০৮:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

রপ্তানি বহুমুখীকরণে ২০ দেশের বাজারে নজর সরকারের

The gallery was not found!

তৈরি পোশাকের নির্ভরতা কমিয়ে ওষুধ, কৃষিপণ্য, ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা

তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি আয়ের ভিত্তি বিস্তৃত করতে বিশ্বের ২০টি দেশকে সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার। এসব দেশে নতুন পণ্য রপ্তানি, বিদ্যমান বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব বৃদ্ধি এবং সেবা রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে বহুমুখী রপ্তানি কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ কৌশল: ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য গন্তব্যে পণ্য ও বাজারের বৈচিত্র্য’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে সম্ভাব্য বাজারগুলোর তালিকা জানা গেছে।

চিহ্নিত ২০টি দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, চীন, ভারত, কানাডা, বেলজিয়াম, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, ইরান, ব্রাজিল, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিজি।

এসব বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা, বিদ্যমান বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা, প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান এবং রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হবে। এ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত রপ্তানি বহুমুখীকরণ কৌশলপত্র তৈরি করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি বাজারের জন্য পৃথক কৌশল প্রণয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান। এতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), ওয়ালটন গ্রুপ, বাংলাদেশ অ্যাগ্রোপ্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতিসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

কর্মশালায় তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি ও কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য সেবা খাতের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, নতুন পণ্য ও বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যমান বাজারে অংশীদারত্ব বাড়ানো গেলে দেশের রপ্তানি কাঠামো আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।

বাণিজ্যসচিব বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানিকে শক্তিশালী ও টেকসই করতে পণ্য এবং বাজার—দুই ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য আনার ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান রপ্তানি বহুমুখীকরণে পণ্যের পাশাপাশি সেবা খাতকেও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি ও সক্ষমতাবর্ধক সেবার উন্নয়নের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদন ও সেবা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পণ্য ও সেবা রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।

সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, কয়েকটি পণ্য ও বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানিকে আরও বহুমুখী করা। তবে চিহ্নিত বাজারগুলোতে বাস্তব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পণ্যের মান, উৎপাদন সক্ষমতা, প্রযুক্তি, বাজারভিত্তিক চাহিদা এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর

Business Times24

রপ্তানি বহুমুখীকরণে ২০ দেশের বাজারে নজর সরকারের

Update Time : ১০:৩০:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তৈরি পোশাকের নির্ভরতা কমিয়ে ওষুধ, কৃষিপণ্য, ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা

তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি আয়ের ভিত্তি বিস্তৃত করতে বিশ্বের ২০টি দেশকে সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার। এসব দেশে নতুন পণ্য রপ্তানি, বিদ্যমান বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব বৃদ্ধি এবং সেবা রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে বহুমুখী রপ্তানি কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ কৌশল: ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য গন্তব্যে পণ্য ও বাজারের বৈচিত্র্য’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে সম্ভাব্য বাজারগুলোর তালিকা জানা গেছে।

চিহ্নিত ২০টি দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, চীন, ভারত, কানাডা, বেলজিয়াম, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, ইরান, ব্রাজিল, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিজি।

এসব বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা, বিদ্যমান বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা, প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান এবং রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হবে। এ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত রপ্তানি বহুমুখীকরণ কৌশলপত্র তৈরি করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি বাজারের জন্য পৃথক কৌশল প্রণয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান। এতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), ওয়ালটন গ্রুপ, বাংলাদেশ অ্যাগ্রোপ্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতিসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

কর্মশালায় তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি ও কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য সেবা খাতের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, নতুন পণ্য ও বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যমান বাজারে অংশীদারত্ব বাড়ানো গেলে দেশের রপ্তানি কাঠামো আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।

বাণিজ্যসচিব বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানিকে শক্তিশালী ও টেকসই করতে পণ্য এবং বাজার—দুই ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য আনার ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান রপ্তানি বহুমুখীকরণে পণ্যের পাশাপাশি সেবা খাতকেও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি ও সক্ষমতাবর্ধক সেবার উন্নয়নের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদন ও সেবা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পণ্য ও সেবা রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।

সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, কয়েকটি পণ্য ও বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানিকে আরও বহুমুখী করা। তবে চিহ্নিত বাজারগুলোতে বাস্তব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পণ্যের মান, উৎপাদন সক্ষমতা, প্রযুক্তি, বাজারভিত্তিক চাহিদা এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ হবে।