১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ধান সস্তা, চালেও কমতি—ঢাকার বাজারে প্রভাব সীমিত

The gallery was not found!

ধান ও চালের বাজারে এখন এক অদ্ভুত সমীকরণ। দেশের বড় ধান-চালের মোকামগুলোতে পাইকারি দামে চালের দর কমছে। একই সঙ্গে আরও দ্রুত কমছে ধানের দাম। এতে একদিকে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। কারণ ধানের যে দরপতন হয়েছে, চালের বাজারে তার পুরো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতিতে নওগাঁর পাশাপাশি কুষ্টিয়ার খাজানগরসহ অন্যান্য উৎপাদন এলাকাতেও ধান ও চালের দরে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে এটিকে শুধু নওগাঁর বাজারের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ কমে গেছে।

নওগাঁয় ধানের দামে বড় পতন

দেশের অন্যতম প্রধান ধান-চালের মোকাম নওগাঁয় আউশ ধানের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি সর্বোচ্চ ৫০ টাকা কমেছে। পারিজা ও ব্রি ধান-৪৮ এখন প্রতি মণ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা।

গত বছরের একই সময়ে এই ধানের দাম ছিল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কৃষককে প্রতি মণে কয়েক শ টাকা কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।

কাটারি ধানের দামও কমেছে। বর্তমানে প্রতি মণ ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা। গত বছর একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা।

সবচেয়ে বড় পতন জিরা ধানে। বর্তমানে প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। গত বছর ছিল ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে দাম।

কুষ্টিয়াতেও একই চিত্র

শুধু নওগাঁ নয়, দেশের আরেক বড় চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরেও ধান-চালের বাজারে দরপতনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বাজার প্রতিবেদনে সেখানে ধানের দাম মণপ্রতি প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা কমার কথা উঠে এসেছে। চালের পাইকারি দামও কেজিতে প্রায় ১ থেকে দেড় টাকা কমেছে।

অর্থাৎ দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুটি ধান-চালের বাজারেই একই সময়ে দাম কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

চালের দামও কমছে, তবে ধানের মতো নয়

নওগাঁর মোকামে জিরা চাল ও কাটারি চালের দাম এক সপ্তাহে কেজিতে প্রায় ২ টাকা কমেছে। এক মাসের ব্যবধানে কোনো কোনো চালের দাম কমেছে ৩ থেকে ৫ টাকা।

মোটা চাল হিসেবে পরিচিত স্বর্ণা চালের পাইকারি দামও কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, যেখানে এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা।

তবে চালের এই দরপতন ধানের দরপতনের তুলনায় অনেকটাই সীমিত। এখানেই বাজারের বড় প্রশ্ন—ধানের দাম এতটা কমলে চালের দাম একই অনুপাতে কমছে না কেন?

ঢাকার বাজারে কতটা পৌঁছেছে স্বস্তি?

উৎপাদন এলাকার পাইকারি বাজারে দাম কমলেও রাজধানীর খুচরা বাজারে এর পুরো প্রভাব এখনো পড়েনি। ঢাকার বাজারে সাধারণ চালের কিছু দামে স্থিতিশীলতা বা সামান্য কমতি দেখা গেলেও কৃষকের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে খুচরা দামের ব্যবধান রয়ে গেছে।

এর অর্থ, উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর বাজার পর্যন্ত আসার পথে পরিবহন, মিলিং, শ্রম, মজুত, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের বিভিন্ন খরচ যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু ধানের দরপতনের পুরো সুফল ভোক্তার কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

ফলে বর্তমান বাজারে একই সঙ্গে দুটি চাপ তৈরি হয়েছে—কৃষক কম দামে ধান বিক্রি করছেন, অথচ ভোক্তার চালের দাম সেই অনুপাতে কমছে না।

কেন কমছে ধানের দাম?

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এর অন্যতম কারণ চালের চাহিদা কমে যাওয়া এবং বাজারে পর্যাপ্ত মজুত থাকা। চালের বিক্রি কমলে মিলমালিকদের ধান কেনার আগ্রহও কমে যায়। তখন কৃষককে কম দামে ধান বিক্রি করতে হয়।

নওগাঁর চালকল মালিকদের বক্তব্যেও একই কারণ উঠে এসেছে। অতিরিক্ত আমদানি ও পর্যাপ্ত মজুতের কারণে বর্তমানে বাজারে চালের চাহিদা কম। ফলে মিলগুলো ধান কেনা কমিয়ে দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন ধান বাজারে ওঠার সময় দাম আরও কমে গেলে কৃষকের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভোক্তার স্বস্তি, কৃষকের দুশ্চিন্তা

