০৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

জাপানে নজিরবিহীন বৃষ্টিতে ৬ জনের মৃত্যু

The gallery was not found!

পূর্ব জাপানের চিবা প্রিফেকচারে রেকর্ড বৃষ্টিপাতে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। রাজধানী টোকিওর কাছাকাছি এই অঞ্চলে নজিরবিহীন বৃষ্টিপাতের কারণে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

জাপানি কর্তৃপক্ষ বৃষ্টিপাতের এই ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। প্রবল বর্ষণে ২০ হাজারেরও বেশি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে রাতভর আটকা পড়েছেন প্রায় ৭ হাজার যাত্রী।

গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে লেভেল-৫ জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল। শুক্রবার সকালে তা কমিয়ে লেভেল-৪ করা হয়েছে। তবে ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি এখনো রয়েছে বলে সতর্ক করে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

চলতি সপ্তাহে জাপান ও এর প্রতিবেশী দেশগুলোতে একের পর এক ঝড় আঘাত হানার পর এই প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আবহাওয়াবিদেরা চলতি বছর অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয় টাইফুন মৌসুমের পূর্বাভাস দিয়েছেন।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু দেশের পূর্বাঞ্চলে প্রবেশ করে ওপরের স্তরের ঠান্ডা বায়ুর সঙ্গে মিলিত হওয়ায় বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এর ফলেই সর্বশেষ এই প্রবল বর্ষণ হয়েছে। আজ শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের চিবা প্রিফেকচারের গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই বলেন, ‘জাপানের ঐতিহাসিক আবহাওয়ার মানদণ্ডেও এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক একটি পরিস্থিতি। অতীতে আমি অনেক দুর্যোগ মোকাবিলা করেছি, কিন্তু এ ধরনের পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা আমার কখনো হয়নি।’

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে চিবা প্রিফেকচারের কিছু এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগস্ট মাসে এই অঞ্চলের গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় এটি প্রায় তিন গুণ বেশি। একই সঙ্গে এটি জাপানে এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ পরিমাণ বৃষ্টিপাত।

গভর্নর কুমাগাই বলেন, কর্তৃপক্ষ মানুষের জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখবে।

জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে, কিয়োদো নিউজ এজেন্সি এবং আসাহি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে এক নারী রয়েছেন, যিনি বন্যায় প্লাবিত একটি সড়কে ডুবে যাওয়া গাড়ির ভেতরে মারা যান। আরও দুজন রাস্তায় হঠাৎ পড়ে যান এবং পরে তাদের মৃত্যু হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এর আগে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা পরিস্থিতিটিকে ‘নজিরবিহীন মাত্রার ভারী বৃষ্টিপাত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। শুক্রবার সকালেও বেশ কয়েকটি রেল পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বৃষ্টির কারণে ভূমিধস ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটার পর ১ লাখেরও বেশি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

নারিতা বিমানবন্দরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার সব ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার কথা রয়েছে। জাপানের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা জাপান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তাদের কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হতে পারে, তবে কোনো ফ্লাইট বাতিল হবে বলে তারা আশা করছে না।

বৃষ্টির কারণে যাত্রীরা বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে আটকা পড়েন। এ ছাড়া প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ চিবা প্রিফেকচারাল সরকারের ভবনে রাত কাটিয়েছেন।

চিবার ইচিকাওয়া শহরের এক নারী এনএইচকেকে বলেন, ‘বৃষ্টি হঠাৎ শুরু হয়েছিল, তাই এটি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।’ তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ নেই। তাই আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমি আমার ব্যবসা খুলতে পারব কি না, তা নিয়ে চিন্তিত।’

এদিকে ফিলিপাইনে বন্যার আশঙ্কায় দেশটির উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় আবারও স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে জাপান, ফিলিপাইন ও চীন একই সময়ে পরপর আঘাত হানা তিনটি ঝড়ের কবলে পড়ে। এগুলো হলো ডলফিন, চ্যান-হোম ও পেইলু। একই সময়ে এসব ঝড় পুরো অঞ্চলজুড়ে তাণ্ডব চালায়। ডলফিন জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে প্রবল বৃষ্টি নিয়ে আসে। এতে কয়েক হাজার ভবন বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে, গাছপালা উপড়ে যায় এবং ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

সপ্তাহান্তে চীনা কর্তৃপক্ষ ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে তাদের বাড়িঘর থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। ওই সময় ঝড় ডলফিন চীনের পূর্বাঞ্চলে আছড়ে পড়ে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন ছিল ডলফিন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

