ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানে জমা রাখা সঞ্চয়ের সুদের ওপর কর কাটতে চায় এনবিআর
অল্প অল্প করে সঞ্চয় করেন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা। কেউ প্রতিদিন ১০ টাকা, কেউবা ২০ টাকা জমিয়ে ভবিষ্যতের জন্য কিছু অর্থ গড়ে তোলেন। এবার এসব সঞ্চয়ের বিপরীতে পাওয়া সুদের ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ জন্য ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটির বিভিন্ন উপ-কর কমিশনারের কার্যালয়।
২০২৩ সালের আয়কর আইনের ১০২(১) ধারা অনুসারে, সুদ বা মুনাফা দেওয়ার সময় উৎসে কর কাটার বিধান রয়েছে। এনবিআরের কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের সঞ্চয়ের বিপরীতে দেওয়া সুদের ক্ষেত্রেও এ বিধান প্রযোজ্য। ফলে কোনো সদস্য ১০০ টাকা সুদ পেলে সেখান থেকে ১০ টাকা কেটে রেখে বাকি ৯০ টাকা দেওয়ার কথা।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সদস্যদের সঞ্চয়ের বিপরীতে দেওয়া সুদের উৎসে কর একসঙ্গে আদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বকেয়া করের সঙ্গে ২ শতাংশ জরিমানাসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ জমা দিতে বলা হয়েছে।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) ৩০ জুন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬৩৩। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট সদস্য ৪ কোটি ৭৩ লাখ। তাঁদের সঞ্চয়ের স্থিতি ৯৫ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। ঋণগ্রহীতা সদস্যের সংখ্যা ৩ কোটি ৬১ লাখ।
ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের সঞ্চয়ের সুদ করমুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছে ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ)। ২২ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এনবিআর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে আবেদন করেছে ১২৯টি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের এই নেটওয়ার্কিং সংস্থা।
সিডিএফের চেয়ারম্যান ও পিপলস ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশনের (পপি) নির্বাহী সচিব মুর্শেদ আলম সরকারের মতে, ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের সুদের ওপর কর আরোপের উদ্যোগ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, এতে দরিদ্র মানুষের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার আগ্রহ কমে যেতে পারে এবং সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের সুদের ওপর উৎসে কর আদায়ের এই উদ্যোগের ফলে একদিকে আয়কর আইনের প্রয়োগ, অন্যদিকে স্বল্প আয়ের মানুষের সঞ্চয়কে উৎসাহিত করার নীতির মধ্যে সমন্বয়ের প্রশ্ন সামনে এসেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং ক্ষুদ্রঋণ খাতের প্রতিনিধিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 





















