০৮:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

বিদেশি ঋণ এল ২৯ কোটি ডলার, পরিশোধ ৭০ কোটি

The gallery was not found!

প্রথম দুই মাসে ঋণপ্রাপ্তির চেয়ে ২৩৭ শতাংশ বেশি পরিশোধ, কমেছে অর্থছাড়ও

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের বিদেশি ঋণ পেয়েছে বাংলাদেশ। বিপরীতে, আগে নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এ সময়ে নতুন ঋণপ্রাপ্তির তুলনায় ঋণ পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৩৭ গুণ।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ে বিদেশি ঋণ ছাড় হয়েছিল ৭৫ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তা কমে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ঋণের অর্থছাড় কমেছে প্রায় ৬১ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে পাওয়া ঋণের পুরোটাই প্রকল্প সহায়তা হিসেবে এসেছে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ১২ কোটি ৮৭ লাখ ডলার দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বিশ্বব্যাংক দিয়েছে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ডলার এবং জাপান দিয়েছে প্রায় ৪ কোটি ডলার।

অন্যদিকে, বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ অব্যাহত রয়েছে। জুলাই-আগস্টে পরিশোধ করা ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের মধ্যে ৫১ কোটি ৬০ লাখ ডলার ছিল আসল এবং ১৮ কোটি ২৮ লাখ ডলারের বেশি ছিল সুদ। গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণের সুদ ও আসল বাবদ পরিশোধের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৭ কোটি ডলার।

এদিকে, নতুন বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতিও বাড়েনি। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশ ২৪ কোটি ডলারের ঋণপ্রতিশ্রুতি পেয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়েও প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ডলার।

ঋণপ্রবাহ ও পরিশোধের ব্যবধান

প্রথম দুই মাসের পরিসংখ্যান বলছে, বিদেশি ঋণের অর্থছাড় কমলেও ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে। এর ফলে নতুন ঋণ থেকে পাওয়া অর্থের তুলনায় আগের ঋণের দায় মেটাতে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে।

বিদেশি ঋণের অর্থছাড়, নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি এবং সুদাসল পরিশোধ—এই তিন সূচক দেশের বৈদেশিক অর্থায়নের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে মাত্র দুই মাসের তথ্য দিয়ে পুরো অর্থবছরের প্রবণতা নির্ধারণ করা যায় না। আগামী মাসগুলোতে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড় এবং সরকারের ঋণ পরিশোধের গতিপ্রকৃতি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর

Business Times24

বিদেশি ঋণ এল ২৯ কোটি ডলার, পরিশোধ ৭০ কোটি

Update Time : ১২:৫০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রথম দুই মাসে ঋণপ্রাপ্তির চেয়ে ২৩৭ শতাংশ বেশি পরিশোধ, কমেছে অর্থছাড়ও

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের বিদেশি ঋণ পেয়েছে বাংলাদেশ। বিপরীতে, আগে নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এ সময়ে নতুন ঋণপ্রাপ্তির তুলনায় ঋণ পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৩৭ গুণ।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ে বিদেশি ঋণ ছাড় হয়েছিল ৭৫ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তা কমে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ঋণের অর্থছাড় কমেছে প্রায় ৬১ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে পাওয়া ঋণের পুরোটাই প্রকল্প সহায়তা হিসেবে এসেছে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ১২ কোটি ৮৭ লাখ ডলার দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বিশ্বব্যাংক দিয়েছে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ডলার এবং জাপান দিয়েছে প্রায় ৪ কোটি ডলার।

অন্যদিকে, বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ অব্যাহত রয়েছে। জুলাই-আগস্টে পরিশোধ করা ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের মধ্যে ৫১ কোটি ৬০ লাখ ডলার ছিল আসল এবং ১৮ কোটি ২৮ লাখ ডলারের বেশি ছিল সুদ। গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণের সুদ ও আসল বাবদ পরিশোধের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৭ কোটি ডলার।

এদিকে, নতুন বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতিও বাড়েনি। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশ ২৪ কোটি ডলারের ঋণপ্রতিশ্রুতি পেয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়েও প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ডলার।

ঋণপ্রবাহ ও পরিশোধের ব্যবধান

প্রথম দুই মাসের পরিসংখ্যান বলছে, বিদেশি ঋণের অর্থছাড় কমলেও ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে। এর ফলে নতুন ঋণ থেকে পাওয়া অর্থের তুলনায় আগের ঋণের দায় মেটাতে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে।

বিদেশি ঋণের অর্থছাড়, নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি এবং সুদাসল পরিশোধ—এই তিন সূচক দেশের বৈদেশিক অর্থায়নের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে মাত্র দুই মাসের তথ্য দিয়ে পুরো অর্থবছরের প্রবণতা নির্ধারণ করা যায় না। আগামী মাসগুলোতে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড় এবং সরকারের ঋণ পরিশোধের গতিপ্রকৃতি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।