বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৬৪ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩ দশমিক ১১ ডলারে।
মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনের প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাজারকে প্রভাবিত করছে।
গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরান কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শান্তি প্রস্তাব পাঠায়। শনিবার ট্রাম্প প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যানের কথা জানান। তবে রোববার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদলের আলোচনার আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনের জোট জানায়, সৌদি আরবের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ অঞ্চলে সংঘাতের বিস্তার জ্বালানি সরবরাহের ওপর ঝুঁকি তৈরি করছে।
তবে দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামের গতিপথে পার্থক্য রয়েছে। গত সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়লেও ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর ডিজেল রপ্তানিতে সম্ভাব্য বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রপ্তানি সীমিত করা হলে দেশটির পরিশোধনাগারগুলোর উৎপাদন কমে যেতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এএনজেডের বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, পরিশোধিত জ্বালানির বাজারে এখনো চাপ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। দেশটি রপ্তানি সীমিত করলে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ কমে যেতে পারে, যার প্রভাব ইউরোপের বাজারেও পড়তে শুরু করেছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের রপ্তানি বেড়েছে। জ্বালানিপণ্যবিষয়ক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে অঞ্চলটির প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোর তেল রপ্তানি দৈনিক ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর এটি সর্বোচ্চ।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনও বেড়েছে। কেপলারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসে এ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন দৈনিক প্রায় ৭৪ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে।
সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হুতিদের হামলার পর দেশটি তেল রপ্তানির একটি অংশ লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা বন্দরে সরিয়ে নেয়। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি তেল পরিবহনের পরিমাণ বেড়েছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ঝুঁকি, জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য রপ্তানি নীতির অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে তেলের দামের গতিপথকে প্রভাবিত করছে। সরবরাহ বাড়লেও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাজারে অস্থিরতা বজায় রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 





















