০২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা, দুই মাসে বিতরণ ১১.৪৩ শতাংশ

কৃষিঋণে বড় লক্ষ্যমাত্রা, বাস্তবায়নে বাড়তি তাগিদ

The gallery was not found!

কৃষি ও পল্লি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঋণ বিতরণে প্রত্যাশিত গতি আসেনি। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংকগুলো মোট লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ বিতরণ করেছে। যদিও গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ বিতরণের পরিমাণ বেড়েছে ৪২ দশমিক ১১ শতাংশ। কৃষিতে অর্থায়ন বাড়ানো, ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এখন এ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা গত অর্থবছরের ৩৯ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে প্রায় ৫৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বিপরীতে, জুলাই-আগস্ট সময়ে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৬ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে বিতরণ বেড়েছে ২ হাজার ৩২ কোটি টাকা।

ঋণ বিতরণে গতি বাড়ানোর প্রয়োজন

লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণ বিতরণ বাড়ানো এখন ব্যাংকগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে মোট ঋণ বিতরণ হয়েছিল ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি। এবারও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি কৃষকের কাছে সময়মতো ঋণ পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

চলতি অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। প্রথম দুই মাসে এসব ব্যাংক বিতরণ করেছে ২ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ১১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। অন্যদিকে, বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিতরণ হয়েছে ৪ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

দুই ধরনের ব্যাংকেই ঋণ বিতরণের অগ্রগতি প্রায় কাছাকাছি হলেও বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিয়মিত অগ্রগতি প্রয়োজন। কৃষির মৌসুমি চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে কৃষকের প্রয়োজনের সময় অর্থায়ন নিশ্চিত করাও জরুরি।

কৃষিতে অর্থায়ন বাড়াতে নতুন নির্দেশনা

বর্তমানে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণস্থিতির মাত্র ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ কৃষি খাতে রয়েছে। কৃষির উৎপাদন, গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং খাদ্যনিরাপত্তায় এ খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় কৃষিঋণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ লক্ষ্যে চলতি অর্থবছর থেকে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের অন্তত ৪ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগে এ হার ছিল আড়াই শতাংশ। পর্যায়ক্রমে জিডিপিতে কৃষির অবদানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ খাতে ঋণ বিতরণের হার ১০ শতাংশের বেশি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কৃষির তুলনায় শিল্পসহ অন্যান্য খাতে পরিচালন ব্যয় কম রেখে বেশি মুনাফা করার সুযোগ থাকায় ব্যাংকগুলোর একাংশ কৃষিঋণে তুলনামূলক কম আগ্রহ দেখায়। এ পরিস্থিতিতে নীতিগত নির্দেশনার পাশাপাশি কৃষিঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তদারকিতে প্রযুক্তির ব্যবহার

কৃষিঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে তদারকি জোরদার করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য চালু করা হয়েছে ওয়েবভিত্তিক ‘অ্যাগ্রি-ক্রেডিট এমআইএস’ সফটওয়্যার। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয় থেকে খাতভিত্তিক ঋণের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে জেলা পর্যায় থেকেও তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঋণের তথ্যে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রযুক্তিনির্ভর এ তদারকির মাধ্যমে ঋণ বিতরণ ও ব্যবহার সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া এবং অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব

কৃষিঋণ বিতরণ বাড়ানোর পাশাপাশি এ খাতে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট শেষে কৃষি খাতে ঋণস্থিতি ছিল ৭০ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ২৯ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪২ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

গত জুন শেষে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ২৯ দশমিক ২২ শতাংশ। সে হিসাবে দুই মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১১ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে জারি করা নতুন ঋণ শ্রেণীকরণ ও প্রভিশনিং নীতিমালার প্রভাব এ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

তাই খেলাপি ঋণের এই বৃদ্ধিকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নীতিমালার প্রভাব এবং ঋণ পরিশোধের প্রকৃত পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন ঋণ বিতরণে যথাযথ যাচাই, নিয়মিত তদারকি এবং আদায় কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।

ঋণ আদায়েও ইতিবাচক অগ্রগতি

ঋণ বিতরণের পাশাপাশি কৃষি ও পল্লি খাতে ঋণ আদায়ের পরিমাণও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংকগুলো আদায় করেছে ৭ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায়ের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৭৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণ আদায় বেড়েছে ১ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা বা ২২ দশমিক ২১ শতাংশ।

ঋণ বিতরণ ও আদায়ে এ অগ্রগতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কৃষকের কাছে অর্থায়ন পৌঁছে দেওয়া, ঋণের উৎপাদনমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ জোরদার করা এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ আরও কার্যকর হতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

