১১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ মাসের মাথায় কঠোর পদক্ষেপে নতুন আশার আলো

এশিয়ার বৃহত্তম সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে খেলাপি উদ্ধারে এমডি’র ‘যুদ্ধ ঘোষণা’

The gallery was not found!

এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক নিয়ে যাত্রা শুরু করা নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি খেলাপি বিনিয়োগ উদ্ধারে এক ঐতিহাসিক ও আগ্রাসী পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্যাংকটির নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে আবেদুর রহমান সিকদারের যোগদানের ১ মাস পূর্তি এবং প্রথম কার্যদিবস উপলক্ষে গতকাল ১৬ আগস্ট ২০২৬, রোববার এক যুগান্তকারী ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ করা হয়েছে। বিশাল অংকের খেলাপি বিনিয়োগ নিয়মিতকরণের এই মহা-অভিযান ব্যাংকিং খাতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা যায়, গত ১৬ জুলাই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান অভিজ্ঞ ব্যাংকার আবেদুর রহমান সিকদার। একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ নিয়ে বিশাল পরিসরে কার্যক্রম শুরু করছে এই ব্যাংক। তবে এই বৃহৎ নেটওয়ার্কের সাথে ব্যাংকটির কাঁধে চেপেছে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের বোঝা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ। বর্তমান বাস্তবতায় এই অংক প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার কোটিতে পৌঁছেছে।

গতকালকের এই বিশেষ দিনে খেলাপি উদ্ধারের এই যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে একটি আধুনিক ওয়ার রুম-এর শুভউদ্বোধন করা হয়। ব্যাংকটির কালেকশন, রিকভারি ও লিগ্যাল টিমের সমন্বয়ে আয়োজিত এই প্রথম সভায় এমডি মহোদয়ের নির্দেশনায় প্রাথমিক স্ট্র্যাটেজিক টিমের রূপরেখা প্রদান করা হয়।

সভায় এমডি মহোদয় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ব্যাংকের মূল কাজ ব্যবসা পরিচালনা করা হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশাল অংকের খেলাপি বিনিয়োগ কমানোই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। খেলাপি দ্রুত হ্রাস পেলে একদিকে যেমন তীব্র লিকুইডিটি বা তারল্য সংকট থেকে উত্তোরণ ঘটবে, অন্যদিকে ডিপোজিট গ্রাহকদের জরুরি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের সোনালী দরজা উন্মোচিত হবে।

এমডি মহোদয়ের প্রধান কঠোর নির্দেশনাসমূহ:

  • প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শূন্যতা (Administrative Gap) রাখা যাবে না।
  • রিকভারির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা বা অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না।
  • ওয়ান টিম, ওয়ান ফিউচার নীতিতে একটি একক করপোরেট সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
  • প্রতি মাসে নিয়মিত বিজনেস রিভিউ মিটিং অনুষ্ঠিত হবে।
  • প্রতিদিন সকাল ১০টার মধ্যে রিকভারি রিপোর্ট সুনির্দিষ্টভাবে এমডি মহোদয়ের টেবিলে জমা দিতে হবে।
  • মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করতে প্রতি মাসে টপ ফাইভ হিরো (শীর্ষ পাঁচ রিকভারি হিরো) নির্বাচিত করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এমডি আবেদুর রহমান সিকদার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক এক মাসের মাথাতেই বিন্দুমাত্র সময় অপচয় না করে যেভাবে আগ্রাসী রিকভারির ঘোষণা দিয়েছেন, তা সাধারণ ডিপোজিট গ্রাহকদের মনে এক বিশাল আশার সঞ্চার করেছে। ব্যাংকের নীতিনির্ধারকরা বিশ্বাস করেন, এই রিকভারি ড্রাইভ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এবং খেলাপি কমতে থাকলে এশিয়ার বৃহত্তম এই ব্যাংক খুব দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াবে এবং দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

