০৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

বেসরকারি কোম্পানিকেও হ্যাকিংয়ের অনুমোদন ট্রাম্পের

The gallery was not found!

অনলাইন অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তা রক্ষায় এক অভাবনীয় ও বিতর্কিত নীতি গ্রহণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এখন থেকে বিদেশি অপরাধী চক্র ও ক্ষতিকর সংগঠনের বিরুদ্ধে সরাসরি সাইবার হামলা বা হ্যাকিং চালাতে পারবে যুক্তরাষ্ট্রের

বেসরকারি কোম্পানিগুলো। গত বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ঐতিহাসিক ও শক্তিশালী প্রশাসনিক স্মারকে (প্রেসিডেনশিয়াল মেমোরেন্ডাম) স্বাক্ষর করার মাধ্যমে এই নীতিগত অনুমোদন দেন।

এতদিন ধরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সাইবার অভিযান পরিচালনা করার একক কর্তৃত্ব ছিল কেবল মার্কিন সরকারি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাতে। ট্রাম্প সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সাইবার নিরাপত্তার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের বিশাল সক্ষমতা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহারের আইনি পথ সুগম হলো।

হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্যপত্র (ফ্যাক্টশিট) থেকে জানা গেছে, এই নির্দেশনা বেসরকারি খাতকে অবাধ হ্যাকিংয়ের জন্য অসীম বা সীমাহীন ক্ষমতা দিচ্ছে না; বরং নির্দিষ্ট কিছু নীতিমালার আওতায় একে আনা হয়েছে:

সরকারি নির্দেশনা ও তদারকি: অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলো কেবল ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নির্দেশনায় ও পরিচালনায়’ নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা বা নজরদারি চালাতে পারবে।
অভিযানের পরিধি: সরকারি তদারকিতে অনুমোদিত কোম্পানিগুলো লক্ষ্যবস্তুর তথ্যব্যবস্থা, নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোর তথ্য পরিবর্তন, প্রবেশাধিকার বন্ধ, কার্যকারিতা কমানো কিংবা সম্পূর্ণ ধ্বংস করার মতো ‘সাইবার প্রভাব বিস্তারকারী কার্যক্রম’ চালাবে।
কোনো কোম্পানি এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে চাইলে তাদের ন্যূনতম ১০ লাখ ডলার (এক মিলিয়ন ডলার) জামানত বা এসক্রো হিসেবে জমা রাখতে হবে।
মেমোরেন্ডাম অনুযায়ী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যান্য বেসরকারি সংস্থা কিংবা কেন্দ্রীয়, অঙ্গরাজ্য, স্থানীয় ও উপজাতীয় (ট্রাইবাল) সরকারের সাথে চুক্তি করে হুমকি সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করতে পারবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত উচ্চমানের সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শক্তিশালী এসব এআই মডেল পুরোনো যুগের জটিল নিরাপত্তাবলয় অনায়াসেই ভেঙে ফেলতে সক্ষম।

চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও পানি সরবরাহকারী স্থাপনায় হ্যাকাররা বড় ধরনের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে মারাত্মক অচলাবস্থা তৈরি করেছিল। এছাড়া বিদেশভিত্তিক ‘আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠন’ গুলোর ক্রমাগত র‍্যানসমওয়্যার জিম্মিদশা, আর্থিক জালিয়াতি ও আন্তর্জাতিক ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় সরকার ও বেসরকারি খাতকে এক ছাতার নিচে আনতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

 

সাইবার লড়াইয়ে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে নিয়োজিত করার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশ এই নীতি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন:

1. আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি:** বেসরকারি খাত সরাসরি ডিজিটাল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও অপরাধী চক্রের সাথে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই চরম রূপ নিতে পারে।
2. অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি ও সমন্বয়হীনতা:** হ্যাকিং অভিযানের সময় ভুলবশত অপ্রাসঙ্গিক বা বেসামরিক ডিজিটাল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিশাল ঝুঁকি থেকে যায়। তাছাড়া সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি কোম্পানির কর্মকাণ্ডে সমন্বয়ের বড় অভাব দেখা দিতে পারে।

ট্রাম্পের এই ঐতিহাসিক কর্মসূচি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং এর রূপরেখা ঠিক কী হবে—এ বিষয়ে দ্য গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও হোয়াইট হাউসের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য মেলেনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

