০৮:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

ভারতীয় শুল্কের চাপে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানি, সুবিধা পাবে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান

The gallery was not found!

তালিকার বাইরে থাকা উৎপাদনকারীর পাটের সুতায় টনপ্রতি ৪৪৫ ডলার শুল্ক, রপ্তানিতে বাড়তে পারে ব্যয়ের চাপ

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটপণ্যে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্কের হার নতুন করে নির্ধারণ করেছে ভারত। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা শুল্ক আরোপের ফলে দেশটির বাজারে বাংলাদেশের পাটপণ্যের রপ্তানি ব্যয় ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ভারতের নির্ধারিত ৫৫টি উৎপাদনকারীর তালিকার বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তুলনামূলক বেশি শুল্ক দিতে হবে।

ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব বিভাগ ২৪ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটের সুতা, হেসিয়ান কাপড়, পাটের বস্তা ও স্যাকিং কাপড়ের ওপর নতুন শুল্কহার নির্ধারণ করেছে। মধ্যবর্তী পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তালিকার বাইরে থাকলে শুল্ক বেশি

নতুন কাঠামোয় তালিকাভুক্ত উৎপাদনকারীদের পণ্যভেদে শুল্কের হার আলাদা। অন্যদিকে, তালিকার বাইরে থাকা উৎপাদনকারীদের পাটের সুতা বা টুইনে প্রতি টনে ৪৪৫ ডলার, হেসিয়ান কাপড়ে ৮৮ ডলার এবং স্যাকিং ব্যাগে ২৮৩ ডলার অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক দিতে হবে।

তালিকাভুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পণ্যে শুল্ক শূন্য রাখা হয়েছে। যেমন, এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজের পাটের সুতা ও হেসিয়ান কাপড়ে কোনো অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক নেই। নাটোর জুট মিলসের স্যাকিং ব্যাগেও শুল্ক শূন্য।

আবার প্রতিষ্ঠানভেদে শুল্কের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজের পাটের সুতায় টনপ্রতি ৫৯ ডলার ও স্যাকিং ব্যাগে ৯৪ ডলার শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। সুপার জুট মিলসের ক্ষেত্রে এই হার যথাক্রমে ১৩৯ ও ১৫৫ ডলার।

হাসান জুট মিলস, হাসান জুট অ্যান্ড স্পিনিং মিলস, জনতা জুট মিলস, সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, সাগর জুট স্পিনিং মিলস এবং সিডল অ্যান্ড টেক্সটাইলসের পাটের সুতায় টনপ্রতি ৬৯ ডলার এবং স্যাকিং ব্যাগে ১২০ ডলার শুল্ক রয়েছে। তবে কিছু পণ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের শুল্কহার আলাদা।

চালানে উৎপাদনকারীর ঘোষণা জরুরি

নতুন ব্যবস্থায় তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত শুল্কহার পেতে বৈধ বাণিজ্যিক চালান দেখাতে হবে। চালানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানই পণ্যটি উৎপাদন করেছে—এমন ঘোষণা থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় ঘোষণা না থাকলে তালিকার বাইরের উৎপাদনকারীদের জন্য নির্ধারিত উচ্চ শুল্ক প্রযোজ্য হতে পারে।

ফলে শুধু রপ্তানির পরিমাণ বা পণ্যের মান নয়, উৎপাদনকারীর পরিচয় ও রপ্তানিসংক্রান্ত নথিপত্রও ভারতের বাজারে শুল্ক ব্যয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রপ্তানিকারকদের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক প্রথম আলোকে বলেন, এ সিদ্ধান্তের বিশেষ তাৎপর্য নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগে সুবিধা পাওয়া কিছু প্রতিষ্ঠান তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান নতুন করে তালিকায় এসেছে। এ খাতে আগে ভর্তুকি দেওয়া হলেও এখন তা দেওয়া হয় না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তাঁর বক্তব্যে শুল্ক নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠে এসেছে। তবে নতুন শুল্ককাঠামোর ফলে কোন প্রতিষ্ঠান কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা নির্ভর করবে তাদের পণ্যের ধরন, রপ্তানির পরিমাণ ও প্রযোজ্য শুল্কহারের ওপর।

