১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউরোপে কার্বন ধরার মহাযজ্ঞ, বাংলাদেশের শিল্পেও কি আসছে সেই প্রযুক্তি?

The gallery was not found!

কার্বন নিঃসরণ কমাতে ইউরোপে শুরু হলো নতুন দিগন্তের যাত্রা। নেদারল্যান্ডসের স্লুইস্কিলে চালু হয়েছে ইউরোপের বৃহত্তম শিল্পভিত্তিক কার্বন ক্যাপচার অ্যান্ড স্টোরেজ (CCS) প্রকল্প। সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সময় তৈরি হওয়া কার্বন ডাই-অক্সাইড ধরে তা নরওয়ের সমুদ্রতলের গভীরে সংরক্ষণ করা হবে।

প্রকল্পটি বছরে সর্বোচ্চ ৮ লাখ টন CO₂ ধরে তরল করতে পারবে। এরপর ‘নর্দার্ন লাইটস’-এর মাধ্যমে তা নরওয়েতে নিয়ে সমুদ্রতলের প্রায় ২ দশমিক ৬ কিলোমিটার গভীরে সংরক্ষণ করা হবে। ১৫ বছরে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টন CO₂ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

কিন্তু নেদারল্যান্ডসের এই খবরের আসল গুরুত্ব বাংলাদেশের জন্য অন্য জায়গায়। কারণ বাংলাদেশের শিল্পনীতিতেও এখন কার্বন ধরে রাখার প্রযুক্তি ঢুকছে। দেশের NDC 3.0-তে সার, সিমেন্ট ও রাসায়নিক শিল্পে কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি এগিয়ে নেওয়া এবং নতুন সার কারখানায় ধীরে ধীরে কার্বন ক্যাপচার, ব্যবহার ও সংরক্ষণ (CCUS) চালুর কথা বলা হয়েছে। সিমেন্ট ও ইস্পাত শিল্পেও সম্ভাব্যভাবে এ প্রযুক্তি পরীক্ষার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশের সার ও সিমেন্ট শিল্পের মতো খাতগুলোতে উৎপাদন চালাতে গিয়ে উল্লেখযোগ্য কার্বন নিঃসরণ হয়। ইউরোপে কার্বন কম নিঃসরণকারী শিল্পপণ্যের চাহিদা বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে শুধু পণ্য উৎপাদন করলেই হবে না—পণ্যটি কতটা কম কার্বন নিঃসরণ করে তৈরি হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এখানেই বাংলাদেশের জন্য কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। শিল্পকারখানার নির্গমন কমানো গেলে একদিকে জলবায়ু লক্ষ্য পূরণে সহায়তা হবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শিল্পপণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে পথটি সহজ নয়। কার্বন ধরে রাখা, তরল করা, পরিবহন ও দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের জন্য বড় বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো দরকার। নেদারল্যান্ডস-নরওয়ের প্রকল্পটি যেমন দেখাচ্ছে, এটি শুধু একটি কারখানায় যন্ত্র বসানোর বিষয় নয়; প্রয়োজন পুরো কার্বন ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো।

এবার বাংলাদেশের পালা?

বাংলাদেশ এখনই নেদারল্যান্ডসের প্রকল্প হুবহু অনুসরণ করবে—এমন নয়। তবে ইউরোপের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে: আগামী দিনের শিল্প কি শুধু বেশি উৎপাদন করবে, নাকি কম কার্বন নিঃসরণ করেও উৎপাদন করবে?

বাংলাদেশের নিজস্ব জলবায়ু পরিকল্পনাতেই যখন সার, সিমেন্ট ও রাসায়নিক শিল্পে কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তির কথা বলা হয়েছে, তখন নেদারল্যান্ডসের প্রকল্পটি নিছক ইউরোপের খবর নয়। বরং এটি বাংলাদেশের শিল্পের ভবিষ্যতের জন্য একটি আগাম সতর্কবার্তা ও সম্ভাবনার ইঙ্গিত—কার্বন কমাতে এখন প্রস্তুতি নিলে আগামী দিনের বৈশ্বিক বাজারে এগিয়ে থাকার সুযোগ মিলতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

ইউরোপে কার্বন ধরার মহাযজ্ঞ, বাংলাদেশের শিল্পেও কি আসছে সেই প্রযুক্তি?

