দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ জুন ২০২৬ শেষে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তিন মাসের ব্যবধানে শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। একই সময়ে মোট ঋণের মধ্যে শ্রেণিকৃত ঋণের হারও বেড়ে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে উঠেছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬ শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। ওই সময় মোট ঋণের মধ্যে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ছিল ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ।অর্থাৎ, মার্চ থেকে জুন—এই তিন মাসে ব্যাংক খাতে শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। পাশাপাশি শ্রেণিকৃত ঋণের হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশীয় পয়েন্ট।
জুন শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দেশের ব্যাংক খাতের মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে। ফলে ব্যাংক খাতের ঋণমান ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের সংকট দীর্ঘদিনের। অনিয়ম, দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনা, বড় ঋণগ্রহীতাদের খেলাপি হয়ে পড়া এবং পুরনো খেলাপি ঋণ পুনঃতপশিল ও পুনর্গঠনের পরও আদায় না হওয়ায় দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। শ্রেণিকৃত ঋণের এই ঊর্ধ্বগতি ব্যাংকগুলোর মূলধন সক্ষমতা, মুনাফা এবং নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে বিপুল অর্থ আটকে থাকায় ব্যাংক খাতের তারল্য পরিস্থিতিও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















