০৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে ২,৫০২ কোটি টাকার অনুমোদনের সুপারিশ

The gallery was not found!

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট (পিক ডিসি) ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোল্টাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২ হাজার ৫০২ কোটি ৩৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি)। বর্তমানে প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, “Construction of 442 MW Peak (DC) Solar Photovoltaic Grid-Connected Power Plant at Block-B, Rampal” শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়সীমা ধরা হয়েছে।

অর্থায়ন ও প্রকল্পের বিবরণ

  • প্রকল্প ব্যয়: মোট ২,৫০২.৩৯ কোটি টাকা।

  • অর্থায়নের উৎস: বিপিডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৫.৩৫ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল থেকে ঋণ হিসেবে ২,১২৭.০৩ কোটি টাকা।

  • প্রকল্প এলাকা: রামপালে বিপিডিবির অধিগ্রহণ করা ১,৮০৪ একর জমির ‘ব্লক-বি’ অংশের ৬৮৫ একর জমিতে এই সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। (উল্লেখ্য, ‘ব্লক-এ’ অংশে বিআইএফপিসিএল-এর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে)।

  • বর্তমান অগ্রগতি: প্রকল্প এলাকার জমি উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রধান অবকাঠামো ও কারিগরি দিক

  • সৌর প্যানেল, ইনভার্টার স্টেশন, পুলিং সাব-স্টেশন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ।

  • উৎপাদিত বিদ্যুৎ ৩৩/২৩০ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে।

  • বিদ্যুত সরবরাহের জন্য প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ২৩০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন তৈরি করা হবে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতামত

সমন্বিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (IEPMP)-২০২৩ এবং জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) নূর আহমেদ জানান, জমি অধিগ্রহণ আগেই শেষ হয়েছে এবং প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়নে প্রায় আড়াই বছর সময় লাগবে।

অন্যদিকে, ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল অ্যানালিসিসের (আইইইএফএ) প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম মনে করেন, জ্বালানি খাতের ৮০-৯০% আমদানিনির্ভরতা এড়াতে এই ধরনের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খাত হতে পারে ব্লু ইকোনমি: শিক্ষামন্ত্রী

Business Times24

সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে ২,৫০২ কোটি টাকার অনুমোদনের সুপারিশ

Update Time : ০৩:০২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট (পিক ডিসি) ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোল্টাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২ হাজার ৫০২ কোটি ৩৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি)। বর্তমানে প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, “Construction of 442 MW Peak (DC) Solar Photovoltaic Grid-Connected Power Plant at Block-B, Rampal” শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়সীমা ধরা হয়েছে।

অর্থায়ন ও প্রকল্পের বিবরণ

  • প্রকল্প ব্যয়: মোট ২,৫০২.৩৯ কোটি টাকা।

  • অর্থায়নের উৎস: বিপিডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৫.৩৫ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল থেকে ঋণ হিসেবে ২,১২৭.০৩ কোটি টাকা।

  • প্রকল্প এলাকা: রামপালে বিপিডিবির অধিগ্রহণ করা ১,৮০৪ একর জমির ‘ব্লক-বি’ অংশের ৬৮৫ একর জমিতে এই সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। (উল্লেখ্য, ‘ব্লক-এ’ অংশে বিআইএফপিসিএল-এর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে)।

  • বর্তমান অগ্রগতি: প্রকল্প এলাকার জমি উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রধান অবকাঠামো ও কারিগরি দিক

  • সৌর প্যানেল, ইনভার্টার স্টেশন, পুলিং সাব-স্টেশন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ।

  • উৎপাদিত বিদ্যুৎ ৩৩/২৩০ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে।

  • বিদ্যুত সরবরাহের জন্য প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ২৩০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন তৈরি করা হবে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতামত

সমন্বিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (IEPMP)-২০২৩ এবং জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) নূর আহমেদ জানান, জমি অধিগ্রহণ আগেই শেষ হয়েছে এবং প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়নে প্রায় আড়াই বছর সময় লাগবে।

অন্যদিকে, ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল অ্যানালিসিসের (আইইইএফএ) প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম মনে করেন, জ্বালানি খাতের ৮০-৯০% আমদানিনির্ভরতা এড়াতে এই ধরনের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য অত্যন্ত জরুরি।