০৭:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করলো ইরান

The gallery was not found!

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ হুমকি দেন।

তিনি বলেন, আমরা আশপাশের সব দেশকে বলছি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ না দিতে। অন্যথায় আমরা তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করব।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক হুমকি দিন দিন বাড়ার পরই তিনি এমন বক্তব্য দিলেন।

উভয় দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের অংশ হিসেবে ট্রাম্প গত বুধবার ঘোষণা দেন, তার সরকার ইরানের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান’ পরিচালনা করবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের বিরুদ্ধে প্রথম দফার হামলা শুরু করার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে একটি সংঘাতে জড়িয়ে রয়েছে।

চলতি সপ্তাহে ইরানের অর্থনীতির বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প এমন যেকোনো দেশকে ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির’ মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যারা ইরানকে ‘যেকোনো ধরনের সহায়তা’ দেবে।

পরের দিন তার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও একই রকম হুমকি দিয়ে বলেন, হয় আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন, না হয় আমাদের বিরুদ্ধে।

শনিবারের সাক্ষাৎকারে রেজাই ইরানের আঞ্চলিক কৌশলকে একটি তিন ধাপের প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেন, যার শুরু হবে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে উত্তেজনা হ্রাসের প্রচেষ্টার মাধ্যমে।

তিনি বলেন, প্রথমে আমরা আলোচনা করি। এরপর আমরা চমৎকার ভাষায় তাদের আমেরিকা থেকে আলাদা করার চেষ্টা করি, কারণ আমরা আসলে যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে চাইছি না।

যে দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নেওয়া অব্যাহত রাখবে, তাদের পরবর্তীতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য সময় দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। তবে তিনি বলেন, কিন্তু তৃতীয় ধাপে আমরা অবশ্যই পদক্ষেপ নেব।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ না করলেও রেজাই ইঙ্গিত দেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক চাপ ইরানি সমাজে ফাটল ধরাবে ও যুদ্ধ শেষ করতে বাধ্য করবে।

একটি সামরিক বিমানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা আশা করে যে, সম্ভব হলে তারা অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে আমাদের ঐক্য ভেঙে দিতে পারবে এবং একদল বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসবে, আর এক অর্থে তারা আমেরিকার এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের সাহায্যে এগিয়ে আসবে।

গত ১৭ জুনের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ব্যর্থ হওয়ার পর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই সংঘাতের সমাপ্তি টানার আলোচনা থমকে গেছে। ওই সমঝোতা স্মারকে ‘সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার’ আহ্বান জানানো হয়েছিল।

হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের একটি বড় বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

যুদ্ধের শুরুর দিকেই ইরান এই প্রণালী দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়, যার ফলে তেল ও সারের মতো জিনিসপত্রের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে।

মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশ রপ্তানির জন্য আগে এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল ছিল, তারা এখন বিকল্প বাণিজ্য রুট খুঁজতে শুরু করেছে।

তবে রেজাই সতর্ক করে বলেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধের পরিকল্পনায় অংশ নেয়, তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের সেই বিকল্প তেল-পরিবহন রুটগুলোতেও আক্রমণ চালাবে ইরান।

শনিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পদক্ষেপগুলোকে অঞ্চলটির সীমানার বাইরে সার্বভৌমত্ব ফলানোর’ চেষ্টা বলে নিন্দা জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে তার লক্ষ্যবস্তুর পরিধি বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা ট্রাম্পের পদক্ষেপে সমর্থন জানানো ইউরোপের মার্কিন মিত্রদের ওপরও আঘাত হানতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

দেশীয় ফ্যাশনে আস্থার প্রতীক ফিট এলিগ্যান্স, নেতৃত্বে সাফল্যের নতুন দিগন্ত

Business Times24

মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করলো ইরান

Update Time : ১০:১৩:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ হুমকি দেন।

তিনি বলেন, আমরা আশপাশের সব দেশকে বলছি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ না দিতে। অন্যথায় আমরা তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করব।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক হুমকি দিন দিন বাড়ার পরই তিনি এমন বক্তব্য দিলেন।

উভয় দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের অংশ হিসেবে ট্রাম্প গত বুধবার ঘোষণা দেন, তার সরকার ইরানের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান’ পরিচালনা করবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের বিরুদ্ধে প্রথম দফার হামলা শুরু করার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে একটি সংঘাতে জড়িয়ে রয়েছে।

চলতি সপ্তাহে ইরানের অর্থনীতির বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প এমন যেকোনো দেশকে ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির’ মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যারা ইরানকে ‘যেকোনো ধরনের সহায়তা’ দেবে।

পরের দিন তার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও একই রকম হুমকি দিয়ে বলেন, হয় আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন, না হয় আমাদের বিরুদ্ধে।

শনিবারের সাক্ষাৎকারে রেজাই ইরানের আঞ্চলিক কৌশলকে একটি তিন ধাপের প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেন, যার শুরু হবে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে উত্তেজনা হ্রাসের প্রচেষ্টার মাধ্যমে।

তিনি বলেন, প্রথমে আমরা আলোচনা করি। এরপর আমরা চমৎকার ভাষায় তাদের আমেরিকা থেকে আলাদা করার চেষ্টা করি, কারণ আমরা আসলে যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে চাইছি না।

যে দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নেওয়া অব্যাহত রাখবে, তাদের পরবর্তীতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য সময় দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। তবে তিনি বলেন, কিন্তু তৃতীয় ধাপে আমরা অবশ্যই পদক্ষেপ নেব।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ না করলেও রেজাই ইঙ্গিত দেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক চাপ ইরানি সমাজে ফাটল ধরাবে ও যুদ্ধ শেষ করতে বাধ্য করবে।

একটি সামরিক বিমানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা আশা করে যে, সম্ভব হলে তারা অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে আমাদের ঐক্য ভেঙে দিতে পারবে এবং একদল বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসবে, আর এক অর্থে তারা আমেরিকার এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের সাহায্যে এগিয়ে আসবে।

গত ১৭ জুনের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ব্যর্থ হওয়ার পর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই সংঘাতের সমাপ্তি টানার আলোচনা থমকে গেছে। ওই সমঝোতা স্মারকে ‘সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার’ আহ্বান জানানো হয়েছিল।

হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের একটি বড় বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

যুদ্ধের শুরুর দিকেই ইরান এই প্রণালী দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়, যার ফলে তেল ও সারের মতো জিনিসপত্রের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে।

মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশ রপ্তানির জন্য আগে এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল ছিল, তারা এখন বিকল্প বাণিজ্য রুট খুঁজতে শুরু করেছে।

তবে রেজাই সতর্ক করে বলেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধের পরিকল্পনায় অংশ নেয়, তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের সেই বিকল্প তেল-পরিবহন রুটগুলোতেও আক্রমণ চালাবে ইরান।

শনিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পদক্ষেপগুলোকে অঞ্চলটির সীমানার বাইরে সার্বভৌমত্ব ফলানোর’ চেষ্টা বলে নিন্দা জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে তার লক্ষ্যবস্তুর পরিধি বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা ট্রাম্পের পদক্ষেপে সমর্থন জানানো ইউরোপের মার্কিন মিত্রদের ওপরও আঘাত হানতে পারে।