০৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ বৃদ্ধি ঠেকাতে কঠোর সরকার: প্রধানমন্ত্রী

The gallery was not found!

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ না হলে বিলম্ব ও ব্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে সরকারের নির্দেশনা ও মনিটরিং পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ থাকে। প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয়প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা মিলেই সমস্যা তৈরি করে।

তারেক রহমান বলেন, সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্বল ফিজিবিলিটি স্টাডি, ব্যয়ের সঠিক প্রাক্কলন না করা, প্রকল্প এলাকা নির্বাচনে দুর্বলতা, ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব, ক্রয়প্রক্রিয়ায় ধীরগতি, সময়মতো প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না দেওয়া এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ঘাটতি।

এসব সমস্যা ঠেকাতে নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে। অনুমোদনের পর দ্রুত বাস্তবায়ন প্রস্তুতি শেষ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনের নির্দেশিকাও সময়োপযোগী করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি নজরদারিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে। নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানো হবে। ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ও জোরদার করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, কোনো প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ না হলে বিলম্ব ও ব্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করা হবে। দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম এমন প্রকল্পের উপযোগিতা ও কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে প্রকল্প পুনর্বিন্যাস, পরিধি পরিবর্তন বা প্রকল্প চালু রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খাত হতে পারে ব্লু ইকোনমি: শিক্ষামন্ত্রী

Business Times24

উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ বৃদ্ধি ঠেকাতে কঠোর সরকার: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০৭:২১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ না হলে বিলম্ব ও ব্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে সরকারের নির্দেশনা ও মনিটরিং পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ থাকে। প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয়প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা মিলেই সমস্যা তৈরি করে।

তারেক রহমান বলেন, সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্বল ফিজিবিলিটি স্টাডি, ব্যয়ের সঠিক প্রাক্কলন না করা, প্রকল্প এলাকা নির্বাচনে দুর্বলতা, ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব, ক্রয়প্রক্রিয়ায় ধীরগতি, সময়মতো প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না দেওয়া এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ঘাটতি।

এসব সমস্যা ঠেকাতে নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে। অনুমোদনের পর দ্রুত বাস্তবায়ন প্রস্তুতি শেষ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনের নির্দেশিকাও সময়োপযোগী করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি নজরদারিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে। নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানো হবে। ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ও জোরদার করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, কোনো প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ না হলে বিলম্ব ও ব্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করা হবে। দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম এমন প্রকল্পের উপযোগিতা ও কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে প্রকল্প পুনর্বিন্যাস, পরিধি পরিবর্তন বা প্রকল্প চালু রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।