০২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

আইডিবি স্থানান্তর: মতিঝিলের চেয়ে আগারগাঁওয়ে ব্যয় বাড়বে ২ কোটি টাকা

The gallery was not found!

মতিঝিলে তুলনামূলক কম খরচে নতুন অফিস নেওয়ার সুযোগ থাকলেও আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনে প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করতে চায় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এতে সংস্থাটির বার্ষিক অফিস ব্যয় বর্তমানের তুলনায় ১ কোটি ৮১ লাখ টাকা এবং মতিঝিলের বিকল্প ভবনের তুলনায় ২ কোটি ৫ লাখ টাকা বাড়বে। অথচ দেশের অধিকাংশ বিমা কোম্পানির প্রধান কার্যালয় মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায়।

গত ২০ সেপ্টেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) সচিবকে পাঠানো চিঠিতে আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনে কার্যালয় স্থানান্তরের অনুমোদন চেয়েছে আইডিআরএ।

চিঠিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, মতিঝিলের দিলকুশায় সাধারণ বীমা করপোরেশন টাওয়ারে ২০১৪ সাল থেকে তাদের কার্যালয় রয়েছে। তবে সেখানে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের অভাব, নিরাপত্তার সীমাবদ্ধতা এবং কর্মপরিবেশের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজও এখনো শেষ হয়নি। এসব কারণে আরও উপযুক্ত কার্যালয় প্রয়োজন বলে মনে করছে সংস্থাটি।

তিন ভবনে ব্যয়ের হিসাব

আইডিআরএর প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে সাধারণ বীমা করপোরেশন টাওয়ারে কার্যালয় পরিচালনায় বছরে ব্যয় হয় ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। মতিঝিলের সানমুন স্টার টাওয়ারে স্থানান্তরিত হলে বার্ষিক ব্যয় কমে দাঁড়াবে ৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। অন্যদিকে, আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনে গেলে ব্যয় হবে ৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এসব হিসাবের মধ্যে মূল্য সংযোজন কর অন্তর্ভুক্ত নয়।

অর্থাৎ, সানমুন স্টার টাওয়ারের তুলনায় আইডিবি ভবনে কার্যালয় নিলে বছরে অতিরিক্ত ২ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে।

আইডিআরএর এক কর্মকর্তা জানান, নতুন কার্যালয়ের জন্য ছয়টি ভবন পরিদর্শনের পর দুটি ভবন বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। সেগুলো হলো মতিঝিলের সানমুন স্টার টাওয়ার এবং আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবন। তবে সরকারের কাছে অনাপত্তিপত্র চাওয়া হয়েছে শুধু আইডিবি ভবনের জন্য।

কেন আইডিবি ভবন

আইডিআরএর চিঠি অনুযায়ী, শুরুতে আইডিবি ভবন কর্তৃপক্ষ সব সুবিধাসহ প্রতি বর্গফুটের মাসিক ভাড়া চেয়েছিল ১৫১ টাকা ২৫ পয়সা। দর-কষাকষির পর তা কমিয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

ভবনের ১১, ১৫, ১৬ ও ১৭তম তলা এবং নিচতলার একাংশ মিলিয়ে প্রায় ৩১ হাজার ৯৮৯ বর্গফুট জায়গার জন্য এ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে নিরাপত্তা, পার্কিং, পানি ও পয়োনিষ্কাশন, কেন্দ্রীয় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং জেনারেটর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমান কার্যালয়ে এসব সেবার জন্য আলাদা বিল দিতে হয় বলে জানিয়েছে আইডিআরএ।

সংস্থাটির মতে, আইডিবি ভবনে নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় ভবনটি তাদের কাছে উপযুক্ত বলে মনে হয়েছে।

মতিঝিলে বিমা কোম্পানি বেশি

কার্যালয় স্থানান্তরের সম্ভাব্য অসুবিধাও স্বীকার করেছে আইডিআরএ। সংস্থাটির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশের ৮১টি বিমা কোম্পানির মধ্যে ৪৫টির প্রধান কার্যালয় মতিঝিল, পল্টন, কাকরাইল, দৈনিক বাংলা মোড় ও আশপাশের এলাকায়। আগারগাঁওয়ে কোনো বিমা কোম্পানির প্রধান কার্যালয় নেই। তবে কাছাকাছি এলাকায় প্রায় ছয়টি কোম্পানির প্রধান কার্যালয় বা অফিস রয়েছে।

এ ছাড়া স্থান পরিবর্তনে কর্মীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে প্রভাব পড়তে পারে। আইডিআরএর ভাষ্য, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী বর্তমান অফিসের অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে বাসা ও সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচন করেছেন। আগারগাঁওয়ে গেলে তাঁদের বাসস্থান, সন্তানদের স্কুল এবং পারিবারিক জীবন নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন হতে পারে।

ফলে নতুন কার্যালয়ের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি বাড়তি ব্যয়, বিমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ এবং কর্মীদের ভোগান্তির বিষয়গুলোও স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

