০৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খেলাপি ঋণ উদ্ধারে কঠোর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, ১০ হাজার মামলা

The gallery was not found!

খেলাপি ঋণের অর্থ উদ্ধারে বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। ইতিমধ্যে প্রায় ১০ হাজার মামলা করেছে ব্যাংকটি। আরও মামলা করার প্রক্রিয়াও চলছে। পাশাপাশি ঋণ আদায়ে মামলা-মোকদ্দমার বাইরে সমঝোতাভিত্তিক ‘এক্সিট পলিসি’ ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা ADR ব্যবস্থাও কাজে লাগানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, আগের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সময়ে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পরিচালিত ফরেনসিক অডিট শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই অডিটের মাধ্যমে অনিয়মের সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তা চিহ্নিত করে পরবর্তী সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টের (বিআরডি) কর্মকর্তাদের এক পর্যালোচনা সভায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ঋণ আদায়, পুনর্গঠন এবং সার্বিক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ-পরবর্তী পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন, মানবসম্পদ সমন্বয়, শাখা একীভূতকরণ এবং আইটি ও অপারেশনাল ব্যবস্থার অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। এসব কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে চলছে এবং বিআরডি নিয়মিতভাবে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে।

আমানতকারীদের জন্য বড় পরিবর্তন

ঋণ আদায়ের পাশাপাশি আমানতকারীদের আস্থা ফেরানো এখন ব্যাংকটির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ব্যক্তিশ্রেণির আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ তুলতে পারবেন। আল-ওয়াদিয়াহ কারেন্ট, মুদারাবা সেভিংস ও মুদারাবা টার্ম ডিপোজিটের মূল অর্থ উত্তোলনে আগের ব্যবস্থার তুলনায় বেশি সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

একই সঙ্গে আমানতের মুনাফায় কোনো ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না—অর্থাৎ ঘোষিত মুনাফা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে না। আমানতকারীদের মধ্যে এ নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছিল, তা দূর করতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে বিষয়টি জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

২৫ আগস্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ১১তম সভাতেও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়টি আলোচনা হয়। সভায় ১ সেপ্টেম্বর থেকে নির্দিষ্ট হিসাবের আমানতকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী মূল অর্থ উত্তোলনের ব্যবস্থা এবং প্রযোজ্য হেয়ারকাট বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়।

ঋণ আদায়ে ‘ওয়ার-রুম’

খেলাপি ও মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগ দ্রুত আদায়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক এরই মধ্যে একটি বিশেষ ‘Collection & Recovery War-Room’ গঠন করেছে। ১৬ আগস্ট চালু হওয়া এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বড় ঋণগ্রহীতাদের ওপর নিবিড় নজরদারি, নিয়মিত ফলোআপ, আদায় কার্যক্রমের কেন্দ্রীয় সমন্বয় এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ব্যাংকটির লক্ষ্য শুধু মামলা দায়ের করা নয়; আটকে থাকা অর্থ যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার করে তারল্য পরিস্থিতি শক্তিশালী করা এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো। এ কারণে মামলা, সমঝোতা এবং অন্যান্য বৈধ আদায় প্রক্রিয়াকে একসঙ্গে কাজে লাগানো হচ্ছে।

পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ শেষ

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হয়েছে সংকটে থাকা পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক—একীভূত করে। দীর্ঘ একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার পর ১৬ আগস্ট থেকে ব্যাংকটি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কার্যক্রম শুরু করে। এর আগে পাঁচ ব্যাংকের ওপর থাকা প্রশাসকদের ধাপে ধাপে সরিয়ে নেওয়া হয়।

নতুন কাঠামোয় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং স্বতন্ত্র পরিচালকদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। গত ১৬ জুলাই থেকে আবেদুর রহমান সিকদার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

১৬ হাজার কর্মী, ৭৮০ শাখা ও প্রযুক্তি একীভূতকরণ

পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের কাজ এগিয়েছে। পরিচালন ব্যয় কমানো এবং দক্ষতা বাড়াতে প্রায় ৭৮০টি শাখা ও ১,৫০০টি বিজনেস ইউনিটের মার্জার ও র‍্যাশনালাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে পাঁচ ব্যাংকের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো একীভূত করার কাজ চলছে। CBS, SWIFT, RMAসহ ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ আইটি ব্যবস্থা সমন্বয় করা হচ্ছে। গ্রাহকরা যাতে একীভূত ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা নিতে পারেন, সে জন্য অভিন্ন প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্বাভাবিক ব্যাংকিংয়ে ফেরার চাপ

বাংলাদেশ ব্যাংক এখন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুটি সমান্তরাল লক্ষ্য রেখেছে—একদিকে খেলাপি ঋণ ও আটকে থাকা অর্থ উদ্ধার, অন্যদিকে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রমকে স্বাভাবিক করা।

২৫ আগস্ট গভর্নর ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দ্রুত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফেরার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা, মুনাফায় হেয়ারকাট না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করা এবং ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী আমানত উত্তোলনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

৩০ আগস্ট ব্যাংকটি ‘Customer First: Payment & Service Excellence’ শীর্ষক সম্মেলনের আয়োজন করে। স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পুনরুদ্ধার, গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।

সব মিলিয়ে, প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন এখন ঋণ আদায়, আমানতকারীর অর্থ সুরক্ষা, পুরোনো অনিয়মের দায় নির্ধারণ এবং ব্যাংকিং অবকাঠামো একীভূতকরণের একসঙ্গে চলা প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার মামলা সেই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ হলেও, ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে এসব মামলা থেকে কত অর্থ উদ্ধার হয়, ফরেনসিক অডিটে কী বেরিয়ে আসে এবং নতুন ব্যবস্থাপনা কত দ্রুত ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে—তার ওপর।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