পর্যালোচনার পর নতুন শুল্ক

ভারতের বাণিজ্য প্রতিকারবিষয়ক সংস্থা ডিজিটিআর ২০২৫ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটপণ্যে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্কের মধ্যবর্তী পর্যালোচনা শুরু করে। পর্যালোচনা শেষে ২০২৬ সালের ২৫ জুন সংস্থাটি নতুন শুল্কহারের সুপারিশ করে। এর ভিত্তিতে ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা জুট স্যাকিং ব্যাগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক স্যাকিং কাপড়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করার কথা বলা হয়েছে। তবে ১০টি নির্দিষ্ট বাংলাদেশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত স্যাকিং কাপড়কে এ শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের পাটশিল্পে সম্ভাব্য প্রভাব

ভারত বাংলাদেশের পাটপণ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার। নতুন শুল্ককাঠামোয় তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুযোগ পাবে। বিপরীতে, তালিকার বাইরে থাকা উৎপাদনকারীদের ব্যয় বাড়তে পারে।

শুল্কের বাড়তি ব্যয় ভারতীয় আমদানিকারকের ওপর পড়বে, নাকি বাংলাদেশি রপ্তানিকারককে কম দামে পণ্য বিক্রি করে তা সামলাতে হবে—তা নির্ভর করবে ক্রেতা-বিক্রেতার দর-কষাকষি ও বাজারের প্রতিযোগিতার ওপর। ব্যয় সমন্বয় করা কঠিন হলে কিছু প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আদেশ ও মুনাফা চাপে পড়তে পারে।

অন্যদিকে, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উৎপাদনকারীর পরিচয় ও নথিপত্রের শর্ত পূরণ করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে। তাই নতুন শুল্ককাঠামোর প্রভাব মূল্যায়নে শুধু ঘোষিত শুল্কহার নয়, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক রপ্তানি, পণ্যের ধরন এবং ভারতের বাজারে বিকল্প সরবরাহকারীদের প্রতিযোগিতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর

Business Times24

ভারতীয় শুল্কের চাপে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানি, সুবিধা পাবে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান

Update Time : ১২:৫৬:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তালিকার বাইরে থাকা উৎপাদনকারীর পাটের সুতায় টনপ্রতি ৪৪৫ ডলার শুল্ক, রপ্তানিতে বাড়তে পারে ব্যয়ের চাপ

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটপণ্যে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্কের হার নতুন করে নির্ধারণ করেছে ভারত। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা শুল্ক আরোপের ফলে দেশটির বাজারে বাংলাদেশের পাটপণ্যের রপ্তানি ব্যয় ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ভারতের নির্ধারিত ৫৫টি উৎপাদনকারীর তালিকার বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তুলনামূলক বেশি শুল্ক দিতে হবে।

ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব বিভাগ ২৪ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটের সুতা, হেসিয়ান কাপড়, পাটের বস্তা ও স্যাকিং কাপড়ের ওপর নতুন শুল্কহার নির্ধারণ করেছে। মধ্যবর্তী পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তালিকার বাইরে থাকলে শুল্ক বেশি

নতুন কাঠামোয় তালিকাভুক্ত উৎপাদনকারীদের পণ্যভেদে শুল্কের হার আলাদা। অন্যদিকে, তালিকার বাইরে থাকা উৎপাদনকারীদের পাটের সুতা বা টুইনে প্রতি টনে ৪৪৫ ডলার, হেসিয়ান কাপড়ে ৮৮ ডলার এবং স্যাকিং ব্যাগে ২৮৩ ডলার অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক দিতে হবে।

তালিকাভুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পণ্যে শুল্ক শূন্য রাখা হয়েছে। যেমন, এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজের পাটের সুতা ও হেসিয়ান কাপড়ে কোনো অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক নেই। নাটোর জুট মিলসের স্যাকিং ব্যাগেও শুল্ক শূন্য।

আবার প্রতিষ্ঠানভেদে শুল্কের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজের পাটের সুতায় টনপ্রতি ৫৯ ডলার ও স্যাকিং ব্যাগে ৯৪ ডলার শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। সুপার জুট মিলসের ক্ষেত্রে এই হার যথাক্রমে ১৩৯ ও ১৫৫ ডলার।

