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে ১৫৩ ডলার। ছয় মাসের হিসাবে দরপতনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০৬ ডলার।
আন্তর্জাতিক বাজারে এই দরপতনের প্রভাব পড়ছে দেশের স্বর্ণবাজারেও। ফলে পরপর দুই দফা দাম কমায় ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় কিছুটা স্বস্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 





















