০৮:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

নভেম্বর থেকেই বাংলা কিউআরে লেনদেন, কমছে খরচ, মিলবে প্রণোদনাও

The gallery was not found!

আগামী নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআর দিয়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেন করা যাবে। এ সেবার আওতায় একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে কিংবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে ছবি আপলোড করে টাকা আদান-প্রদান করতে পারবেন।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ বিষয় তুলে ধরেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

তিনি বলেন, ‘অনেকে মনে করছেন বাংলা কিউআর কোডের সম্প্রসারণে তাদের ব্যবসা কমে যাবে, আসলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। যারা বাংলা কিউআরের সঙ্গে থাকবে না, তাদের অস্তিত্বও থাকবে না।’

মুখপাত্র জানান, বর্তমানে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে দেশব্যাপী প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্টের কাছে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে কেনাকাটার অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ লাখ বাংলা কিউআর লেনদেন সম্পন্ন হতো, যার আর্থিক মূল্য ছিল দৈনিক গড়ে ২৮ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার বাংলা কিউআর লেনদেন হচ্ছে, যার আর্থিক মূল্য গড়ে প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ, গত ১ জুলাই থেকে মাত্র ৯০ দিনের ব্যবধানে বাংলা কিউআরে লেনদেনের সংখ্যা গড়ে প্রায় সাড়ে তিন গুণ এবং অর্থমূল্য প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে।

বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরও বাড়াতে নিয়ন্ত্রণমূলক সহজীকরণের অংশ হিসেবে গত ১ জুলাই থেকে সব ধরনের নিজস্ব কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর প্রতিস্থাপন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি এর কার্যকারিতা, প্রচার ও মূল্য নির্ধারণের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলা কিউআর ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কার্যকরী কমিটির পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে সভাপতি করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি কাজ করছে। এসব কমিটি বাংলা কিউআর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় নীতি ও কৌশলগত পদক্ষেপ চিহ্নিত করে করণীয় নির্ধারণ করছে।

বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন গ্রহণে মার্চেন্টদের উৎসাহিত করতে ১ অক্টোবর থেকে সব বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। এর ফলে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধের পর মার্চেন্টকে অর্থ পাওয়ার জন্য আর অপেক্ষা করতে হবে না। এতে বাংলা কিউআর ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার থেকে বাংলা কিউআর লেনদেনের ক্ষেত্রে অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সর্বনিম্ন ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) বাতিল করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে মার্চেন্ট পর্যায়ে বাংলা কিউআরে অর্থ পরিশোধের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো মার্চেন্টদের সম্পূর্ণ বিনা খরচে অথবা নামমাত্র খরচে বাংলা কিউআর পেমেন্ট সেবা দিতে পারবে।

এ ছাড়া বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহ দিতে আগামীকাল থেকে নতুন প্রণোদনা ব্যবস্থাও চালু হচ্ছে। সব মার্চেন্ট পয়েন্টে জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পাদিত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই প্রণোদনা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে লেনদেনের ০.১০ শতাংশ এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে ০.২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর

Business Times24

নভেম্বর থেকেই বাংলা কিউআরে লেনদেন, কমছে খরচ, মিলবে প্রণোদনাও

Update Time : ০৫:০৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আগামী নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআর দিয়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেন করা যাবে। এ সেবার আওতায় একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে কিংবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে ছবি আপলোড করে টাকা আদান-প্রদান করতে পারবেন।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ বিষয় তুলে ধরেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

তিনি বলেন, ‘অনেকে মনে করছেন বাংলা কিউআর কোডের সম্প্রসারণে তাদের ব্যবসা কমে যাবে, আসলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। যারা বাংলা কিউআরের সঙ্গে থাকবে না, তাদের অস্তিত্বও থাকবে না।’

মুখপাত্র জানান, বর্তমানে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে দেশব্যাপী প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্টের কাছে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে কেনাকাটার অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ লাখ বাংলা কিউআর লেনদেন সম্পন্ন হতো, যার আর্থিক মূল্য ছিল দৈনিক গড়ে ২৮ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার বাংলা কিউআর লেনদেন হচ্ছে, যার আর্থিক মূল্য গড়ে প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ, গত ১ জুলাই থেকে মাত্র ৯০ দিনের ব্যবধানে বাংলা কিউআরে লেনদেনের সংখ্যা গড়ে প্রায় সাড়ে তিন গুণ এবং অর্থমূল্য প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে।

বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরও বাড়াতে নিয়ন্ত্রণমূলক সহজীকরণের অংশ হিসেবে গত ১ জুলাই থেকে সব ধরনের নিজস্ব কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর প্রতিস্থাপন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি এর কার্যকারিতা, প্রচার ও মূল্য নির্ধারণের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলা কিউআর ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কার্যকরী কমিটির পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে সভাপতি করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি কাজ করছে। এসব কমিটি বাংলা কিউআর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় নীতি ও কৌশলগত পদক্ষেপ চিহ্নিত করে করণীয় নির্ধারণ করছে।

বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন গ্রহণে মার্চেন্টদের উৎসাহিত করতে ১ অক্টোবর থেকে সব বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। এর ফলে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধের পর মার্চেন্টকে অর্থ পাওয়ার জন্য আর অপেক্ষা করতে হবে না। এতে বাংলা কিউআর ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার থেকে বাংলা কিউআর লেনদেনের ক্ষেত্রে অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সর্বনিম্ন ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) বাতিল করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে মার্চেন্ট পর্যায়ে বাংলা কিউআরে অর্থ পরিশোধের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো মার্চেন্টদের সম্পূর্ণ বিনা খরচে অথবা নামমাত্র খরচে বাংলা কিউআর পেমেন্ট সেবা দিতে পারবে।

এ ছাড়া বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহ দিতে আগামীকাল থেকে নতুন প্রণোদনা ব্যবস্থাও চালু হচ্ছে। সব মার্চেন্ট পয়েন্টে জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পাদিত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই প্রণোদনা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে লেনদেনের ০.১০ শতাংশ এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে ০.২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে।