০৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাঁচা মরিচ ও সবজিতে স্বস্তি, ডিম-মাছে হিমশিম।

The gallery was not found!

রাজধানীর কাঁচাবাজারে একেক পণ্যের দামে একেক রকম খবর! ভারত থেকে আমদানি বাড়ায় কাঁচা মরিচের দাম হুট করেই অনেক কমে গেছে। টানা বৃষ্টির পর খেতের পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হওয়ায় শাকসবজির দামও আগের চেয়ে একটু নামতির দিকে। তবে এত কিছুর পরও বাজারে গিয়ে স্বস্তি পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। কারণ প্রতিদিনের খাবারের প্রধান চাহিদা—ডিম, মুরগি আর মাছের দাম এখনো অনেক চড়া। এর সঙ্গে চাল, ডাল ও তেলের বাড়তি দাম যোগ হয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।

মরিচের ঝাল কমেছে, সবজির দামও কিছুটা কম

ভারত থেকে মরিচের ট্রাক আসা শুরু করায় ঢাকার বাজারগুলোতে সরবরাহ বেশ বেড়েছে। কয়েকদিন আগেও যে কাঁচা মরিচ ৪০০ টাকা কেজিতে উঠে গিয়েছিল, তা এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকা কমে এখন ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টানা ভারী বৃষ্টির কারণে এত দিন সবজির দাম ১০০ টাকার ওপরে আটকে ছিল। তবে এই সপ্তাহে অধিকাংশ সবজির দাম কিছুটা নেমে এসেছে।

কারওয়ান বাজারের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, ভারতীয় মরিচ আসতে শুরু করায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, তাই দামও কমেছে। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কারণে অন্যান্য অনেক পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহে সমস্যা রয়েছে। পাইকারি পর্যায়েও এসব পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারে দাম কমানোর সুযোগ নেই।

এদিকে সবজির বাজারে কিছু পণ্যের দাম অবশ্য সামান্য কমেছে। গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া লম্বা বেগুন এখন মান ও বাজারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গোল বেগুনের দাম এখনো প্রায় ১৫০ টাকা কেজি।

শসার দামও কিছুটা কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছে। কাঁচা পেঁপে আগের মতোই ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ধুন্দল, ঝিঙা ও চিচিঙার দাম বাজারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এ ছাড়া কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং করলা ৯০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে প্রতি পিস চালকুমড়া ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং দেশি লাউ ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম এখনও চড়া। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে। আলুর দামে অবশ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি; কেজি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারে আগুন, মাংসের দামও চড়া

গত দুই সপ্তাহ ধরে ফার্মের ডিমের দাম বেড়েই চলেছে। এক সপ্তাহ আগেই যে ডিমের ডজন ছিল ১৪০ টাকা, এখন তা ১০–১৫ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় (অর্থাৎ চারটা ডিম বা এক হালি কিনতে লাগছে ৪০–৪৫ টাকা)।কম আয়ের মানুষের বড় ভরসা ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে। এ ছাড়া সোনালি মুরগি ৩২০–৩৫০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকায় মিলছে। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০–৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০–১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

২০০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো মাছ

মাছের বাজারে গিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন ক্রেতারা। ঢাকার কোনো বাজারেই এখন ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে চাষের সাধারণ মাছও, কেজিতে বেড়েছে প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা।মাছের নামবর্তমান দাম (প্রতি কেজি)পাঙাশ (জীবিত) ও তেলাপিয়া২৩ ৩–২৬০ টাকাচাষের কই, পোয়া ও মৃগেল২৫০ – ৩০০ টাকারুই মাছমাঝারি ৩০০–৩৫০ টাকা, বড় রুই ৪৫০– ৫০০ টাকাপাবদা, শিং ও ভেটকি৩৫০ – ৫৫০ টাকাচিংড়ি, বাইম, শোল ও ট্যাংরা৭০০ – ৯০০ টাকারূপচাঁদা ও নদীর বেলে১,০০০ টাকার ওপরে।

চাল, ডাল, তেল ও মশলার খবর

মাঝারি মানের চাল কেজিপ্রতি ৫৫–৬০ টাকা এবং ভালো মানের নাজিরশাইল বা মিনিকেট চাল ৭০–৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মসুর ডাল ১৩০–১৪০ টাকা কেজি। দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৬০ টাকা, রসুন ১৮০–২০০ টাকা এবং আলু ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৬৫–১৭০ টাকা এবং চিনি ১২৫–ই৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, ভারত থেকে প্রচুর মরিচ আসায় দাম দ্রুত কমে গেছে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টির কারণে মাছের পুকুর ও খামারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি পশুখাদ্য ও গাড়ির ভাড়া বেশি থাকায় মাছ ও মুরগি বেশি দামে কিনে এনে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতারা বলছেন—কাঁচা মরিচ আর দু-একটা সবজির দাম সামান্য কমলে তো সংসারের পুরো খরচ কমে না! চাল, ডাল, তেল আর ডিম-মাছের দাম যদি এত বেশি থাকে, তবে পরিবার নিয়ে ভালোভাবে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা সত্যি কঠিন হয়ে পড়ে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খাত হতে পারে ব্লু ইকোনমি: শিক্ষামন্ত্রী

