০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আধুনিক স্কাডা ব্যবস্থায় যুক্ত হলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

The gallery was not found!

বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগেই জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় যুক্ত হলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাণিজ্যিক উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

বুধবার ঢাকায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) কার্যালয়ে এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হয়েছে। বিএইসির সঙ্গে ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জিই ভার্নোভার এ চুক্তির আওতায় রূপপুরের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাকে জাতীয় গ্রিডের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিত করা হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, রূপপুরের ইউনিট-১ ও ইউনিট-২-এর আটটি সঞ্চালন লাইন এবং ৪০০ কেভি ও ২৩০ কেভি জিআইএস সাবস্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত ও তথ্য এনএলডিসির এসসিএডিএ/ইএমএস ব্যবস্থায় ইন্টিগ্রেট করা হবে। ফলে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ সঞ্চালন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে রিয়েল-টাইমে পাওয়া যাবে।

এর মাধ্যমে কেন্দ্র ও জাতীয় গ্রিডের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান, সমন্বিত পরিচালনা এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার পর্যবেক্ষণ আরও কার্যকর হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে রূপপুরের উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্নভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ক্ষেত্রেও এ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চুক্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে সই করেন প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন। জিই ভার্নোভার পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি দেবেশ ঝা।

ড. কবির হোসেন বলেন, রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে নির্ভরযোগ্যভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন-সংক্রান্ত তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে চুক্তিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি মাইলফলক। কমিশনিং প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনাতেও এর বড় ভূমিকা থাকবে।

প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মো. খালেকউজ্জামান বলেন, এনএলডিসির স্কাডা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ফলে রূপপুর ও জাতীয় গ্রিডের মধ্যে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত পরিচালনা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার বড় অংশ শেষ করে রূপপুর এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল ইউনিট-১-এর জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বর্তমানে কেন্দ্রটি বি-২ কমিশনিং লাইসেন্স ও নিরাপত্তা ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে।

অনুমোদন মিললেই শুরু হবে চেইন রিঅ্যাকশন প্রক্রিয়া। এরপর ধাপে ধাপে এগোবে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শেষ পর্যন্ত বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে যাবে ইউনিটটি।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) প্রধান প্রকৌশলী ও স্কিম ডিরেক্টর মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, দেশের চালু সব বিদ্যুৎকেন্দ্রই জিই ভার্নোভার স্কাডা/ইএমএস ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত। কেন্দ্রীয় এ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি এক জায়গা থেকে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

তার ভাষায়, বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর আগেই রূপপুরকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার ফলে কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডের পরিচালন কাঠামোর অংশ হয়ে গেল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, রূপপুরের কমিশনিংয়ের সময়সূচি ঠিক রাখতে স্কাডা সিস্টেমের কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি ছিল। ফলে পারমাণবিক চুল্লি চালুর প্রস্তুতির পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গেও এখন তৈরি হলো রূপপুরের প্রযুক্তিগত সেতুবন্ধন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

আধুনিক স্কাডা ব্যবস্থায় যুক্ত হলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

Update Time : ০৮:১১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগেই জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় যুক্ত হলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাণিজ্যিক উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

বুধবার ঢাকায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) কার্যালয়ে এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হয়েছে। বিএইসির সঙ্গে ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জিই ভার্নোভার এ চুক্তির আওতায় রূপপুরের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাকে জাতীয় গ্রিডের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিত করা হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, রূপপুরের ইউনিট-১ ও ইউনিট-২-এর আটটি সঞ্চালন লাইন এবং ৪০০ কেভি ও ২৩০ কেভি জিআইএস সাবস্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত ও তথ্য এনএলডিসির এসসিএডিএ/ইএমএস ব্যবস্থায় ইন্টিগ্রেট করা হবে। ফলে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ সঞ্চালন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে রিয়েল-টাইমে পাওয়া যাবে।

এর মাধ্যমে কেন্দ্র ও জাতীয় গ্রিডের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান, সমন্বিত পরিচালনা এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার পর্যবেক্ষণ আরও কার্যকর হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে রূপপুরের উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্নভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ক্ষেত্রেও এ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চুক্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে সই করেন প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন। জিই ভার্নোভার পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি দেবেশ ঝা।

ড. কবির হোসেন বলেন, রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে নির্ভরযোগ্যভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন-সংক্রান্ত তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে চুক্তিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি মাইলফলক। কমিশনিং প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনাতেও এর বড় ভূমিকা থাকবে।

প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মো. খালেকউজ্জামান বলেন, এনএলডিসির স্কাডা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ফলে রূপপুর ও জাতীয় গ্রিডের মধ্যে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত পরিচালনা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার বড় অংশ শেষ করে রূপপুর এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল ইউনিট-১-এর জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বর্তমানে কেন্দ্রটি বি-২ কমিশনিং লাইসেন্স ও নিরাপত্তা ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে।

অনুমোদন মিললেই শুরু হবে চেইন রিঅ্যাকশন প্রক্রিয়া। এরপর ধাপে ধাপে এগোবে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শেষ পর্যন্ত বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে যাবে ইউনিটটি।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) প্রধান প্রকৌশলী ও স্কিম ডিরেক্টর মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, দেশের চালু সব বিদ্যুৎকেন্দ্রই জিই ভার্নোভার স্কাডা/ইএমএস ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত। কেন্দ্রীয় এ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি এক জায়গা থেকে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

তার ভাষায়, বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর আগেই রূপপুরকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার ফলে কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডের পরিচালন কাঠামোর অংশ হয়ে গেল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, রূপপুরের কমিশনিংয়ের সময়সূচি ঠিক রাখতে স্কাডা সিস্টেমের কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি ছিল। ফলে পারমাণবিক চুল্লি চালুর প্রস্তুতির পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গেও এখন তৈরি হলো রূপপুরের প্রযুক্তিগত সেতুবন্ধন।