আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে টানা নবম রাতের মতো মার্কিন সামরিক বাহিনীর জোরালো হামলার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রণালিটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন আর তেহরানের হাতে নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র বাহিনীর ধারাবাহিক আক্রমণে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামো ধসে পড়েছে বলে ওয়াশিংটন দাবি করেছে।
রোববার (১৯ জুলাই) রাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করে যে, বিশ্ব বাণিজ্য পথ ও সামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেন্টকমের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করাই মূল লক্ষ্য: সেন্টকম
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী জাহাজ ও সাধারণ নাবিকদের ওপর অব্যাহত হুমকি নস্যাৎ করতে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। সেন্টকম জানায়, “ইরানের যেসব সামরিক অবকাঠামো উপকূলীয় অঞ্চল ও প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ব্যবহার হচ্ছিল, টানা নবম রাতের অভিযানে সেসব লক্ষ্যবস্তু গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রণালিতে নিরাপত্তা না ফেরা পর্যন্ত এ সামরিক পদক্ষেপ চলবে।”
গণমাধ্যমের সামনে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান, তেহরান তাদের অধিকাংশ সামরিক সক্ষমতা হারিয়েছে। একই সাথে তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালি এখন আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। এই অভিযানের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো—ইরানের পারমাণবিক বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির যেকোনো প্রচেষ্টা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া।”
ইরানে বিকট বিস্ফোরণ, সক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিকতম বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেশের দক্ষিণ ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিশেষ করে মাহশাহর, তাবরিজ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইমাম খোমেনি বন্দর এলাকায় ব্যাপক বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দক্ষিণ ইরানের কোনারাক অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাতভর সক্রিয় রাখা হয়।
আইআরজিসির প্রত্যাখ্যান ও জোরালো পাল্টা আঘাত
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ এখনো তেহরানের হাতেই রয়েছে। মার্কিন আগ্রাসনের আইনগত ও উপযুক্ত জবাব হিসেবে আইআরজিসি সিরিয়ার আল-তানফে অবস্থিত মার্কিন স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড সেন্টারে একাধিক দূরপাল্লার হামলা পরিচালনা করেছে।
পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত অন্যান্য মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করেও ইরানের প্রক্সি ও নিয়মিত বাহিনী ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এ সময় কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাদের আকাশসীমায় ঢোকা একাধিক ড্রোন ধ্বংসের দাবি করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল-খাইমাহ অঞ্চলে রহস্যজনক বিস্ফোরণ এবং ওমান উপকূলবর্তী প্রণালিতে এক বাণিজ্যিক জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন সেনা হতাহত ও কড়া নৌ অবরোধ
এক পৃথক বার্তায় সেন্টকম জানায়, জর্ডানে পূর্ববর্তী ইরানি হামলায় নিখোঁজ হওয়া এক মার্কিন সেনার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া উত্তর ইরাকে ভূপাতিত হওয়া একটি ইরানি আত্মঘাতী ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে নতুন করে আরও এক মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সেন্টকম আরও দাবি করে, আঞ্চলিক জলসীমায় শক্ত নৌ অবরোধ নিশ্চিত করতে ১৯ জুলাই পর্যন্ত ৬টি সন্দেহভাজন বাণিজ্যিক জাহাজের পথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং নির্দেশ না মানায় ১টি জাহাজকে পুরোপুরি অকার্যকর করা হয়েছে।
বার্তা সংক্ষেপ: পারমাণবিক কেন্দ্র ও সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আক্রমণ এবং জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পাল্টা বিমান হামলার কারণে পুরো অঞ্চল এখন এক অনিয়ন্ত্রিত ও সর্বাত্মক যুদ্ধের মুখে ধাবিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