দেশীয় ফ্যাশনে আস্থার প্রতীক ফিট এলিগ্যান্স, নেতৃত্বে সাফল্যের নতুন দিগন্ত

Business Times24

বেসরকারি কোম্পানিকেও হ্যাকিংয়ের অনুমোদন ট্রাম্পের

Update Time : ১০:১০:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

অনলাইন অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তা রক্ষায় এক অভাবনীয় ও বিতর্কিত নীতি গ্রহণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এখন থেকে বিদেশি অপরাধী চক্র ও ক্ষতিকর সংগঠনের বিরুদ্ধে সরাসরি সাইবার হামলা বা হ্যাকিং চালাতে পারবে যুক্তরাষ্ট্রের

বেসরকারি কোম্পানিগুলো। গত বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ঐতিহাসিক ও শক্তিশালী প্রশাসনিক স্মারকে (প্রেসিডেনশিয়াল মেমোরেন্ডাম) স্বাক্ষর করার মাধ্যমে এই নীতিগত অনুমোদন দেন।

এতদিন ধরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সাইবার অভিযান পরিচালনা করার একক কর্তৃত্ব ছিল কেবল মার্কিন সরকারি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাতে। ট্রাম্প সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সাইবার নিরাপত্তার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের বিশাল সক্ষমতা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহারের আইনি পথ সুগম হলো।

হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্যপত্র (ফ্যাক্টশিট) থেকে জানা গেছে, এই নির্দেশনা বেসরকারি খাতকে অবাধ হ্যাকিংয়ের জন্য অসীম বা সীমাহীন ক্ষমতা দিচ্ছে না; বরং নির্দিষ্ট কিছু নীতিমালার আওতায় একে আনা হয়েছে:

সরকারি নির্দেশনা ও তদারকি: অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলো কেবল ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নির্দেশনায় ও পরিচালনায়’ নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা বা নজরদারি চালাতে পারবে।
অভিযানের পরিধি: সরকারি তদারকিতে অনুমোদিত কোম্পানিগুলো লক্ষ্যবস্তুর তথ্যব্যবস্থা, নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোর তথ্য পরিবর্তন, প্রবেশাধিকার বন্ধ, কার্যকারিতা কমানো কিংবা সম্পূর্ণ ধ্বংস করার মতো ‘সাইবার প্রভাব বিস্তারকারী কার্যক্রম’ চালাবে।
কোনো কোম্পানি এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে চাইলে তাদের ন্যূনতম ১০ লাখ ডলার (এক মিলিয়ন ডলার) জামানত বা এসক্রো হিসেবে জমা রাখতে হবে।
মেমোরেন্ডাম অনুযায়ী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যান্য বেসরকারি সংস্থা কিংবা কেন্দ্রীয়, অঙ্গরাজ্য, স্থানীয় ও উপজাতীয় (ট্রাইবাল) সরকারের সাথে চুক্তি করে হুমকি সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করতে পারবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত উচ্চমানের সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শক্তিশালী এসব এআই মডেল পুরোনো যুগের জটিল নিরাপত্তাবলয় অনায়াসেই ভেঙে ফেলতে সক্ষম।

চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও পানি সরবরাহকারী স্থাপনায় হ্যাকাররা বড় ধরনের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে মারাত্মক অচলাবস্থা তৈরি করেছিল। এছাড়া বিদেশভিত্তিক ‘আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠন’ গুলোর ক্রমাগত র‍্যানসমওয়্যার জিম্মিদশা, আর্থিক জালিয়াতি ও আন্তর্জাতিক ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় সরকার ও বেসরকারি খাতকে এক ছাতার নিচে আনতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

 

সাইবার লড়াইয়ে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে নিয়োজিত করার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশ এই নীতি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন:

1. আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি:** বেসরকারি খাত সরাসরি ডিজিটাল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও অপরাধী চক্রের সাথে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই চরম রূপ নিতে পারে।
2. অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি ও সমন্বয়হীনতা:** হ্যাকিং অভিযানের সময় ভুলবশত অপ্রাসঙ্গিক বা বেসামরিক ডিজিটাল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিশাল ঝুঁকি থেকে যায়। তাছাড়া সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি কোম্পানির কর্মকাণ্ডে সমন্বয়ের বড় অভাব দেখা দিতে পারে।

ট্রাম্পের এই ঐতিহাসিক কর্মসূচি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং এর রূপরেখা ঠিক কী হবে—এ বিষয়ে দ্য গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও হোয়াইট হাউসের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য মেলেনি।