বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে উল্লেখ করে আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)-এর একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন বলে জানানো হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশে আরও মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে এবং আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত।
মার্কিন বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের উদ্যোগ
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের নীতি সহায়তা, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্ব পেয়েছে। জুলাইয়ের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনও মার্কিন উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্ককে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার দিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, দুর্নীতি মোকাবিলা, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং আরও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা
এর আগে জুনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আয়োজিত এক রোড শোতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বন্ধ ও অলাভজনক কারখানায় বিনিয়োগের আহ্বান জানান। ওই আয়োজনে দেশীয় বড় শিল্পগোষ্ঠীর পাশাপাশি জাপানের মারুবেনি, টয়োটা সুশো, সুমিতোমো, এমইউএফজি ব্যাংক, মিতসুই ও সোজিৎসের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
চীনের ক্ষেত্রেও সরকার বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্রিয় উদ্যোগ নিয়েছে। জুনে চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ অফিস খোলার ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে, ফরেন ইনভেস্টরস’ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (FICCI)-এর এক প্রতিবেদনে নীতি সংস্কার ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশে বছরে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
অ্যামচেমের ভূমিকা
বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়াতে অ্যামচেম দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা রাখছে। অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল এর আগে জানিয়েছেন, সংগঠনটি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে আসছে।
সব মিলিয়ে, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার নীতি সংস্কার, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতার ওপর জোর দিচ্ছে। মার্কিন ও অন্যান্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হলে কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
প্রস্তাবিত নিউজ টাইটেল:
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতায় প্রস্তুত সরকার: প্রধানমন্ত্রী
বিকল্প:
- বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহীদের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
- বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের জোর
- মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস
- বিনিয়োগের নতুন দুয়ার খুলতে বিদেশি উদ্যোক্তাদের পাশে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক 