দেশীয় ফ্যাশনে আস্থার প্রতীক ফিট এলিগ্যান্স, নেতৃত্বে সাফল্যের নতুন দিগন্ত

Business Times24

লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা, দুই মাসে বিতরণ ১১.৪৩ শতাংশ

কৃষিঋণে বড় লক্ষ্যমাত্রা, বাস্তবায়নে বাড়তি তাগিদ

Update Time : ১১:৫৭:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

কৃষি ও পল্লি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঋণ বিতরণে প্রত্যাশিত গতি আসেনি। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংকগুলো মোট লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ বিতরণ করেছে। যদিও গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ বিতরণের পরিমাণ বেড়েছে ৪২ দশমিক ১১ শতাংশ। কৃষিতে অর্থায়ন বাড়ানো, ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এখন এ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা গত অর্থবছরের ৩৯ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে প্রায় ৫৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বিপরীতে, জুলাই-আগস্ট সময়ে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৬ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে বিতরণ বেড়েছে ২ হাজার ৩২ কোটি টাকা।

ঋণ বিতরণে গতি বাড়ানোর প্রয়োজন

লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণ বিতরণ বাড়ানো এখন ব্যাংকগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে মোট ঋণ বিতরণ হয়েছিল ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি। এবারও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি কৃষকের কাছে সময়মতো ঋণ পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

চলতি অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। প্রথম দুই মাসে এসব ব্যাংক বিতরণ করেছে ২ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ১১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। অন্যদিকে, বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিতরণ হয়েছে ৪ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

দুই ধরনের ব্যাংকেই ঋণ বিতরণের অগ্রগতি প্রায় কাছাকাছি হলেও বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিয়মিত অগ্রগতি প্রয়োজন। কৃষির মৌসুমি চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে কৃষকের প্রয়োজনের সময় অর্থায়ন নিশ্চিত করাও জরুরি।

কৃষিতে অর্থায়ন বাড়াতে নতুন নির্দেশনা

বর্তমানে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণস্থিতির মাত্র ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ কৃষি খাতে রয়েছে। কৃষির উৎপাদন, গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং খাদ্যনিরাপত্তায় এ খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় কৃষিঋণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ লক্ষ্যে চলতি অর্থবছর থেকে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের অন্তত ৪ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগে এ হার ছিল আড়াই শতাংশ। পর্যায়ক্রমে জিডিপিতে কৃষির অবদানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ খাতে ঋণ বিতরণের হার ১০ শতাংশের বেশি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কৃষির তুলনায় শিল্পসহ অন্যান্য খাতে পরিচালন ব্যয় কম রেখে বেশি মুনাফা করার সুযোগ থাকায় ব্যাংকগুলোর একাংশ কৃষিঋণে তুলনামূলক কম আগ্রহ দেখায়। এ পরিস্থিতিতে নীতিগত নির্দেশনার পাশাপাশি কৃষিঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তদারকিতে প্রযুক্তির ব্যবহার

কৃষিঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে তদারকি জোরদার করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য চালু করা হয়েছে ওয়েবভিত্তিক ‘অ্যাগ্রি-ক্রেডিট এমআইএস’ সফটওয়্যার। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয় থেকে খাতভিত্তিক ঋণের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে জেলা পর্যায় থেকেও তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঋণের তথ্যে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রযুক্তিনির্ভর এ তদারকির মাধ্যমে ঋণ বিতরণ ও ব্যবহার সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া এবং অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব

কৃষিঋণ বিতরণ বাড়ানোর পাশাপাশি এ খাতে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট শেষে কৃষি খাতে ঋণস্থিতি ছিল ৭০ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ২৯ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪২ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

গত জুন শেষে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ২৯ দশমিক ২২ শতাংশ। সে হিসাবে দুই মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১১ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে জারি করা নতুন ঋণ শ্রেণীকরণ ও প্রভিশনিং নীতিমালার প্রভাব এ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

তাই খেলাপি ঋণের এই বৃদ্ধিকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নীতিমালার প্রভাব এবং ঋণ পরিশোধের প্রকৃত পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন ঋণ বিতরণে যথাযথ যাচাই, নিয়মিত তদারকি এবং আদায় কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।

ঋণ আদায়েও ইতিবাচক অগ্রগতি

ঋণ বিতরণের পাশাপাশি কৃষি ও পল্লি খাতে ঋণ আদায়ের পরিমাণও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংকগুলো আদায় করেছে ৭ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায়ের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৭৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণ আদায় বেড়েছে ১ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা বা ২২ দশমিক ২১ শতাংশ।

ঋণ বিতরণ ও আদায়ে এ অগ্রগতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কৃষকের কাছে অর্থায়ন পৌঁছে দেওয়া, ঋণের উৎপাদনমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ জোরদার করা এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ আরও কার্যকর হতে পারে।