১১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের বৈঠক

টানাপোড়েনের মধ্যেই ঢাকায় ভারতের ১৮ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল

The gallery was not found!

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে ভারতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)-এর ১৮ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকায় আসছে। প্রতিনিধি দলটি ১৮ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবে।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং সিআইআই সূত্র জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলের সফরকে সামনে রেখে ভারতের একটি অগ্রবর্তী দল ইতোমধ্যে ঢাকায় এসে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের এই ঢাকা সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত দুই বছরে উভয় দেশের বিভিন্ন বন্দরসংক্রান্ত বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে। এমন পরিস্থিতিতে এই সফরকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

সফরকালে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। এ ছাড়া এফবিসিসিআই এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তারা। এফবিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিনিধি দলটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহও প্রকাশ করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

থাকছেন ভারতের বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা

১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলে ভারতের বিভিন্ন বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা থাকছেন। এর মধ্যে রয়েছে গোদরেজ ইন্ডাস্ট্রিজ, অরবিন্দ লিমিটেড, ইনফ্রাভিশন ফাউন্ডেশন, এলএমডব্লিউ গ্লোবাল, মাহিন্দ্রা গ্রুপ, গোদরেজ কনজিউমার প্রোডাক্টস, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো, ফোর্বস মার্শাল, নুমালিগড় রিফাইনারি, বেক্সিমকো আইওসি পেট্রোলিয়াম এবং অ্যাপোলো হাসপাতাল-এর প্রতিনিধিরা।

বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উদ্যোগ

বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়। তবে দুই দেশের বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। বাংলাদেশ ভারত থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করে, তার তুলনায় ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার।

সিআইআইয়ের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণ, অশুল্ক বাণিজ্য বাধা কমানো এবং সীমান্ত অবকাঠামোর উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে ব্যবসায়ী মহল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের এবারের সফরে শুধু বাণিজ্য সম্প্রসারণ নয়, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ, বাজারে প্রবেশের বাধা, সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে পারে। দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলের এই যোগাযোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

জাতিসংঘে বিশ্বনেতাদের মিলনমেলা, আলোচনায় যুদ্ধ-জলবায়ু ও নিরাপত্তা

Business Times24

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের বৈঠক

টানাপোড়েনের মধ্যেই ঢাকায় ভারতের ১৮ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল

Update Time : ১০:৪২:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে ভারতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)-এর ১৮ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকায় আসছে। প্রতিনিধি দলটি ১৮ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবে।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং সিআইআই সূত্র জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলের সফরকে সামনে রেখে ভারতের একটি অগ্রবর্তী দল ইতোমধ্যে ঢাকায় এসে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের এই ঢাকা সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত দুই বছরে উভয় দেশের বিভিন্ন বন্দরসংক্রান্ত বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে। এমন পরিস্থিতিতে এই সফরকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

সফরকালে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। এ ছাড়া এফবিসিসিআই এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তারা। এফবিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিনিধি দলটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহও প্রকাশ করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

থাকছেন ভারতের বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা

১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলে ভারতের বিভিন্ন বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা থাকছেন। এর মধ্যে রয়েছে গোদরেজ ইন্ডাস্ট্রিজ, অরবিন্দ লিমিটেড, ইনফ্রাভিশন ফাউন্ডেশন, এলএমডব্লিউ গ্লোবাল, মাহিন্দ্রা গ্রুপ, গোদরেজ কনজিউমার প্রোডাক্টস, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো, ফোর্বস মার্শাল, নুমালিগড় রিফাইনারি, বেক্সিমকো আইওসি পেট্রোলিয়াম এবং অ্যাপোলো হাসপাতাল-এর প্রতিনিধিরা।

বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উদ্যোগ

বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়। তবে দুই দেশের বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। বাংলাদেশ ভারত থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করে, তার তুলনায় ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার।

সিআইআইয়ের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণ, অশুল্ক বাণিজ্য বাধা কমানো এবং সীমান্ত অবকাঠামোর উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে ব্যবসায়ী মহল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের এবারের সফরে শুধু বাণিজ্য সম্প্রসারণ নয়, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ, বাজারে প্রবেশের বাধা, সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে পারে। দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলের এই যোগাযোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।