জাতিসংঘে বিশ্বনেতাদের মিলনমেলা, আলোচনায় যুদ্ধ-জলবায়ু ও নিরাপত্তা

Business Times24

১ মাসের মাথায় কঠোর পদক্ষেপে নতুন আশার আলো

এশিয়ার বৃহত্তম সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে খেলাপি উদ্ধারে এমডি’র ‘যুদ্ধ ঘোষণা’

Update Time : ১০:৫৬:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক নিয়ে যাত্রা শুরু করা নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি খেলাপি বিনিয়োগ উদ্ধারে এক ঐতিহাসিক ও আগ্রাসী পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্যাংকটির নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে আবেদুর রহমান সিকদারের যোগদানের ১ মাস পূর্তি এবং প্রথম কার্যদিবস উপলক্ষে গতকাল ১৬ আগস্ট ২০২৬, রোববার এক যুগান্তকারী ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ করা হয়েছে। বিশাল অংকের খেলাপি বিনিয়োগ নিয়মিতকরণের এই মহা-অভিযান ব্যাংকিং খাতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা যায়, গত ১৬ জুলাই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান অভিজ্ঞ ব্যাংকার আবেদুর রহমান সিকদার। একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ নিয়ে বিশাল পরিসরে কার্যক্রম শুরু করছে এই ব্যাংক। তবে এই বৃহৎ নেটওয়ার্কের সাথে ব্যাংকটির কাঁধে চেপেছে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের বোঝা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ। বর্তমান বাস্তবতায় এই অংক প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার কোটিতে পৌঁছেছে।

গতকালকের এই বিশেষ দিনে খেলাপি উদ্ধারের এই যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে একটি আধুনিক ওয়ার রুম-এর শুভউদ্বোধন করা হয়। ব্যাংকটির কালেকশন, রিকভারি ও লিগ্যাল টিমের সমন্বয়ে আয়োজিত এই প্রথম সভায় এমডি মহোদয়ের নির্দেশনায় প্রাথমিক স্ট্র্যাটেজিক টিমের রূপরেখা প্রদান করা হয়।

সভায় এমডি মহোদয় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ব্যাংকের মূল কাজ ব্যবসা পরিচালনা করা হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশাল অংকের খেলাপি বিনিয়োগ কমানোই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। খেলাপি দ্রুত হ্রাস পেলে একদিকে যেমন তীব্র লিকুইডিটি বা তারল্য সংকট থেকে উত্তোরণ ঘটবে, অন্যদিকে ডিপোজিট গ্রাহকদের জরুরি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের সোনালী দরজা উন্মোচিত হবে।

এমডি মহোদয়ের প্রধান কঠোর নির্দেশনাসমূহ:

  • প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শূন্যতা (Administrative Gap) রাখা যাবে না।
  • রিকভারির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা বা অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না।
  • ওয়ান টিম, ওয়ান ফিউচার নীতিতে একটি একক করপোরেট সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
  • প্রতি মাসে নিয়মিত বিজনেস রিভিউ মিটিং অনুষ্ঠিত হবে।
  • প্রতিদিন সকাল ১০টার মধ্যে রিকভারি রিপোর্ট সুনির্দিষ্টভাবে এমডি মহোদয়ের টেবিলে জমা দিতে হবে।
  • মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করতে প্রতি মাসে টপ ফাইভ হিরো (শীর্ষ পাঁচ রিকভারি হিরো) নির্বাচিত করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এমডি আবেদুর রহমান সিকদার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক এক মাসের মাথাতেই বিন্দুমাত্র সময় অপচয় না করে যেভাবে আগ্রাসী রিকভারির ঘোষণা দিয়েছেন, তা সাধারণ ডিপোজিট গ্রাহকদের মনে এক বিশাল আশার সঞ্চার করেছে। ব্যাংকের নীতিনির্ধারকরা বিশ্বাস করেন, এই রিকভারি ড্রাইভ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এবং খেলাপি কমতে থাকলে এশিয়ার বৃহত্তম এই ব্যাংক খুব দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াবে এবং দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।