১২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

নোবেলের দৌড়ে ওজন কমানোর ওষুধের গবেষণা

The gallery was not found!

বিশ্বজুড়ে স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে আলোড়ন তোলা ওজন কমানোর ওষুধের পেছনের বিজ্ঞান এবার নোবেল পুরস্কারের আলোচনার কেন্দ্রে। ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিয়ে গবেষণা এবং সেখান থেকে তৈরি আধুনিক ওষুধের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এবারের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সোমবার চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের নোবেল মৌসুম। ৫ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন ঘোষণা করা হবে চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীদের নাম।

এবার চিকিৎসাবিজ্ঞানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে GLP-1 নিয়ে গবেষণা। খাবার গ্রহণের পর অন্ত্র থেকে নিঃসৃত এই হরমোন মস্তিষ্কে তৃপ্তির সংকেত পাঠায়। ওজেম্পিক ও মাউনজারোর মতো বহুল আলোচিত ওজন কমানোর ওষুধ এই হরমোনের কার্যপ্রক্রিয়াকে অনুকরণ করে।

গবেষণা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্ল্যারিভেটের বিশ্লেষক ডেভিড পেন্ডেলবারি মনে করেন, GLP-1 গবেষণার নোবেল পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর মতে, বিশ্বজুড়ে এর চিকিৎসাগত প্রভাব এতটাই ব্যাপক যে সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে এটি বিশেষভাবে এগিয়ে।

এই গবেষণাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য আলোচনায় রয়েছেন কানাডীয় হরমোন বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল ড্রাকার, ডেনমার্কের চিকিৎসক জেন্স জুল হোলস্ট এবং সাবেক যুগোস্লাভিয়া-জন্ম মার্কিন রসায়নবিদ স্বেতলানা মোইসভ। ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের গবেষণায় লেপটিন ও ঘ্রেলিন আবিষ্কারও নোবেল কমিটির বিবেচনায় থাকতে পারে। একইভাবে শরীরের জীবাণুসমষ্টি বা মাইক্রোবায়োম নিয়ে গবেষণাও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল শুধু ওজন কমানোর ওষুধের গবেষণায় সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। ত্বকের পুনর্গঠন ও ক্ষত নিরাময়ে স্টেম সেল কীভাবে কাজ করে, সেই গবেষণার জন্য মার্কিন কোষজীববিজ্ঞানী এলেইন ফুকস ও ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ফিওনা ওয়াটের নামও আলোচনায় রয়েছে।

আরেকটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি। আলো প্রতিফলনের মাধ্যমে শরীরের টিস্যুর উচ্চমাত্রার ছবি তৈরি করে এই প্রযুক্তি, বিশেষ করে রেটিনা ও অপটিক নার্ভের রোগ শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ।

রোগ প্রতিরোধব্যবস্থায় কোষের চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী ‘অ্যাডহেশন রিসেপ্টর’ নিয়ে মার্কিন ইমিউনোলজিস্ট টিমোথি স্প্রিংগারের গবেষণাও পুরস্কারের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। এসব রিসেপ্টর সংক্রমণের স্থানে রোগ প্রতিরোধকারী কোষ পৌঁছাতে সাহায্য করে এবং প্রদাহ ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া স্তন ক্যানসার গবেষণা কিংবা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সহায়ক ডিএনএ সিকোয়েন্সিংও পুরস্কার পেতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের পর মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান, বুধবার রসায়ন এবং বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল ঘোষণা হবে। সাহিত্যে এবার নারী লেখককে বেছে নেওয়া হতে পারে—এমন আলোচনায় আর্জেন্টিনার সামান্তা শ্বেব্লিন, জামাইকা কিনকেইড, চীনের কান শুয়ে, অস্ট্রেলিয়ার জেরাল্ড মার্নেন ও অ্যালেক্সিস রাইটসহ কয়েকজনের নাম রয়েছে।

শুক্রবার ঘোষণা হবে শান্তিতে নোবেল। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইউক্রেনীয় শিশু অধিকারকর্মী মাইকোলা কুলেবা, সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস (ERR) এবং কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (CPJ)। ১২ অক্টোবর অর্থনীতিতে নোবেল ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের নোবেল মৌসুম।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

