০৭:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে না যেতে প্রতিবেশীদের সতর্ক করল ইরান

The gallery was not found!

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ কোনো প্রতিবেশী দেশ যোগ দিলে তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করবে তেহরান। এমনকি প্রয়োজনে এসব দেশের ভেতরে হামলা চালানোর হুমকিও দিয়েছে ইরান।

স্থানীয় সময় শনিবার (২৩ আগস্ট) দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাই।

তিনি বলেছেন, ‘সব প্রতিবেশী দেশকে আমরা বলছি, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ দেবেন না। অন্যথায় আমরা আপনাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করব।’

ইরানের এই হুমকি এসেছে ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক চাপ দেওয়ার কৌশল ঘোষণার পর।

এর আগে, বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ চালানোর ঘোষণা দেন।

ট্রাম্প আরও বলেছেন, ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশকে ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।

এর পরদিন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘হয় আপনারা আমাদের সঙ্গে, নয়তো আমাদের বিরুদ্ধে।’

ইরানের রেজাই বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্ষেত্রে তেহরানের কৌশল তিন ধাপে এগোবে। প্রথমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেছেন, ‘প্রথমে আমরা আলোচনা করব। এরপর বন্ধুত্বপূর্ণ ভাষায় তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করব। কারণ আমরা আসলে যুদ্ধ বাড়াতে চাই না।’

রেজাই আরও বলেছেন, যেসব দেশ এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে, তাদের অবস্থান বদলের জন্য সময় দেওয়া হবে। এরপরও তারা অবস্থান না বদলালে ইরান ব্যবস্থা নেবে।

তার ভাষায়, ‘তৃতীয় ধাপে আমরা অবশ্যই পদক্ষেপ নেব।’

রেজাইয়ের দাবি, অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে ইরানের জনগণের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে বিক্ষোভ উসকে দিয়ে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে থমকে আছে। গত ১৭ জুন একটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে সামরিক অভিযান দ্রুত ও স্থায়ীভাবে বন্ধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সেটি কার্যকর হয়নি।

এই সংঘাতের অন্যতম বড় বিরোধের জায়গা হরমুজ প্রণালি। ইরানের উপকূলের পাশ দিয়ে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেলসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করা হয়।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরান দ্রুত প্রণালিটি দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে তেল ও সারের মতো পণ্যের দাম বেড়ে যায়। হরমুজের ওপর নির্ভরশীল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও বিকল্প বাণিজ্যপথ খুঁজতে শুরু করে।

তবে রেজাই সতর্ক করে বলেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ দিলে উপসাগর থেকে তেল পরিবহনের বিকল্প পথগুলোতেও হামলা চালাতে পারে ইরান।

শনিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তেহরানের দাবি, এসব পদক্ষেপ জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘অঞ্চল বহির্ভূত সার্বভৌমত্ব’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও হামলার পরিধি বাড়ানোর কথা ভাবছে ইরান বলে খবর পাওয়া গেছে। ট্রাম্পের সামরিক অভিযানে সমর্থন দেওয়া ইউরোপের কিছু মার্কিন মিত্রও ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

সূত্র : আলজাজিরা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

দেশীয় ফ্যাশনে আস্থার প্রতীক ফিট এলিগ্যান্স, নেতৃত্বে সাফল্যের নতুন দিগন্ত

Business Times24

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে না যেতে প্রতিবেশীদের সতর্ক করল ইরান

Update Time : ১১:০১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ কোনো প্রতিবেশী দেশ যোগ দিলে তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করবে তেহরান। এমনকি প্রয়োজনে এসব দেশের ভেতরে হামলা চালানোর হুমকিও দিয়েছে ইরান।

স্থানীয় সময় শনিবার (২৩ আগস্ট) দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাই।

তিনি বলেছেন, ‘সব প্রতিবেশী দেশকে আমরা বলছি, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ দেবেন না। অন্যথায় আমরা আপনাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করব।’

ইরানের এই হুমকি এসেছে ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক চাপ দেওয়ার কৌশল ঘোষণার পর।

এর আগে, বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ চালানোর ঘোষণা দেন।

ট্রাম্প আরও বলেছেন, ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশকে ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।

এর পরদিন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘হয় আপনারা আমাদের সঙ্গে, নয়তো আমাদের বিরুদ্ধে।’

ইরানের রেজাই বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্ষেত্রে তেহরানের কৌশল তিন ধাপে এগোবে। প্রথমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেছেন, ‘প্রথমে আমরা আলোচনা করব। এরপর বন্ধুত্বপূর্ণ ভাষায় তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করব। কারণ আমরা আসলে যুদ্ধ বাড়াতে চাই না।’

রেজাই আরও বলেছেন, যেসব দেশ এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে, তাদের অবস্থান বদলের জন্য সময় দেওয়া হবে। এরপরও তারা অবস্থান না বদলালে ইরান ব্যবস্থা নেবে।

তার ভাষায়, ‘তৃতীয় ধাপে আমরা অবশ্যই পদক্ষেপ নেব।’

রেজাইয়ের দাবি, অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে ইরানের জনগণের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে বিক্ষোভ উসকে দিয়ে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে থমকে আছে। গত ১৭ জুন একটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে সামরিক অভিযান দ্রুত ও স্থায়ীভাবে বন্ধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সেটি কার্যকর হয়নি।

এই সংঘাতের অন্যতম বড় বিরোধের জায়গা হরমুজ প্রণালি। ইরানের উপকূলের পাশ দিয়ে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেলসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করা হয়।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরান দ্রুত প্রণালিটি দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে তেল ও সারের মতো পণ্যের দাম বেড়ে যায়। হরমুজের ওপর নির্ভরশীল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও বিকল্প বাণিজ্যপথ খুঁজতে শুরু করে।

তবে রেজাই সতর্ক করে বলেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ দিলে উপসাগর থেকে তেল পরিবহনের বিকল্প পথগুলোতেও হামলা চালাতে পারে ইরান।

শনিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তেহরানের দাবি, এসব পদক্ষেপ জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘অঞ্চল বহির্ভূত সার্বভৌমত্ব’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও হামলার পরিধি বাড়ানোর কথা ভাবছে ইরান বলে খবর পাওয়া গেছে। ট্রাম্পের সামরিক অভিযানে সমর্থন দেওয়া ইউরোপের কিছু মার্কিন মিত্রও ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

সূত্র : আলজাজিরা