জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের শীর্ষ পদে বেসরকারি খাত থেকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। দীর্ঘ দুই দশকের মধ্যে এমন নিয়োগ এই প্রথম।
সম্প্রতি সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের নিয়োগের শর্তাবলী শিথিল করার পরই নতুন এই নিয়োগ দেওয়া হলো।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে আলাদা চিঠির মাধ্যমে অগ্রণী, জনতা ও বেসিক ব্যাংকের জন্য নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দেওয়া হয়। আর সোনালী ব্যাংকের বর্তমান প্রধানকে বহাল রাখা হয়েছে।
সাউথইস্ট ব্যাংকের সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুব আলমকে জনতা ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, যমুনা ব্যাংকের সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদকে অগ্রণী ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০০৪ সালে বিএনপি-জোট সরকারের আমলে জনতা ব্যাংকের সাবেক এমডি সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদকে বেসরকারি খাত থেকে সরকারি ব্যাংকের শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনিই ছিলেন এ ধরনের পদে নিযুক্ত সর্বশেষ বেসরকারি খাতের নির্বাহী।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) জনতা ব্যাংকের সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নূরুল হুদাকে বেসিক ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
আর শওকত আলী খানকে সোনালী ব্যাংকের এমডি পদে পুনরায় বহাল করা হয়েছে। সরকার তার নিয়োগ বাতিলের আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে তাকে তার পূর্ণ তিন বছরের মেয়াদে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে, যা ২০২৭ সালের অক্টোবর মাসে শেষ হবে।
নতুন নিয়োগ পাওয়া অপর তিন এমডি চুক্তিবদ্ধভাবে তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবেই এই নিয়োগগুলো দেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে সরকার সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
এ ছাড়া গত মাসে অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) এবং বেসিক ব্যাংকের প্রধানদের নিয়োগও বাতিল করা হয়েছিল।
এসব নিয়োগ বাতিলের পর গত ১৯ অক্টোবর সরকার সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বিডিবিএল ও বেসিক—এই ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি ও সিইও নিয়োগের যোগ্যতা সংক্রান্ত নীতিমালা সংশোধন করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 


