জনতা ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক অগ্রযাত্রা, নয় মাসে আয় বেড়ে ১.৩৬ টাকা

Business Times24

নোবেলের দৌড়ে ওজন কমানোর ওষুধের গবেষণা

Update Time : ১০:৫১:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে আলোড়ন তোলা ওজন কমানোর ওষুধের পেছনের বিজ্ঞান এবার নোবেল পুরস্কারের আলোচনার কেন্দ্রে। ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিয়ে গবেষণা এবং সেখান থেকে তৈরি আধুনিক ওষুধের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এবারের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সোমবার চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের নোবেল মৌসুম। ৫ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন ঘোষণা করা হবে চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীদের নাম।

এবার চিকিৎসাবিজ্ঞানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে GLP-1 নিয়ে গবেষণা। খাবার গ্রহণের পর অন্ত্র থেকে নিঃসৃত এই হরমোন মস্তিষ্কে তৃপ্তির সংকেত পাঠায়। ওজেম্পিক ও মাউনজারোর মতো বহুল আলোচিত ওজন কমানোর ওষুধ এই হরমোনের কার্যপ্রক্রিয়াকে অনুকরণ করে।

গবেষণা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্ল্যারিভেটের বিশ্লেষক ডেভিড পেন্ডেলবারি মনে করেন, GLP-1 গবেষণার নোবেল পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর মতে, বিশ্বজুড়ে এর চিকিৎসাগত প্রভাব এতটাই ব্যাপক যে সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে এটি বিশেষভাবে এগিয়ে।

এই গবেষণাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য আলোচনায় রয়েছেন কানাডীয় হরমোন বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল ড্রাকার, ডেনমার্কের চিকিৎসক জেন্স জুল হোলস্ট এবং সাবেক যুগোস্লাভিয়া-জন্ম মার্কিন রসায়নবিদ স্বেতলানা মোইসভ। ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের গবেষণায় লেপটিন ও ঘ্রেলিন আবিষ্কারও নোবেল কমিটির বিবেচনায় থাকতে পারে। একইভাবে শরীরের জীবাণুসমষ্টি বা মাইক্রোবায়োম নিয়ে গবেষণাও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল শুধু ওজন কমানোর ওষুধের গবেষণায় সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। ত্বকের পুনর্গঠন ও ক্ষত নিরাময়ে স্টেম সেল কীভাবে কাজ করে, সেই গবেষণার জন্য মার্কিন কোষজীববিজ্ঞানী এলেইন ফুকস ও ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ফিওনা ওয়াটের নামও আলোচনায় রয়েছে।

আরেকটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি। আলো প্রতিফলনের মাধ্যমে শরীরের টিস্যুর উচ্চমাত্রার ছবি তৈরি করে এই প্রযুক্তি, বিশেষ করে রেটিনা ও অপটিক নার্ভের রোগ শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ।

রোগ প্রতিরোধব্যবস্থায় কোষের চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী ‘অ্যাডহেশন রিসেপ্টর’ নিয়ে মার্কিন ইমিউনোলজিস্ট টিমোথি স্প্রিংগারের গবেষণাও পুরস্কারের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। এসব রিসেপ্টর সংক্রমণের স্থানে রোগ প্রতিরোধকারী কোষ পৌঁছাতে সাহায্য করে এবং প্রদাহ ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া স্তন ক্যানসার গবেষণা কিংবা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সহায়ক ডিএনএ সিকোয়েন্সিংও পুরস্কার পেতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের পর মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান, বুধবার রসায়ন এবং বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল ঘোষণা হবে। সাহিত্যে এবার নারী লেখককে বেছে নেওয়া হতে পারে—এমন আলোচনায় আর্জেন্টিনার সামান্তা শ্বেব্লিন, জামাইকা কিনকেইড, চীনের কান শুয়ে, অস্ট্রেলিয়ার জেরাল্ড মার্নেন ও অ্যালেক্সিস রাইটসহ কয়েকজনের নাম রয়েছে।

শুক্রবার ঘোষণা হবে শান্তিতে নোবেল। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইউক্রেনীয় শিশু অধিকারকর্মী মাইকোলা কুলেবা, সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস (ERR) এবং কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (CPJ)। ১২ অক্টোবর অর্থনীতিতে নোবেল ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের নোবেল মৌসুম।