০৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকা মহানগরে ৬৯০ টি এসি বাস নামানোর অনুমতি

The gallery was not found!

যাত্রীদের জন্য আধুনিক, নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন রুটে আট কোম্পানিকে ৬৯০টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস নামানোর অনুমতি (রুট পারমিট) দিয়েছে ঢাকা মেট্রো যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি। এসব এসি বাস চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কথা গতকাল শুক্রবার নিশ্চিত করেন কমিটির একাধিক সদস্য।

সূত্র জানায়, কোম্পানিগুলোর মধ্যে শাপলা পরিবহন (চন্দ্রা-ধোলাইখাল রুট) ২০০টি, চিত্রা পরিবহন লিমিটেড (নন্দনপার্ক-মদনপুর রুট) ১২০টি, টাইম বার্ড এক্সপ্রেস (সাভার-কালীগঞ্জ বাজার রুট) ১০০টি, স্প্রিন্ট শাটল প্রাইভেট লিমিটেড (বাড়ইপাড়া-চিটাগং রোড এবং বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল-পঞ্চবটী রুট) ১০০টি, ইকবাল এন্টারপ্রাইজ (উত্তরার পঞ্চবটী-কেরানীগঞ্জ রুট) ও নিউ ঢাকা পরিবহন (সাইনবোর্ড-গাজীপুর শিববাড়ি রুট) ৫০টি করে, ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেস (সিএমএইচ-জলসিঁড়ি অফিস পর্যন্ত দুটি ভিন্ন ভায়া রুট) ৪০টি এবং ঢাকা ট্রান্সপোর্ট লাইন (কমলাপুর-নারায়ণগঞ্জের বন্দর রুট) ৩০টি এসি বাস চালানোর অনুমতি পেয়েছে।

কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব বাসে অটো ডোর এবং ই-টিকেটিং ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক থাকা, কন্ট্রাক্ট সিস্টেম বাতিল করে কাউন্টারভিত্তিক সেবা চালু, বাসের বাহ্যিক সজ্জায় রুট নম্বর ও কোম্পানির নাম লেখা থাকা এবং প্রতিটি কোম্পানির সব বাসে একই রং থাকবে।

ঢাকায় গণপরিবহনের রুট পারমিট দেওয়া, নতুন রুট নির্ধারণ এবং পরিবহন কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করে ঢাকা মেট্রো যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি, যার প্রধান ঢাকা মহানগর পুলিশপ্রধান। কমিটির সবশেষ সভায় ৬৯০টি এসি বাসের অনুমতির আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন এসি বাস নামানোর অনুমতি দেওয়ার আগে চাহিদা যাচাই, স্টপেজ নির্ধারণ এবং কত সময় অন্তর বাস চলবে—এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা জরুরি। ঢাকার গণপরিবহন সমস্যার টেকসই সমাধানে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে বাসের রুট পারমিট দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

আগে এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণ করে না দেওয়ায় বিআরটিসির এসি বাসের চেয়েও বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে গত ১১ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে সরকার এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণ করেছে বলে জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন রুটে আলাদা ভাড়ার পরিবর্তে একটি সুনির্দিষ্ট ভাড়াকাঠামো তৈরি করার তাগিদ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) তথ্যমতে, ঢাকা মহানগরের ১২৮টি রুটে ৭০৯১টি বাস নিবন্ধিত রয়েছে। তবে ৩০০০ থেকে ৪৫০০-এর মতো বাস রাস্তায় চলাচল করে। এর মধ্যে ৩৪২৭টি বাস নিজস্ব রুটে, ২০১৮টি বাস অন্য রুটে চলছে এবং ১৬৪৬টি বাসের কোনো রুট পারমিটই নেই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর

Business Times24

ঢাকা মহানগরে ৬৯০ টি এসি বাস নামানোর অনুমতি

Update Time : ০৭:২৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

যাত্রীদের জন্য আধুনিক, নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন রুটে আট কোম্পানিকে ৬৯০টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস নামানোর অনুমতি (রুট পারমিট) দিয়েছে ঢাকা মেট্রো যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি। এসব এসি বাস চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কথা গতকাল শুক্রবার নিশ্চিত করেন কমিটির একাধিক সদস্য।

সূত্র জানায়, কোম্পানিগুলোর মধ্যে শাপলা পরিবহন (চন্দ্রা-ধোলাইখাল রুট) ২০০টি, চিত্রা পরিবহন লিমিটেড (নন্দনপার্ক-মদনপুর রুট) ১২০টি, টাইম বার্ড এক্সপ্রেস (সাভার-কালীগঞ্জ বাজার রুট) ১০০টি, স্প্রিন্ট শাটল প্রাইভেট লিমিটেড (বাড়ইপাড়া-চিটাগং রোড এবং বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল-পঞ্চবটী রুট) ১০০টি, ইকবাল এন্টারপ্রাইজ (উত্তরার পঞ্চবটী-কেরানীগঞ্জ রুট) ও নিউ ঢাকা পরিবহন (সাইনবোর্ড-গাজীপুর শিববাড়ি রুট) ৫০টি করে, ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেস (সিএমএইচ-জলসিঁড়ি অফিস পর্যন্ত দুটি ভিন্ন ভায়া রুট) ৪০টি এবং ঢাকা ট্রান্সপোর্ট লাইন (কমলাপুর-নারায়ণগঞ্জের বন্দর রুট) ৩০টি এসি বাস চালানোর অনুমতি পেয়েছে।

কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব বাসে অটো ডোর এবং ই-টিকেটিং ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক থাকা, কন্ট্রাক্ট সিস্টেম বাতিল করে কাউন্টারভিত্তিক সেবা চালু, বাসের বাহ্যিক সজ্জায় রুট নম্বর ও কোম্পানির নাম লেখা থাকা এবং প্রতিটি কোম্পানির সব বাসে একই রং থাকবে।

ঢাকায় গণপরিবহনের রুট পারমিট দেওয়া, নতুন রুট নির্ধারণ এবং পরিবহন কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করে ঢাকা মেট্রো যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি, যার প্রধান ঢাকা মহানগর পুলিশপ্রধান। কমিটির সবশেষ সভায় ৬৯০টি এসি বাসের অনুমতির আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন এসি বাস নামানোর অনুমতি দেওয়ার আগে চাহিদা যাচাই, স্টপেজ নির্ধারণ এবং কত সময় অন্তর বাস চলবে—এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা জরুরি। ঢাকার গণপরিবহন সমস্যার টেকসই সমাধানে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে বাসের রুট পারমিট দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

আগে এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণ করে না দেওয়ায় বিআরটিসির এসি বাসের চেয়েও বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে গত ১১ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে সরকার এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণ করেছে বলে জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন রুটে আলাদা ভাড়ার পরিবর্তে একটি সুনির্দিষ্ট ভাড়াকাঠামো তৈরি করার তাগিদ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) তথ্যমতে, ঢাকা মহানগরের ১২৮টি রুটে ৭০৯১টি বাস নিবন্ধিত রয়েছে। তবে ৩০০০ থেকে ৪৫০০-এর মতো বাস রাস্তায় চলাচল করে। এর মধ্যে ৩৪২৭টি বাস নিজস্ব রুটে, ২০১৮টি বাস অন্য রুটে চলছে এবং ১৬৪৬টি বাসের কোনো রুট পারমিটই নেই।