ব্যবসায়ীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ভ্যাট রিটার্ন জমার সময়সীমা এক মাস থেকে বাড়িয়ে তিন মাস করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন নিয়ম চালুর পরই ভ্যাট আদায়ে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে সরকার। প্রথম মাসেই লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে এসেছে আদায়। এমন পরিস্থিতিতে তিন মাস অন্তর রিটার্ন জমার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আবারও মাসিক ভ্যাট রিটার্নের বাধ্যবাধকতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআর সূত্র জানায়, ভ্যাট রিটার্ন জমাসংক্রান্ত আইন সংশোধনের জন্য একটি সারসংক্ষেপ অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর প্রস্তাবটি সংসদে উপস্থাপন করা হতে পারে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। একই সময়ে ভ্যাট আদায়ের প্রবৃদ্ধি নেমে গেছে মাইনাস ২৬ দশমিক ৪৯ শতাংশে, যা গত এক যুগের মধ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি।
এ পরিস্থিতিতে এনবিআরের নতুন প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে। অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টার সঙ্গে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকেও ভ্যাট রিটার্নের নতুন ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পরে এ বিষয়ে একটি ওয়ার্কিং পেপার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। এনবিআরের ভ্যাট পলিসি বিভাগ সেই প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মাসিক রিটার্ন ব্যবস্থায় ফেরার যৌক্তিকতা তুলে ধরে।
মাঠপর্যায়ের ভ্যাট কর্মকর্তারা বলছেন, তিন মাসের তথ্য একসঙ্গে জমা পড়লে বিপুলসংখ্যক লেনদেন যাচাই ও অডিট করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে রাজস্ব ফাঁকি শনাক্তকরণ ও বকেয়া আদায়েও জটিলতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব হাতে পেতে দেরি হওয়ায় অর্থের সময়মূল্য থেকেও সরকার বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও ভ্যাট বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির নামে হঠাৎ নিয়ম পরিবর্তনের আগে এর সম্ভাব্য প্রভাব ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন ছিল। এখন কয়েক মাসের মধ্যেই আবার আগের নিয়মে ফেরার উদ্যোগ নীতিনির্ধারণের ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















