০৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্যাকেট চিনি উধাও, খোলা চিনির কেজি ১২০ টাকা

The gallery was not found!

রাজধানীর বাজারে হঠাৎ করেই সংকট দেখা দিয়েছে মোড়কজাত চিনির। এক সপ্তাহ ধরে বেশির ভাগ দোকানে প্যাকেটজাত চিনি মিলছে না। ফলে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও চাহিদামতো চিনি না পেয়ে ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে খোলা চিনি। এরই মধ্যে খোলা চিনির দামও কেজিতে বেড়েছে আরও ৫ টাকা। বর্তমানে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, মোহাম্মাদীয়া হাউজিং লিমিটেড বাজার ও টাউন হল বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিলগেট ও পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে চিনির সংকট তৈরি হয়েছে। এর পেছনে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা গ্যাস-সংকটও বড় কারণ। গ্যাসের অভাবে কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বাজারে চিনি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত দুই সপ্তাহে পাইকারি পর্যায়ে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম প্রায় ৬৫০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে এক বস্তা কিনতে সাড়ে ৫ হাজার টাকার বেশি লাগছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। দুই সপ্তাহ আগে যেখানে প্রতি কেজি চিনি ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় পাওয়া যেত, গত সপ্তাহে তা বেড়ে ১১৫ টাকা হয়। বৃহস্পতিবার কোথাও কোথাও খোলা চিনি বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা কেজিতে।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে ১০টি মুদিদোকানে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, মাত্র তিনটি দোকানে মোড়কজাত চিনি এবং ছয়টি দোকানে খোলা চিনি রয়েছে। কয়েকটি দোকানে কোনো ধরনের চিনিই পাওয়া যায়নি।

টাউন হল বাজারের এক দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমানে খোলা চিনির দাম অনেক ক্ষেত্রে মোড়কজাত চিনির চেয়েও বেশি। তাই কেউ কেউ প্যাকেট খুলে খোলা হিসেবে চিনি বিক্রি করছেন।

ক্রেতাদের ভোগান্তিও বেড়েছে। তাজমহল রোডের বাসিন্দা বাহারুল ইসলাম বলেন, এক প্যাকেট চিনি কিনতে তাঁকে পাঁচটি দোকান ঘুরতে হয়েছে। কোথাও না পেয়ে শেষ পর্যন্ত খোলা চিনি কিনতে হয়েছে ১৫ টাকা বেশি দামে।

এদিকে বাজারে কিছু দোকানে মোড়কজাত লাল চিনি পাওয়া গেলেও এর দাম আরও বেশি—কেজি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। ফলে সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি বাড়তি দামের চাপও সামলাতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

প্যাকেট চিনি উধাও, খোলা চিনির কেজি ১২০ টাকা

Update Time : ১০:৩৫:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর বাজারে হঠাৎ করেই সংকট দেখা দিয়েছে মোড়কজাত চিনির। এক সপ্তাহ ধরে বেশির ভাগ দোকানে প্যাকেটজাত চিনি মিলছে না। ফলে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও চাহিদামতো চিনি না পেয়ে ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে খোলা চিনি। এরই মধ্যে খোলা চিনির দামও কেজিতে বেড়েছে আরও ৫ টাকা। বর্তমানে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, মোহাম্মাদীয়া হাউজিং লিমিটেড বাজার ও টাউন হল বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিলগেট ও পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে চিনির সংকট তৈরি হয়েছে। এর পেছনে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা গ্যাস-সংকটও বড় কারণ। গ্যাসের অভাবে কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বাজারে চিনি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত দুই সপ্তাহে পাইকারি পর্যায়ে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম প্রায় ৬৫০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে এক বস্তা কিনতে সাড়ে ৫ হাজার টাকার বেশি লাগছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। দুই সপ্তাহ আগে যেখানে প্রতি কেজি চিনি ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় পাওয়া যেত, গত সপ্তাহে তা বেড়ে ১১৫ টাকা হয়। বৃহস্পতিবার কোথাও কোথাও খোলা চিনি বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা কেজিতে।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে ১০টি মুদিদোকানে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, মাত্র তিনটি দোকানে মোড়কজাত চিনি এবং ছয়টি দোকানে খোলা চিনি রয়েছে। কয়েকটি দোকানে কোনো ধরনের চিনিই পাওয়া যায়নি।

টাউন হল বাজারের এক দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমানে খোলা চিনির দাম অনেক ক্ষেত্রে মোড়কজাত চিনির চেয়েও বেশি। তাই কেউ কেউ প্যাকেট খুলে খোলা হিসেবে চিনি বিক্রি করছেন।

ক্রেতাদের ভোগান্তিও বেড়েছে। তাজমহল রোডের বাসিন্দা বাহারুল ইসলাম বলেন, এক প্যাকেট চিনি কিনতে তাঁকে পাঁচটি দোকান ঘুরতে হয়েছে। কোথাও না পেয়ে শেষ পর্যন্ত খোলা চিনি কিনতে হয়েছে ১৫ টাকা বেশি দামে।

এদিকে বাজারে কিছু দোকানে মোড়কজাত লাল চিনি পাওয়া গেলেও এর দাম আরও বেশি—কেজি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। ফলে সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি বাড়তি দামের চাপও সামলাতে হচ্ছে ক্রেতাদের।