Business Times24

কাঁচা মরিচ ও সবজিতে স্বস্তি, ডিম-মাছে হিমশিম।

Update Time : ০৫:০৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর কাঁচাবাজারে একেক পণ্যের দামে একেক রকম খবর! ভারত থেকে আমদানি বাড়ায় কাঁচা মরিচের দাম হুট করেই অনেক কমে গেছে। টানা বৃষ্টির পর খেতের পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হওয়ায় শাকসবজির দামও আগের চেয়ে একটু নামতির দিকে। তবে এত কিছুর পরও বাজারে গিয়ে স্বস্তি পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। কারণ প্রতিদিনের খাবারের প্রধান চাহিদা—ডিম, মুরগি আর মাছের দাম এখনো অনেক চড়া। এর সঙ্গে চাল, ডাল ও তেলের বাড়তি দাম যোগ হয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।

মরিচের ঝাল কমেছে, সবজির দামও কিছুটা কম

ভারত থেকে মরিচের ট্রাক আসা শুরু করায় ঢাকার বাজারগুলোতে সরবরাহ বেশ বেড়েছে। কয়েকদিন আগেও যে কাঁচা মরিচ ৪০০ টাকা কেজিতে উঠে গিয়েছিল, তা এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকা কমে এখন ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টানা ভারী বৃষ্টির কারণে এত দিন সবজির দাম ১০০ টাকার ওপরে আটকে ছিল। তবে এই সপ্তাহে অধিকাংশ সবজির দাম কিছুটা নেমে এসেছে।

কারওয়ান বাজারের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, ভারতীয় মরিচ আসতে শুরু করায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, তাই দামও কমেছে। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কারণে অন্যান্য অনেক পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহে সমস্যা রয়েছে। পাইকারি পর্যায়েও এসব পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারে দাম কমানোর সুযোগ নেই।

এদিকে সবজির বাজারে কিছু পণ্যের দাম অবশ্য সামান্য কমেছে। গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া লম্বা বেগুন এখন মান ও বাজারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গোল বেগুনের দাম এখনো প্রায় ১৫০ টাকা কেজি।

শসার দামও কিছুটা কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছে। কাঁচা পেঁপে আগের মতোই ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ধুন্দল, ঝিঙা ও চিচিঙার দাম বাজারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এ ছাড়া কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং করলা ৯০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে প্রতি পিস চালকুমড়া ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং দেশি লাউ ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম এখনও চড়া। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে। আলুর দামে অবশ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি; কেজি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারে আগুন, মাংসের দামও চড়া

গত দুই সপ্তাহ ধরে ফার্মের ডিমের দাম বেড়েই চলেছে। এক সপ্তাহ আগেই যে ডিমের ডজন ছিল ১৪০ টাকা, এখন তা ১০–১৫ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় (অর্থাৎ চারটা ডিম বা এক হালি কিনতে লাগছে ৪০–৪৫ টাকা)।কম আয়ের মানুষের বড় ভরসা ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে। এ ছাড়া সোনালি মুরগি ৩২০–৩৫০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকায় মিলছে। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০–৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০–১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

২০০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো মাছ

মাছের বাজারে গিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন ক্রেতারা। ঢাকার কোনো বাজারেই এখন ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে চাষের সাধারণ মাছও, কেজিতে বেড়েছে প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা।মাছের নামবর্তমান দাম (প্রতি কেজি)পাঙাশ (জীবিত) ও তেলাপিয়া২৩ ৩–২৬০ টাকাচাষের কই, পোয়া ও মৃগেল২৫০ – ৩০০ টাকারুই মাছমাঝারি ৩০০–৩৫০ টাকা, বড় রুই ৪৫০– ৫০০ টাকাপাবদা, শিং ও ভেটকি৩৫০ – ৫৫০ টাকাচিংড়ি, বাইম, শোল ও ট্যাংরা৭০০ – ৯০০ টাকারূপচাঁদা ও নদীর বেলে১,০০০ টাকার ওপরে।

চাল, ডাল, তেল ও মশলার খবর

মাঝারি মানের চাল কেজিপ্রতি ৫৫–৬০ টাকা এবং ভালো মানের নাজিরশাইল বা মিনিকেট চাল ৭০–৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মসুর ডাল ১৩০–১৪০ টাকা কেজি। দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৬০ টাকা, রসুন ১৮০–২০০ টাকা এবং আলু ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৬৫–১৭০ টাকা এবং চিনি ১২৫–ই৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, ভারত থেকে প্রচুর মরিচ আসায় দাম দ্রুত কমে গেছে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টির কারণে মাছের পুকুর ও খামারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি পশুখাদ্য ও গাড়ির ভাড়া বেশি থাকায় মাছ ও মুরগি বেশি দামে কিনে এনে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতারা বলছেন—কাঁচা মরিচ আর দু-একটা সবজির দাম সামান্য কমলে তো সংসারের পুরো খরচ কমে না! চাল, ডাল, তেল আর ডিম-মাছের দাম যদি এত বেশি থাকে, তবে পরিবার নিয়ে ভালোভাবে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা সত্যি কঠিন হয়ে পড়ে।