দেশীয় ফ্যাশনে আস্থার প্রতীক ফিট এলিগ্যান্স, নেতৃত্বে সাফল্যের নতুন দিগন্ত

Business Times24

জাপানে নজিরবিহীন বৃষ্টিতে ৬ জনের মৃত্যু

Update Time : ০৩:২২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

পূর্ব জাপানের চিবা প্রিফেকচারে রেকর্ড বৃষ্টিপাতে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। রাজধানী টোকিওর কাছাকাছি এই অঞ্চলে নজিরবিহীন বৃষ্টিপাতের কারণে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

জাপানি কর্তৃপক্ষ বৃষ্টিপাতের এই ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। প্রবল বর্ষণে ২০ হাজারেরও বেশি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে রাতভর আটকা পড়েছেন প্রায় ৭ হাজার যাত্রী।

গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে লেভেল-৫ জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল। শুক্রবার সকালে তা কমিয়ে লেভেল-৪ করা হয়েছে। তবে ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি এখনো রয়েছে বলে সতর্ক করে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

চলতি সপ্তাহে জাপান ও এর প্রতিবেশী দেশগুলোতে একের পর এক ঝড় আঘাত হানার পর এই প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আবহাওয়াবিদেরা চলতি বছর অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয় টাইফুন মৌসুমের পূর্বাভাস দিয়েছেন।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু দেশের পূর্বাঞ্চলে প্রবেশ করে ওপরের স্তরের ঠান্ডা বায়ুর সঙ্গে মিলিত হওয়ায় বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এর ফলেই সর্বশেষ এই প্রবল বর্ষণ হয়েছে। আজ শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের চিবা প্রিফেকচারের গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই বলেন, ‘জাপানের ঐতিহাসিক আবহাওয়ার মানদণ্ডেও এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক একটি পরিস্থিতি। অতীতে আমি অনেক দুর্যোগ মোকাবিলা করেছি, কিন্তু এ ধরনের পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা আমার কখনো হয়নি।’

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে চিবা প্রিফেকচারের কিছু এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগস্ট মাসে এই অঞ্চলের গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় এটি প্রায় তিন গুণ বেশি। একই সঙ্গে এটি জাপানে এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ পরিমাণ বৃষ্টিপাত।

গভর্নর কুমাগাই বলেন, কর্তৃপক্ষ মানুষের জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখবে।

জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে, কিয়োদো নিউজ এজেন্সি এবং আসাহি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে এক নারী রয়েছেন, যিনি বন্যায় প্লাবিত একটি সড়কে ডুবে যাওয়া গাড়ির ভেতরে মারা যান। আরও দুজন রাস্তায় হঠাৎ পড়ে যান এবং পরে তাদের মৃত্যু হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এর আগে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা পরিস্থিতিটিকে ‘নজিরবিহীন মাত্রার ভারী বৃষ্টিপাত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। শুক্রবার সকালেও বেশ কয়েকটি রেল পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বৃষ্টির কারণে ভূমিধস ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটার পর ১ লাখেরও বেশি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

নারিতা বিমানবন্দরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার সব ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার কথা রয়েছে। জাপানের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা জাপান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তাদের কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হতে পারে, তবে কোনো ফ্লাইট বাতিল হবে বলে তারা আশা করছে না।

বৃষ্টির কারণে যাত্রীরা বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে আটকা পড়েন। এ ছাড়া প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ চিবা প্রিফেকচারাল সরকারের ভবনে রাত কাটিয়েছেন।

চিবার ইচিকাওয়া শহরের এক নারী এনএইচকেকে বলেন, ‘বৃষ্টি হঠাৎ শুরু হয়েছিল, তাই এটি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।’ তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ নেই। তাই আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমি আমার ব্যবসা খুলতে পারব কি না, তা নিয়ে চিন্তিত।’

এদিকে ফিলিপাইনে বন্যার আশঙ্কায় দেশটির উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় আবারও স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে জাপান, ফিলিপাইন ও চীন একই সময়ে পরপর আঘাত হানা তিনটি ঝড়ের কবলে পড়ে। এগুলো হলো ডলফিন, চ্যান-হোম ও পেইলু। একই সময়ে এসব ঝড় পুরো অঞ্চলজুড়ে তাণ্ডব চালায়। ডলফিন জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে প্রবল বৃষ্টি নিয়ে আসে। এতে কয়েক হাজার ভবন বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে, গাছপালা উপড়ে যায় এবং ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

সপ্তাহান্তে চীনা কর্তৃপক্ষ ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে তাদের বাড়িঘর থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। ওই সময় ঝড় ডলফিন চীনের পূর্বাঞ্চলে আছড়ে পড়ে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন ছিল ডলফিন।