০৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

হরমুজ প্রণালি শিগগিরই যুক্ত হবে মার্কিন ভূখণ্ডে: ট্রাম্প

The gallery was not found!

ইরানকে সম্পূর্ণ পরাজিত করার পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’কে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খুব শিগগিরই এই ঘোষণা আসতে পারে বলে জানালেও, কীভাবে এটি বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

শুক্রবার নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, “ইরানকে পরাজিত করার কাজ শেষ হলে—যা এখন খুব শোচনীয়ভাবে পরাজিত হচ্ছে—আমি খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।” পরবর্তীতে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এই প্রণালির ওপর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং তার অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ সেখানে চলাচল করতে পারবে না।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, “কোনো টুইট, বিমানবাহী রণতরি, আদেশ কিংবা নির্বাচনী বক্তৃতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দখল করা যাবে না।” প্রণালিটি সব সময় ইরানের ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে উল্লেখ করে তিনি জানান, এটি কখন খুলবে বা বন্ধ হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার ইরানের।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের লক্ষ্যে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক জাহাজ চলাচল সীমিত করে ফেলে, যার ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের তথ্য মতে, আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ চললেও বর্তমানে তা হাতেগোনায় নেমে এসেছে।

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধকে বিশ্ববাসীর জন্য ‘বড় সেবা’ হিসেবে দাবি করে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের তেলের দাম বৃদ্ধি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৪.০৮ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের (২.৯৮ ডলার) তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি।

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্যাসোলিনের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে নিজের অবস্থানে অনড় ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের জন্য তিনি কখনোই ক্ষমা চাইবেন না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

দেশীয় ফ্যাশনে আস্থার প্রতীক ফিট এলিগ্যান্স, নেতৃত্বে সাফল্যের নতুন দিগন্ত

Business Times24

হরমুজ প্রণালি শিগগিরই যুক্ত হবে মার্কিন ভূখণ্ডে: ট্রাম্প

Update Time : ১১:৫৫:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ইরানকে সম্পূর্ণ পরাজিত করার পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’কে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খুব শিগগিরই এই ঘোষণা আসতে পারে বলে জানালেও, কীভাবে এটি বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

শুক্রবার নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, “ইরানকে পরাজিত করার কাজ শেষ হলে—যা এখন খুব শোচনীয়ভাবে পরাজিত হচ্ছে—আমি খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।” পরবর্তীতে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এই প্রণালির ওপর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং তার অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ সেখানে চলাচল করতে পারবে না।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, “কোনো টুইট, বিমানবাহী রণতরি, আদেশ কিংবা নির্বাচনী বক্তৃতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দখল করা যাবে না।” প্রণালিটি সব সময় ইরানের ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে উল্লেখ করে তিনি জানান, এটি কখন খুলবে বা বন্ধ হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার ইরানের।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের লক্ষ্যে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক জাহাজ চলাচল সীমিত করে ফেলে, যার ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের তথ্য মতে, আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ চললেও বর্তমানে তা হাতেগোনায় নেমে এসেছে।

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধকে বিশ্ববাসীর জন্য ‘বড় সেবা’ হিসেবে দাবি করে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের তেলের দাম বৃদ্ধি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৪.০৮ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের (২.৯৮ ডলার) তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি।

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্যাসোলিনের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে নিজের অবস্থানে অনড় ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের জন্য তিনি কখনোই ক্ষমা চাইবেন না।