দেশীয় ফ্যাশনে আস্থার প্রতীক ফিট এলিগ্যান্স, নেতৃত্বে সাফল্যের নতুন দিগন্ত

Business Times24

আইডিবি স্থানান্তর: মতিঝিলের চেয়ে আগারগাঁওয়ে ব্যয় বাড়বে ২ কোটি টাকা

Update Time : ০৯:০১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

মতিঝিলে তুলনামূলক কম খরচে নতুন অফিস নেওয়ার সুযোগ থাকলেও আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনে প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করতে চায় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এতে সংস্থাটির বার্ষিক অফিস ব্যয় বর্তমানের তুলনায় ১ কোটি ৮১ লাখ টাকা এবং মতিঝিলের বিকল্প ভবনের তুলনায় ২ কোটি ৫ লাখ টাকা বাড়বে। অথচ দেশের অধিকাংশ বিমা কোম্পানির প্রধান কার্যালয় মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায়।

গত ২০ সেপ্টেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) সচিবকে পাঠানো চিঠিতে আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনে কার্যালয় স্থানান্তরের অনুমোদন চেয়েছে আইডিআরএ।

চিঠিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, মতিঝিলের দিলকুশায় সাধারণ বীমা করপোরেশন টাওয়ারে ২০১৪ সাল থেকে তাদের কার্যালয় রয়েছে। তবে সেখানে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের অভাব, নিরাপত্তার সীমাবদ্ধতা এবং কর্মপরিবেশের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজও এখনো শেষ হয়নি। এসব কারণে আরও উপযুক্ত কার্যালয় প্রয়োজন বলে মনে করছে সংস্থাটি।

তিন ভবনে ব্যয়ের হিসাব

আইডিআরএর প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে সাধারণ বীমা করপোরেশন টাওয়ারে কার্যালয় পরিচালনায় বছরে ব্যয় হয় ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। মতিঝিলের সানমুন স্টার টাওয়ারে স্থানান্তরিত হলে বার্ষিক ব্যয় কমে দাঁড়াবে ৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। অন্যদিকে, আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনে গেলে ব্যয় হবে ৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এসব হিসাবের মধ্যে মূল্য সংযোজন কর অন্তর্ভুক্ত নয়।

অর্থাৎ, সানমুন স্টার টাওয়ারের তুলনায় আইডিবি ভবনে কার্যালয় নিলে বছরে অতিরিক্ত ২ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে।

আইডিআরএর এক কর্মকর্তা জানান, নতুন কার্যালয়ের জন্য ছয়টি ভবন পরিদর্শনের পর দুটি ভবন বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। সেগুলো হলো মতিঝিলের সানমুন স্টার টাওয়ার এবং আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবন। তবে সরকারের কাছে অনাপত্তিপত্র চাওয়া হয়েছে শুধু আইডিবি ভবনের জন্য।

কেন আইডিবি ভবন

আইডিআরএর চিঠি অনুযায়ী, শুরুতে আইডিবি ভবন কর্তৃপক্ষ সব সুবিধাসহ প্রতি বর্গফুটের মাসিক ভাড়া চেয়েছিল ১৫১ টাকা ২৫ পয়সা। দর-কষাকষির পর তা কমিয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

ভবনের ১১, ১৫, ১৬ ও ১৭তম তলা এবং নিচতলার একাংশ মিলিয়ে প্রায় ৩১ হাজার ৯৮৯ বর্গফুট জায়গার জন্য এ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে নিরাপত্তা, পার্কিং, পানি ও পয়োনিষ্কাশন, কেন্দ্রীয় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং জেনারেটর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমান কার্যালয়ে এসব সেবার জন্য আলাদা বিল দিতে হয় বলে জানিয়েছে আইডিআরএ।

সংস্থাটির মতে, আইডিবি ভবনে নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় ভবনটি তাদের কাছে উপযুক্ত বলে মনে হয়েছে।

মতিঝিলে বিমা কোম্পানি বেশি

কার্যালয় স্থানান্তরের সম্ভাব্য অসুবিধাও স্বীকার করেছে আইডিআরএ। সংস্থাটির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশের ৮১টি বিমা কোম্পানির মধ্যে ৪৫টির প্রধান কার্যালয় মতিঝিল, পল্টন, কাকরাইল, দৈনিক বাংলা মোড় ও আশপাশের এলাকায়। আগারগাঁওয়ে কোনো বিমা কোম্পানির প্রধান কার্যালয় নেই। তবে কাছাকাছি এলাকায় প্রায় ছয়টি কোম্পানির প্রধান কার্যালয় বা অফিস রয়েছে।

এ ছাড়া স্থান পরিবর্তনে কর্মীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে প্রভাব পড়তে পারে। আইডিআরএর ভাষ্য, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী বর্তমান অফিসের অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে বাসা ও সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচন করেছেন। আগারগাঁওয়ে গেলে তাঁদের বাসস্থান, সন্তানদের স্কুল এবং পারিবারিক জীবন নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন হতে পারে।

ফলে নতুন কার্যালয়ের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি বাড়তি ব্যয়, বিমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ এবং কর্মীদের ভোগান্তির বিষয়গুলোও স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।