১১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে ডিজেলবাহী ট্যাংকার-জাহাজ সংঘর্ষ, ইঞ্জিন রুমে ফাটল

The gallery was not found!

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেলবাহী একটি অয়েল ট্যাংকারের সাথে নোঙর করা একটি বাল্ক ক্যারিয়ারের সংঘর্ষ হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষের ফলে কোনো তেল নিঃসরণ হয়নি এবং কার্গো ট্যাংকগুলো অক্ষত রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) দেওয়া এক জরুরি বার্তায় জানানো হয়েছে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে অয়েল ট্যাংকার এমটি সি স্পাইক নোঙর করে রাখা বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি সান শাইন-এর সাথে ধাক্কা লাগে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রবল স্রোতের কারণে ট্যাংকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে। তবে তদন্তের পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এমটি সি স্পাইক ট্যাংকারের সব কার্গো ট্যাংক সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে এবং ট্যাংকগুলোর ভেতরে কোনো পানি প্রবেশ করেনি। এ ছাড়া কোনো তেল নিঃসরণের খবরও পাওয়া যায়নি। তবে সংঘর্ষের ফলে ট্যাংকারটির পেছনের বাম পাশে প্রায় এক বর্গমিটারের একটি ফাটল দেখা দেয়, যার ফলে ইঞ্জিন রুমে পানি প্রবেশ করে এবং সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

সিপিএ জানিয়েছে, জাহাজটির ভিএইচএফ যোগাযোগ ব্যবস্থা জরুরি ব্যাটারির সাহায্যে সচল রয়েছে। ট্যাংকারটিকে স্থিতিশীল করতে ক্রুরা এর দুটি নোঙর থেকে ১০ শিকল পরিমাণ ক্যাবল ছেড়ে দিয়েছেন। জোয়ার-ভাটার হিসাব অনুযায়ী, ভাটার সময়ও জাহাজটি নিরাপদে ভাসমান অবস্থায় থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

দুর্ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ড উদ্ধার ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভিযান শুরু করে। বন্দরের টাগবোট ‘কান্ডারী-৮’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহায়তা শুরু করেছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ শিপিং এজেন্ট ‘প্রাইড শিপিং’-কে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডিজেল খালাসের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি একটি সালভেজ কোম্পানিকে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত এবং উদ্ধার তৎপরতা চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জাহাজের মাস্টারের সাথে সার্বক্ষণিক ভিএইচএফ যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আরও তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

জাতিসংঘে বিশ্বনেতাদের মিলনমেলা, আলোচনায় যুদ্ধ-জলবায়ু ও নিরাপত্তা

Business Times24

চট্টগ্রাম বন্দরে ডিজেলবাহী ট্যাংকার-জাহাজ সংঘর্ষ, ইঞ্জিন রুমে ফাটল

Update Time : ০৮:২৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেলবাহী একটি অয়েল ট্যাংকারের সাথে নোঙর করা একটি বাল্ক ক্যারিয়ারের সংঘর্ষ হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষের ফলে কোনো তেল নিঃসরণ হয়নি এবং কার্গো ট্যাংকগুলো অক্ষত রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) দেওয়া এক জরুরি বার্তায় জানানো হয়েছে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে অয়েল ট্যাংকার এমটি সি স্পাইক নোঙর করে রাখা বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি সান শাইন-এর সাথে ধাক্কা লাগে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রবল স্রোতের কারণে ট্যাংকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে। তবে তদন্তের পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এমটি সি স্পাইক ট্যাংকারের সব কার্গো ট্যাংক সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে এবং ট্যাংকগুলোর ভেতরে কোনো পানি প্রবেশ করেনি। এ ছাড়া কোনো তেল নিঃসরণের খবরও পাওয়া যায়নি। তবে সংঘর্ষের ফলে ট্যাংকারটির পেছনের বাম পাশে প্রায় এক বর্গমিটারের একটি ফাটল দেখা দেয়, যার ফলে ইঞ্জিন রুমে পানি প্রবেশ করে এবং সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

সিপিএ জানিয়েছে, জাহাজটির ভিএইচএফ যোগাযোগ ব্যবস্থা জরুরি ব্যাটারির সাহায্যে সচল রয়েছে। ট্যাংকারটিকে স্থিতিশীল করতে ক্রুরা এর দুটি নোঙর থেকে ১০ শিকল পরিমাণ ক্যাবল ছেড়ে দিয়েছেন। জোয়ার-ভাটার হিসাব অনুযায়ী, ভাটার সময়ও জাহাজটি নিরাপদে ভাসমান অবস্থায় থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

দুর্ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ড উদ্ধার ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভিযান শুরু করে। বন্দরের টাগবোট ‘কান্ডারী-৮’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহায়তা শুরু করেছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ শিপিং এজেন্ট ‘প্রাইড শিপিং’-কে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডিজেল খালাসের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি একটি সালভেজ কোম্পানিকে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত এবং উদ্ধার তৎপরতা চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জাহাজের মাস্টারের সাথে সার্বক্ষণিক ভিএইচএফ যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আরও তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।