১২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করছে: প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত

The gallery was not found!

বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশ ও আঞ্চলিক অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে আসছে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত সুবিধার কারণে দেশের সমুদ্রবন্দর, নৌপথ এবং উপকূলীয় অর্থনীতি পুরো বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অপার সম্ভাবনা রাখে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আঞ্চলিক সহযোগিতা ও যৌথ সমৃদ্ধি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে হবে। বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেলে নতুন বাজার উন্মুক্ত হবে এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হবে।

অর্থনীতি, সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থান

জনগণের নতুন ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব নেওয়া সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান:

  • সামাজিক নিরাপত্তা: সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকদের সহায়তায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’, ‘হেলথ কার্ড’ ও ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

  • স্বাস্থ্যসেবা: তৃণমূলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ১ লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের কাজ চলছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী।

  • শিক্ষা ও তরুণ সমাজ: প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারণ করা হবে। ‘ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তর করতে এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • কৃষি ও পরিবেশ: আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

মেগা প্রকল্প ও পানি নিরাপত্তা

দেশে পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খনন করা হবে। এছাড়া ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়ন করা হচ্ছে।

আইনের শাসন ও রোহিঙ্গা সংকট

বাস্তুচ্যুত ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে তাদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সমর্থন ও অর্থায়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, সিজিএস আয়োজিত পঞ্চমবারের এই সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০ এর বেশি প্রতিনিধি এবং সহস্রাধিক অতিথি অংশ নিচ্ছেন। এতে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ ও মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারাসহ বিশ্বনেতারা উপস্থিত আছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

জনতা ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক অগ্রযাত্রা, নয় মাসে আয় বেড়ে ১.৩৬ টাকা

Business Times24

বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করছে: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ১২:১৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশ ও আঞ্চলিক অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে আসছে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত সুবিধার কারণে দেশের সমুদ্রবন্দর, নৌপথ এবং উপকূলীয় অর্থনীতি পুরো বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অপার সম্ভাবনা রাখে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আঞ্চলিক সহযোগিতা ও যৌথ সমৃদ্ধি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে হবে। বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেলে নতুন বাজার উন্মুক্ত হবে এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হবে।

অর্থনীতি, সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থান

জনগণের নতুন ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব নেওয়া সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান:

  • সামাজিক নিরাপত্তা: সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকদের সহায়তায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’, ‘হেলথ কার্ড’ ও ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

  • স্বাস্থ্যসেবা: তৃণমূলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ১ লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের কাজ চলছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী।

  • শিক্ষা ও তরুণ সমাজ: প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারণ করা হবে। ‘ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তর করতে এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • কৃষি ও পরিবেশ: আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

মেগা প্রকল্প ও পানি নিরাপত্তা

দেশে পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খনন করা হবে। এছাড়া ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়ন করা হচ্ছে।

আইনের শাসন ও রোহিঙ্গা সংকট

বাস্তুচ্যুত ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে তাদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সমর্থন ও অর্থায়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, সিজিএস আয়োজিত পঞ্চমবারের এই সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০ এর বেশি প্রতিনিধি এবং সহস্রাধিক অতিথি অংশ নিচ্ছেন। এতে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ ও মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারাসহ বিশ্বনেতারা উপস্থিত আছেন।