চালের দাম কিছুটা কমায় শহরের ভোক্তারা স্বস্তি পেলেও কৃষকের হিসাব ভিন্ন। সার, বীজ, শ্রম, সেচ, জমি প্রস্তুত ও পরিবহনসহ উৎপাদন খরচ মিটিয়ে ধান বিক্রি করে কতটা আয় থাকছে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ধানের দাম দীর্ঘ সময় কম থাকলে কৃষক পরবর্তী মৌসুমে আবাদ কমিয়ে দিতে পারেন। এর ফলে স্বল্পমেয়াদে ভোক্তা কিছুটা কম দামে চাল পেলেও দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সরকারের সামনে দুই ধরনের চ্যালেঞ্জ

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ দুটি—একদিকে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখা, অন্যদিকে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।

নওগাঁর চালকল মালিকদের পক্ষ থেকে আউশ মৌসুমেও সরকারি ধান-চাল সংগ্রহের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে ধান থেকে বায়োফুয়েল উৎপাদনের মতো বিকল্প ব্যবহারের সুযোগ তৈরির কথাও বলা হচ্ছে।

সরকারি সংগ্রহ বাড়ানো, অবৈধ মজুত ঠেকানো এবং উৎপাদন থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত দামের ব্যবধান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা গেলে পরিস্থিতির ভারসাম্য ফিরতে পারে।

আসল প্রশ্ন দামের নয়, বণ্টনের

বর্তমান বাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—চাল সস্তা হচ্ছে, কিন্তু ধানের দাম তার চেয়েও দ্রুত কমছে।

নওগাঁ ও কুষ্টিয়ার মতো বড় উৎপাদন এলাকায় এর প্রভাব সরাসরি কৃষকের ওপর পড়ছে। অন্যদিকে ঢাকার মতো বড় ভোক্তা বাজারে দাম কমলেও উৎপাদন পর্যায়ের দরপতনের পুরো সুবিধা এখনো পৌঁছায়নি।

তাই শুধু ‘চালের দাম কমেছে’—এমন হিসাব দিয়ে বাজারের বাস্তব চিত্র বোঝা যাবে না। দেখতে হবে, কৃষক কত দামে ধান বিক্রি করছেন, মিলমালিক কত দামে চাল তৈরি করছেন, পাইকার কত দামে বিক্রি করছেন এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তা কত দামে কিনছেন।

ধান থেকে চাল হয়ে ভোক্তার থালায় পৌঁছানো পর্যন্ত দামের এই ব্যবধানই এখন দেশের চালের বাজারের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

ধান সস্তা, চালেও কমতি—ঢাকার বাজারে প্রভাব সীমিত

Update Time : ১১:৪০:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ধান ও চালের বাজারে এখন এক অদ্ভুত সমীকরণ। দেশের বড় ধান-চালের মোকামগুলোতে পাইকারি দামে চালের দর কমছে। একই সঙ্গে আরও দ্রুত কমছে ধানের দাম। এতে একদিকে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। কারণ ধানের যে দরপতন হয়েছে, চালের বাজারে তার পুরো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতিতে নওগাঁর পাশাপাশি কুষ্টিয়ার খাজানগরসহ অন্যান্য উৎপাদন এলাকাতেও ধান ও চালের দরে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে এটিকে শুধু নওগাঁর বাজারের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ কমে গেছে।

নওগাঁয় ধানের দামে বড় পতন

দেশের অন্যতম প্রধান ধান-চালের মোকাম নওগাঁয় আউশ ধানের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি সর্বোচ্চ ৫০ টাকা কমেছে। পারিজা ও ব্রি ধান-৪৮ এখন প্রতি মণ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা।

গত বছরের একই সময়ে এই ধানের দাম ছিল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কৃষককে প্রতি মণে কয়েক শ টাকা কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।

কাটারি ধানের দামও কমেছে। বর্তমানে প্রতি মণ ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা। গত বছর একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা।

সবচেয়ে বড় পতন জিরা ধানে। বর্তমানে প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। গত বছর ছিল ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে দাম।

কুষ্টিয়াতেও একই চিত্র

শুধু নওগাঁ নয়, দেশের আরেক বড় চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরেও ধান-চালের বাজারে দরপতনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বাজার প্রতিবেদনে সেখানে ধানের দাম মণপ্রতি প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা কমার কথা উঠে এসেছে। চালের পাইকারি দামও কেজিতে প্রায় ১ থেকে দেড় টাকা কমেছে।

অর্থাৎ দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুটি ধান-চালের বাজারেই একই সময়ে দাম কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

চালের দামও কমছে, তবে ধানের মতো নয়

নওগাঁর মোকামে জিরা চাল ও কাটারি চালের দাম এক সপ্তাহে কেজিতে প্রায় ২ টাকা কমেছে। এক মাসের ব্যবধানে কোনো কোনো চালের দাম কমেছে ৩ থেকে ৫ টাকা।

মোটা চাল হিসেবে পরিচিত স্বর্ণা চালের পাইকারি দামও কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, যেখানে এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা।

তবে চালের এই দরপতন ধানের দরপতনের তুলনায় অনেকটাই সীমিত। এখানেই বাজারের বড় প্রশ্ন—ধানের দাম এতটা কমলে চালের দাম একই অনুপাতে কমছে না কেন?

