১১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্যাস পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি: উৎপাদনে ফিরছে কারখানা, বাধা লোডশেডিং

The gallery was not found!

গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটে থমকে যাওয়া দেশের শিল্প খাত ধীরে ধীরে সচল হতে শুরু করেছে। সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনাল পুরোদমে চালু হওয়ায় গ্যাস সরবরাহে কিছুটা উন্নতি ঘটেছে।

ফলে গত কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী ও হবিগঞ্জের নিত্যপণ্যসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গতকাল রোববার থেকে উৎপাদনে ফিরেছে। তবে গ্যাসের কাঙ্ক্ষিত চাপ না থাকা এবং ঢাকার বাইরে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না।

কারখানার পরিস্থিতি ও উৎপাদন সক্ষমতা

গ্যাসের অভাব তীব্র হওয়ায় গত সপ্তাহে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই), টি কে গ্রুপ ও প্রাণ-আরএফএলসহ শীর্ষ নিবন্ধিত শিল্পগোষ্ঠীগুলোর অধিকাংশ ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। গ্যাসের সরবরাহ বাড়ায় গতকাল সকাল থেকে মেঘনা ও টি কে গ্রুপের বন্ধ হওয়া কারখানাগুলো চালু করা হয়েছে।

টি কে গ্রুপের পরিচালকদের সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার আশপাশের কারখানাগুলো চালু হলেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় কিছু ইউনিট ৬৫ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ হবিগঞ্জে স্বাভাবিক সরবরাহ পেলেও নরসিংদী ও গাজীপুরে যথাক্রমে ৪০ ও ৬০ শতাংশ গ্যাস পাচ্ছে। ঘাটতি মেটাতে বিকল্প পল্লি বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করছে তারা। তবে ঢাকার বাইরের অঞ্চলগুলোতে দিনে ১০ থেকে ১২ বার লোডশেডিং হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

সরবরাহচিত্র ও টার্মিনাল হালনাগাদ

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশে দিনে ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে শুক্রবার মোট সরবরাহ ১৭৩ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে, যা পরিস্থিতিকে মারাত্মক রূপ দিয়েছিল। তবে সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনাল পুরোদমে ও এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল আংশিক চালু হওয়ায় শনিবার তা ২৪৪ কোটি এবং গতকাল ২২৯ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হয়।

সংস্থাটির মতে, ৩০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেলে সব খাতে স্বাভাবিক সরবরাহ ধরে রাখা সম্ভব হয়। এক্সিলারেট এনার্জির বন্ধ থাকা টার্মিনালটি পুরোদমে চালু হলে বর্তমান ঘাটতি অনেকটাই মিটে যাবে।

জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি

এদিকে দেশের চলমান এই জ্বালানি সমস্যা দ্রুত সমাধান সম্ভব নয় বলে সতর্ক করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে অন্তত দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগে, ফলে সার্বিক সংকটের স্থায়ী সমাধানে ন্যূনতম দুই বছর লাগবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে দীর্ঘ সময় গ্যাস অনুসন্ধান না করায় এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে গ্যাস অনুসন্ধান, সৌরবিদ্যুৎ ও কয়লা ব্যবহারের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশের নতুন জ্বালানিনীতি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

জাতিসংঘে বিশ্বনেতাদের মিলনমেলা, আলোচনায় যুদ্ধ-জলবায়ু ও নিরাপত্তা

Business Times24

গ্যাস পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি: উৎপাদনে ফিরছে কারখানা, বাধা লোডশেডিং

Update Time : ১০:৫৪:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটে থমকে যাওয়া দেশের শিল্প খাত ধীরে ধীরে সচল হতে শুরু করেছে। সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনাল পুরোদমে চালু হওয়ায় গ্যাস সরবরাহে কিছুটা উন্নতি ঘটেছে।

ফলে গত কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী ও হবিগঞ্জের নিত্যপণ্যসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গতকাল রোববার থেকে উৎপাদনে ফিরেছে। তবে গ্যাসের কাঙ্ক্ষিত চাপ না থাকা এবং ঢাকার বাইরে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না।

কারখানার পরিস্থিতি ও উৎপাদন সক্ষমতা

গ্যাসের অভাব তীব্র হওয়ায় গত সপ্তাহে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই), টি কে গ্রুপ ও প্রাণ-আরএফএলসহ শীর্ষ নিবন্ধিত শিল্পগোষ্ঠীগুলোর অধিকাংশ ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। গ্যাসের সরবরাহ বাড়ায় গতকাল সকাল থেকে মেঘনা ও টি কে গ্রুপের বন্ধ হওয়া কারখানাগুলো চালু করা হয়েছে।

টি কে গ্রুপের পরিচালকদের সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার আশপাশের কারখানাগুলো চালু হলেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় কিছু ইউনিট ৬৫ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ হবিগঞ্জে স্বাভাবিক সরবরাহ পেলেও নরসিংদী ও গাজীপুরে যথাক্রমে ৪০ ও ৬০ শতাংশ গ্যাস পাচ্ছে। ঘাটতি মেটাতে বিকল্প পল্লি বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করছে তারা। তবে ঢাকার বাইরের অঞ্চলগুলোতে দিনে ১০ থেকে ১২ বার লোডশেডিং হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

সরবরাহচিত্র ও টার্মিনাল হালনাগাদ

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশে দিনে ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে শুক্রবার মোট সরবরাহ ১৭৩ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে, যা পরিস্থিতিকে মারাত্মক রূপ দিয়েছিল। তবে সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনাল পুরোদমে ও এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল আংশিক চালু হওয়ায় শনিবার তা ২৪৪ কোটি এবং গতকাল ২২৯ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হয়।

সংস্থাটির মতে, ৩০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেলে সব খাতে স্বাভাবিক সরবরাহ ধরে রাখা সম্ভব হয়। এক্সিলারেট এনার্জির বন্ধ থাকা টার্মিনালটি পুরোদমে চালু হলে বর্তমান ঘাটতি অনেকটাই মিটে যাবে।

জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি

এদিকে দেশের চলমান এই জ্বালানি সমস্যা দ্রুত সমাধান সম্ভব নয় বলে সতর্ক করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে অন্তত দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগে, ফলে সার্বিক সংকটের স্থায়ী সমাধানে ন্যূনতম দুই বছর লাগবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে দীর্ঘ সময় গ্যাস অনুসন্ধান না করায় এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে গ্যাস অনুসন্ধান, সৌরবিদ্যুৎ ও কয়লা ব্যবহারের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশের নতুন জ্বালানিনীতি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।