রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলন হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এনবিআরের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার যে ঐতিহাসিক রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি গত বছরের আদায়ের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেশি। এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার যে চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে, সেটা অতিক্রম করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ সরকার। ক্যাশলেস ও কন্টাক্ট-ফ্রি রাজস্ব ব্যবস্থাই হবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম ভিত্তি।
রাজস্ব প্রশাসন ঢেলে সাজানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এনবিআর ভেঙে পৃথক বিভাগ হচ্ছে। এর মধ্যে ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ থিংক ট্যাংক হিসেবে কাজ করবে এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থা বিভাগ’ আদায়ের মূল দায়িত্ব পালন করবে। এটি কেবল প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস নয়, এটি আমাদের দর্শনের একটি মৌলিক পরিবর্তন।
নীতি প্রণয়নে ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন নীতি কখনো কার্যকর হতে পারে না। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের যারা এই কর ব্যবস্থার মুখোমুখি হন তাদের অভিজ্ঞতা ও চাহিদা না জেনে প্রতিযোগিতামূলক ও উন্নয়নবান্ধব কর কাঠামো ডিজাইন করা যর্থাথ নয়।
রাজস্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অতিথিরা। ছবি: পিএমও
ব্যবসায়ীদের ‘দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি’ অভিহিত করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাদের সময়মতো কর ও ভ্যাট পরিশোধের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকার সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে। রাজস্বের লক্ষ্য অর্জন কর কর্মকর্তাদের একার দায়িত্ব নয়। ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব আছে এখানে। আমরা জানি, কখনো কখনো প্রশাসনিক জটিলতা ও কর্মকর্তাদের আচরণে আপনারা বিব্রতবোধ করেন। সেই সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে আমরা কাজ করছি।
তিনি সতর্ক করেন, কর ফাঁকিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে, যাতে সৎ করদাতারা ক্ষতিগ্রস্ত না হন। সম্পূর্ণ অটোমেশন ও ক্যাশলেস ব্যবস্থার মাধ্যমে করদাতাদের হয়রানি বন্ধ এবং নিরপেক্ষ সেবা দেওয়া রাজস্ব বোর্ডের দায়িত্ব বলেও স্মরণ করিয়ে দেন।
এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা ও পেশাদারত্বের ওপর রাজস্ব খাতের নতুন সংস্কারের সাফল্য নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধ নিষ্পত্তিতে ‘অল্টারনেটিভ ডিসপিউট রেজুলেশন’ (এডিআর) জোরদার এবং নির্দিষ্ট সময়ে সেবা নিশ্চিত করতে একটি স্পষ্ট ‘ট্যাক্স পেয়ার সার্ভিস চার্টার’ চালুর তাগিদ দেন তিনি।
রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















