বেসরকারি ব্যাংকে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ কমাতে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন প্রস্তাবে একটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একই পরিবারের সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা তিনজন থেকে কমিয়ে দুজন করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচালকদের মেয়াদ ১২ বছর থেকে কমিয়ে ছয় বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঠানো খসড়া সংশোধনীতে বলা হয়েছে, পরিচালকেরা টানা ছয় বছর দায়িত্ব পালনের পর অন্তত তিন বছরের বিরতি দিয়ে আবার নিয়োগ পেতে পারবেন।
নতুন প্রস্তাবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সর্বোচ্চ ২০ জন সদস্য রাখার সুযোগ থাকছে। স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা দুই থেকে বাড়িয়ে পাঁচজন করার প্রস্তাবও রয়েছে। আগের খসড়ায় পর্ষদের সদস্য সংখ্যা ১৫ জনে সীমিত রেখে অন্তত অর্ধেক পদ স্বতন্ত্র পরিচালকদের জন্য রাখার কথা বলা হয়েছিল।
এ ছাড়া ঋণ বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার সুযোগ বন্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কৌশলগত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ার ধারণের ১০ শতাংশ সীমা শিথিল করার ক্ষমতাও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস এসব সংস্কারের বিরোধিতা করছে। তাদের দাবি, পরিবারের সদস্য সংখ্যা ও পরিচালকদের মেয়াদ কমালে ব্যাংকের মালিকানা কাঠামো এবং অভিজ্ঞ পরিচালনা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, খেলাপি ঋণ ও অনিয়মে বিপর্যস্ত ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করতে এসব সংস্কার জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভায় তোলার আগে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে খসড়াটি পর্যালোচনা করা হবে। আসন্ন সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন ও পাস করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

নিজস্ব প্রতিবেদক 


