ঢাকার বাজারে কতটা পৌঁছেছে স্বস্তি?

উৎপাদন এলাকার পাইকারি বাজারে দাম কমলেও রাজধানীর খুচরা বাজারে এর পুরো প্রভাব এখনো পড়েনি। ঢাকার বাজারে সাধারণ চালের কিছু দামে স্থিতিশীলতা বা সামান্য কমতি দেখা গেলেও কৃষকের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে খুচরা দামের ব্যবধান রয়ে গেছে।

এর অর্থ, উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর বাজার পর্যন্ত আসার পথে পরিবহন, মিলিং, শ্রম, মজুত, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের বিভিন্ন খরচ যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু ধানের দরপতনের পুরো সুফল ভোক্তার কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

ফলে বর্তমান বাজারে একই সঙ্গে দুটি চাপ তৈরি হয়েছে—কৃষক কম দামে ধান বিক্রি করছেন, অথচ ভোক্তার চালের দাম সেই অনুপাতে কমছে না।

কেন কমছে ধানের দাম?

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এর অন্যতম কারণ চালের চাহিদা কমে যাওয়া এবং বাজারে পর্যাপ্ত মজুত থাকা। চালের বিক্রি কমলে মিলমালিকদের ধান কেনার আগ্রহও কমে যায়। তখন কৃষককে কম দামে ধান বিক্রি করতে হয়।

নওগাঁর চালকল মালিকদের বক্তব্যেও একই কারণ উঠে এসেছে। অতিরিক্ত আমদানি ও পর্যাপ্ত মজুতের কারণে বর্তমানে বাজারে চালের চাহিদা কম। ফলে মিলগুলো ধান কেনা কমিয়ে দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন ধান বাজারে ওঠার সময় দাম আরও কমে গেলে কৃষকের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভোক্তার স্বস্তি, কৃষকের দুশ্চিন্তা

চালের দাম কিছুটা কমায় শহরের ভোক্তারা স্বস্তি পেলেও কৃষকের হিসাব ভিন্ন। সার, বীজ, শ্রম, সেচ, জমি প্রস্তুত ও পরিবহনসহ উৎপাদন খরচ মিটিয়ে ধান বিক্রি করে কতটা আয় থাকছে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ধানের দাম দীর্ঘ সময় কম থাকলে কৃষক পরবর্তী মৌসুমে আবাদ কমিয়ে দিতে পারেন। এর ফলে স্বল্পমেয়াদে ভোক্তা কিছুটা কম দামে চাল পেলেও দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সরকারের সামনে দুই ধরনের চ্যালেঞ্জ

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ দুটি—একদিকে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখা, অন্যদিকে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।

নওগাঁর চালকল মালিকদের পক্ষ থেকে আউশ মৌসুমেও সরকারি ধান-চাল সংগ্রহের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে ধান থেকে বায়োফুয়েল উৎপাদনের মতো বিকল্প ব্যবহারের সুযোগ তৈরির কথাও বলা হচ্ছে।

সরকারি সংগ্রহ বাড়ানো, অবৈধ মজুত ঠেকানো এবং উৎপাদন থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত দামের ব্যবধান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা গেলে পরিস্থিতির ভারসাম্য ফিরতে পারে।

আসল প্রশ্ন দামের নয়, বণ্টনের

বর্তমান বাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—চাল সস্তা হচ্ছে, কিন্তু ধানের দাম তার চেয়েও দ্রুত কমছে।

নওগাঁ ও কুষ্টিয়ার মতো বড় উৎপাদন এলাকায় এর প্রভাব সরাসরি কৃষকের ওপর পড়ছে। অন্যদিকে ঢাকার মতো বড় ভোক্তা বাজারে দাম কমলেও উৎপাদন পর্যায়ের দরপতনের পুরো সুবিধা এখনো পৌঁছায়নি।

তাই শুধু ‘চালের দাম কমেছে’—এমন হিসাব দিয়ে বাজারের বাস্তব চিত্র বোঝা যাবে না। দেখতে হবে, কৃষক কত দামে ধান বিক্রি করছেন, মিলমালিক কত দামে চাল তৈরি করছেন, পাইকার কত দামে বিক্রি করছেন এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তা কত দামে কিনছেন।

ধান থেকে চাল হয়ে ভোক্তার থালায় পৌঁছানো পর্যন্ত দামের এই ব্যবধানই এখন দেশের চালের বাজারের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।