Update Time : ১২:৩৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কার্বন নিঃসরণ কমাতে ইউরোপে শুরু হলো নতুন দিগন্তের যাত্রা। নেদারল্যান্ডসের স্লুইস্কিলে চালু হয়েছে ইউরোপের বৃহত্তম শিল্পভিত্তিক কার্বন ক্যাপচার অ্যান্ড স্টোরেজ (CCS) প্রকল্প। সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সময় তৈরি হওয়া কার্বন ডাই-অক্সাইড ধরে তা নরওয়ের সমুদ্রতলের গভীরে সংরক্ষণ করা হবে।

প্রকল্পটি বছরে সর্বোচ্চ ৮ লাখ টন CO₂ ধরে তরল করতে পারবে। এরপর ‘নর্দার্ন লাইটস’-এর মাধ্যমে তা নরওয়েতে নিয়ে সমুদ্রতলের প্রায় ২ দশমিক ৬ কিলোমিটার গভীরে সংরক্ষণ করা হবে। ১৫ বছরে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টন CO₂ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

কিন্তু নেদারল্যান্ডসের এই খবরের আসল গুরুত্ব বাংলাদেশের জন্য অন্য জায়গায়। কারণ বাংলাদেশের শিল্পনীতিতেও এখন কার্বন ধরে রাখার প্রযুক্তি ঢুকছে। দেশের NDC 3.0-তে সার, সিমেন্ট ও রাসায়নিক শিল্পে কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি এগিয়ে নেওয়া এবং নতুন সার কারখানায় ধীরে ধীরে কার্বন ক্যাপচার, ব্যবহার ও সংরক্ষণ (CCUS) চালুর কথা বলা হয়েছে। সিমেন্ট ও ইস্পাত শিল্পেও সম্ভাব্যভাবে এ প্রযুক্তি পরীক্ষার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশের সার ও সিমেন্ট শিল্পের মতো খাতগুলোতে উৎপাদন চালাতে গিয়ে উল্লেখযোগ্য কার্বন নিঃসরণ হয়। ইউরোপে কার্বন কম নিঃসরণকারী শিল্পপণ্যের চাহিদা বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে শুধু পণ্য উৎপাদন করলেই হবে না—পণ্যটি কতটা কম কার্বন নিঃসরণ করে তৈরি হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এখানেই বাংলাদেশের জন্য কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। শিল্পকারখানার নির্গমন কমানো গেলে একদিকে জলবায়ু লক্ষ্য পূরণে সহায়তা হবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শিল্পপণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে পথটি সহজ নয়। কার্বন ধরে রাখা, তরল করা, পরিবহন ও দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের জন্য বড় বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো দরকার। নেদারল্যান্ডস-নরওয়ের প্রকল্পটি যেমন দেখাচ্ছে, এটি শুধু একটি কারখানায় যন্ত্র বসানোর বিষয় নয়; প্রয়োজন পুরো কার্বন ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো।

এবার বাংলাদেশের পালা?

বাংলাদেশ এখনই নেদারল্যান্ডসের প্রকল্প হুবহু অনুসরণ করবে—এমন নয়। তবে ইউরোপের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে: আগামী দিনের শিল্প কি শুধু বেশি উৎপাদন করবে, নাকি কম কার্বন নিঃসরণ করেও উৎপাদন করবে?

বাংলাদেশের নিজস্ব জলবায়ু পরিকল্পনাতেই যখন সার, সিমেন্ট ও রাসায়নিক শিল্পে কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তির কথা বলা হয়েছে, তখন নেদারল্যান্ডসের প্রকল্পটি নিছক ইউরোপের খবর নয়। বরং এটি বাংলাদেশের শিল্পের ভবিষ্যতের জন্য একটি আগাম সতর্কবার্তা ও সম্ভাবনার ইঙ্গিত—কার্বন কমাতে এখন প্রস্তুতি নিলে আগামী দিনের বৈশ্বিক বাজারে এগিয়ে থাকার সুযোগ মিলতে পারে।