শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে ঘরমুখী ও ভ্রমণপ্রত্যাশী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়ক, রেল ও নৌপথে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে বিশেষ বাস ও ট্রেন পরিচালনা, অতিরিক্ত ফেরি ও লঞ্চ প্রস্তুত রাখা, সড়ক মেরামত এবং নিরাপত্তা জোরদারসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট কালোবাজারি ও পরিবহন খাতের অনিয়ম ঠেকাতে মাঠে থাকবে প্রশাসন। এ লক্ষ্যে সারাদেশে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে ৩৫টি মোবাইল কোর্ট।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দীর্ঘ এ ছুটিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়ি কিংবা দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণে যেতে পারেন। ফলে ছুটির শুরুতে রাজধানী ছাড়ার সময় এবং ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার পথে সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিত করতে পরিবহনব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ, যানজটপ্রবণ এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সড়কপথে যানজট ও অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ন্ত্রণে নজরদারি
পূজার ছুটিতে মহাসড়ক ও রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায়, টিকিট নিয়ে অনিয়ম এবং পরিবহন খাতে অন্যান্য অসংগতি ঠেকাতেও প্রশাসনের তৎপরতা থাকবে। এসব অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রেল ও নৌপথে বাড়তি প্রস্তুতি
যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে রেলপথে বিশেষ ট্রেন পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, নৌপথে যাত্রী পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত ফেরি ও লঞ্চ প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, ছুটির সময় যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা কমানো এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত সহজ করা। পাশাপাশি নৌযান চলাচলে নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য
দীর্ঘ ছুটিতে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাড়ি ও পর্যটনকেন্দ্রের উদ্দেশে যাত্রা করায় পরিবহন ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় সড়ক, রেল ও নৌপথে সমন্বিত প্রস্তুতি এবং নিয়মিত তদারকিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারের নেওয়া এসব পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে পূজার ছুটিতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো, পরিবহন খাতের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 



