হাসান জুট মিলস, হাসান জুট অ্যান্ড স্পিনিং মিলস, জনতা জুট মিলস, সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, সাগর জুট স্পিনিং মিলস এবং সিডল অ্যান্ড টেক্সটাইলসের পাটের সুতায় টনপ্রতি ৬৯ ডলার এবং স্যাকিং ব্যাগে ১২০ ডলার শুল্ক রয়েছে। তবে কিছু পণ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের শুল্কহার আলাদা।

চালানে উৎপাদনকারীর ঘোষণা জরুরি

নতুন ব্যবস্থায় তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত শুল্কহার পেতে বৈধ বাণিজ্যিক চালান দেখাতে হবে। চালানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানই পণ্যটি উৎপাদন করেছে—এমন ঘোষণা থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় ঘোষণা না থাকলে তালিকার বাইরের উৎপাদনকারীদের জন্য নির্ধারিত উচ্চ শুল্ক প্রযোজ্য হতে পারে।

ফলে শুধু রপ্তানির পরিমাণ বা পণ্যের মান নয়, উৎপাদনকারীর পরিচয় ও রপ্তানিসংক্রান্ত নথিপত্রও ভারতের বাজারে শুল্ক ব্যয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রপ্তানিকারকদের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক প্রথম আলোকে বলেন, এ সিদ্ধান্তের বিশেষ তাৎপর্য নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগে সুবিধা পাওয়া কিছু প্রতিষ্ঠান তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান নতুন করে তালিকায় এসেছে। এ খাতে আগে ভর্তুকি দেওয়া হলেও এখন তা দেওয়া হয় না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তাঁর বক্তব্যে শুল্ক নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠে এসেছে। তবে নতুন শুল্ককাঠামোর ফলে কোন প্রতিষ্ঠান কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা নির্ভর করবে তাদের পণ্যের ধরন, রপ্তানির পরিমাণ ও প্রযোজ্য শুল্কহারের ওপর।

পর্যালোচনার পর নতুন শুল্ক

ভারতের বাণিজ্য প্রতিকারবিষয়ক সংস্থা ডিজিটিআর ২০২৫ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটপণ্যে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্কের মধ্যবর্তী পর্যালোচনা শুরু করে। পর্যালোচনা শেষে ২০২৬ সালের ২৫ জুন সংস্থাটি নতুন শুল্কহারের সুপারিশ করে। এর ভিত্তিতে ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা জুট স্যাকিং ব্যাগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক স্যাকিং কাপড়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করার কথা বলা হয়েছে। তবে ১০টি নির্দিষ্ট বাংলাদেশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত স্যাকিং কাপড়কে এ শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের পাটশিল্পে সম্ভাব্য প্রভাব

ভারত বাংলাদেশের পাটপণ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার। নতুন শুল্ককাঠামোয় তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুযোগ পাবে। বিপরীতে, তালিকার বাইরে থাকা উৎপাদনকারীদের ব্যয় বাড়তে পারে।

শুল্কের বাড়তি ব্যয় ভারতীয় আমদানিকারকের ওপর পড়বে, নাকি বাংলাদেশি রপ্তানিকারককে কম দামে পণ্য বিক্রি করে তা সামলাতে হবে—তা নির্ভর করবে ক্রেতা-বিক্রেতার দর-কষাকষি ও বাজারের প্রতিযোগিতার ওপর। ব্যয় সমন্বয় করা কঠিন হলে কিছু প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আদেশ ও মুনাফা চাপে পড়তে পারে।

অন্যদিকে, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উৎপাদনকারীর পরিচয় ও নথিপত্রের শর্ত পূরণ করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে। তাই নতুন শুল্ককাঠামোর প্রভাব মূল্যায়নে শুধু ঘোষিত শুল্কহার নয়, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক রপ্তানি, পণ্যের ধরন এবং ভারতের বাজারে বিকল্প সরবরাহকারীদের প্রতিযোগিতাও বিবেচনায় নিতে হবে।