০৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তীব্র গ্যাস-সংকটে কারখানার উৎপাদন বন্ধ: নিত্যপণ্য সরবরাহে সংকটের শঙ্কা

The gallery was not found!

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১৭৭ কোটি ঘনফুট গ্যাসের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিল্পাঞ্চলে। নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীর নিত্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাগুলো বন্ধ অথবা সক্ষমতার অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে।

প্রধান শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বর্তমান অবস্থা

দেশের শীর্ষ ৬টি শিল্পগোষ্ঠী (যারা মোট নিত্যপণ্য কাঁচামাল আমদানির প্রায় ৬১% নিয়ন্ত্রণ করে) চরম বিপাকে পড়েছে।

মেঘনা গ্রুপ : সয়াবিন মাড়াই, ভোজ্যতেল, আটা-ময়দাসহ ১২টি কারখানার সবকটিরই উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ।

টি কে গ্রুপ: ২৮টি প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানার মধ্যে ২০টিই বন্ধ, ৪টিতে সীমিত উৎপাদন চলছে।

সীকম ও স্মাইল ফুড: সয়াবিন ও ভোজ্যতেল প্রক্রিয়াজাতকরণের বড় বড় সব কারখানা বন্ধ।

নাবিল গ্রুপ: বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় উৎপাদন সক্ষমতা ৪০-৫০% এ নেমে এসেছে, ফলে বেড়েছে খরচ।

সিটি গ্রুপ: বেশ কয়েকটি বড় অর্থনৈতিক অঞ্চলের কারখানায় উৎপাদন দারুণভাবে ব্যাহত।

মূল কারণ: মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আংশিক চালু হলেও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

বিদ্যমান মজুত বনাম দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি: আপাতত কারখানার গুদামে থাকা আগের প্রক্রিয়াজাত পণ্য দিয়ে বাজার সামাল দেওয়া হলেও, উৎপাদন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে সরবরাহে ঘাটতি ও বাজারে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিত্যপণ্য খাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস দেওয়া উচিত। সেই সাথে অসাধু সুবিধা প্রতিরোধে বাজারে নজরদারি এবং সরকারের সংকট সমাধানের সময়সূচি স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খাত হতে পারে ব্লু ইকোনমি: শিক্ষামন্ত্রী

Business Times24

তীব্র গ্যাস-সংকটে কারখানার উৎপাদন বন্ধ: নিত্যপণ্য সরবরাহে সংকটের শঙ্কা

Update Time : ০৩:০৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১৭৭ কোটি ঘনফুট গ্যাসের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিল্পাঞ্চলে। নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীর নিত্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাগুলো বন্ধ অথবা সক্ষমতার অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে।

প্রধান শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বর্তমান অবস্থা

দেশের শীর্ষ ৬টি শিল্পগোষ্ঠী (যারা মোট নিত্যপণ্য কাঁচামাল আমদানির প্রায় ৬১% নিয়ন্ত্রণ করে) চরম বিপাকে পড়েছে।

মেঘনা গ্রুপ : সয়াবিন মাড়াই, ভোজ্যতেল, আটা-ময়দাসহ ১২টি কারখানার সবকটিরই উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ।

টি কে গ্রুপ: ২৮টি প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানার মধ্যে ২০টিই বন্ধ, ৪টিতে সীমিত উৎপাদন চলছে।

সীকম ও স্মাইল ফুড: সয়াবিন ও ভোজ্যতেল প্রক্রিয়াজাতকরণের বড় বড় সব কারখানা বন্ধ।

নাবিল গ্রুপ: বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় উৎপাদন সক্ষমতা ৪০-৫০% এ নেমে এসেছে, ফলে বেড়েছে খরচ।

সিটি গ্রুপ: বেশ কয়েকটি বড় অর্থনৈতিক অঞ্চলের কারখানায় উৎপাদন দারুণভাবে ব্যাহত।

মূল কারণ: মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আংশিক চালু হলেও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

বিদ্যমান মজুত বনাম দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি: আপাতত কারখানার গুদামে থাকা আগের প্রক্রিয়াজাত পণ্য দিয়ে বাজার সামাল দেওয়া হলেও, উৎপাদন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে সরবরাহে ঘাটতি ও বাজারে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিত্যপণ্য খাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস দেওয়া উচিত। সেই সাথে অসাধু সুবিধা প্রতিরোধে বাজারে নজরদারি এবং সরকারের সংকট সমাধানের সময়সূচি স্পষ্ট করা প্রয়োজন।