খেলাপি ঋণ উদ্ধারে কঠোর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, ১০ হাজার মামলা

Update Time : ০৯:৪১:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

খেলাপি ঋণের অর্থ উদ্ধারে বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। ইতিমধ্যে প্রায় ১০ হাজার মামলা করেছে ব্যাংকটি। আরও মামলা করার প্রক্রিয়াও চলছে। পাশাপাশি ঋণ আদায়ে মামলা-মোকদ্দমার বাইরে সমঝোতাভিত্তিক ‘এক্সিট পলিসি’ ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা ADR ব্যবস্থাও কাজে লাগানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, আগের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সময়ে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পরিচালিত ফরেনসিক অডিট শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই অডিটের মাধ্যমে অনিয়মের সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তা চিহ্নিত করে পরবর্তী সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টের (বিআরডি) কর্মকর্তাদের এক পর্যালোচনা সভায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ঋণ আদায়, পুনর্গঠন এবং সার্বিক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ-পরবর্তী পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন, মানবসম্পদ সমন্বয়, শাখা একীভূতকরণ এবং আইটি ও অপারেশনাল ব্যবস্থার অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। এসব কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে চলছে এবং বিআরডি নিয়মিতভাবে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে।

আমানতকারীদের জন্য বড় পরিবর্তন

ঋণ আদায়ের পাশাপাশি আমানতকারীদের আস্থা ফেরানো এখন ব্যাংকটির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ব্যক্তিশ্রেণির আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ তুলতে পারবেন। আল-ওয়াদিয়াহ কারেন্ট, মুদারাবা সেভিংস ও মুদারাবা টার্ম ডিপোজিটের মূল অর্থ উত্তোলনে আগের ব্যবস্থার তুলনায় বেশি সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

একই সঙ্গে আমানতের মুনাফায় কোনো ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না—অর্থাৎ ঘোষিত মুনাফা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে না। আমানতকারীদের মধ্যে এ নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছিল, তা দূর করতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে বিষয়টি জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

২৫ আগস্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ১১তম সভাতেও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়টি আলোচনা হয়। সভায় ১ সেপ্টেম্বর থেকে নির্দিষ্ট হিসাবের আমানতকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী মূল অর্থ উত্তোলনের ব্যবস্থা এবং প্রযোজ্য হেয়ারকাট বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়।

ঋণ আদায়ে ‘ওয়ার-রুম’

খেলাপি ও মেয়াদোত্তীর্ণ বিনিয়োগ দ্রুত আদায়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক এরই মধ্যে একটি বিশেষ ‘Collection & Recovery War-Room’ গঠন করেছে। ১৬ আগস্ট চালু হওয়া এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বড় ঋণগ্রহীতাদের ওপর নিবিড় নজরদারি, নিয়মিত ফলোআপ, আদায় কার্যক্রমের কেন্দ্রীয় সমন্বয় এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ব্যাংকটির লক্ষ্য শুধু মামলা দায়ের করা নয়; আটকে থাকা অর্থ যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার করে তারল্য পরিস্থিতি শক্তিশালী করা এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো। এ কারণে মামলা, সমঝোতা এবং অন্যান্য বৈধ আদায় প্রক্রিয়াকে একসঙ্গে কাজে লাগানো হচ্ছে।

পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ শেষ

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হয়েছে সংকটে থাকা পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক—একীভূত করে। দীর্ঘ একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার পর ১৬ আগস্ট থেকে ব্যাংকটি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কার্যক্রম শুরু করে। এর আগে পাঁচ ব্যাংকের ওপর থাকা প্রশাসকদের ধাপে ধাপে সরিয়ে নেওয়া হয়।

নতুন কাঠামোয় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং স্বতন্ত্র পরিচালকদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। গত ১৬ জুলাই থেকে আবেদুর রহমান সিকদার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

১৬ হাজার কর্মী, ৭৮০ শাখা ও প্রযুক্তি একীভূতকরণ

পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের কাজ এগিয়েছে। পরিচালন ব্যয় কমানো এবং দক্ষতা বাড়াতে প্রায় ৭৮০টি শাখা ও ১,৫০০টি বিজনেস ইউনিটের মার্জার ও র‍্যাশনালাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে পাঁচ ব্যাংকের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো একীভূত করার কাজ চলছে। CBS, SWIFT, RMAসহ ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ আইটি ব্যবস্থা সমন্বয় করা হচ্ছে। গ্রাহকরা যাতে একীভূত ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা নিতে পারেন, সে জন্য অভিন্ন প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্বাভাবিক ব্যাংকিংয়ে ফেরার চাপ

বাংলাদেশ ব্যাংক এখন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুটি সমান্তরাল লক্ষ্য রেখেছে—একদিকে খেলাপি ঋণ ও আটকে থাকা অর্থ উদ্ধার, অন্যদিকে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রমকে স্বাভাবিক করা।

২৫ আগস্ট গভর্নর ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দ্রুত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফেরার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা, মুনাফায় হেয়ারকাট না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করা এবং ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী আমানত উত্তোলনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

৩০ আগস্ট ব্যাংকটি ‘Customer First: Payment & Service Excellence’ শীর্ষক সম্মেলনের আয়োজন করে। স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পুনরুদ্ধার, গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।

সব মিলিয়ে, প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন এখন ঋণ আদায়, আমানতকারীর অর্থ সুরক্ষা, পুরোনো অনিয়মের দায় নির্ধারণ এবং ব্যাংকিং অবকাঠামো একীভূতকরণের একসঙ্গে চলা প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার মামলা সেই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ হলেও, ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে এসব মামলা থেকে কত অর্থ উদ্ধার হয়, ফরেনসিক অডিটে কী বেরিয়ে আসে এবং নতুন ব্যবস্থাপনা কত দ্রুত ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে—তার ওপর।