০২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

অর্থপাচার ঠেকাতে বিমা কোম্পানির লেনদেনে কঠোর নজরদারির নির্দেশ

The gallery was not found!

অর্থপাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে দেশের বিমা কোম্পানিগুলোর জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। নতুন নির্দেশনায় গ্রাহকের পরিচয় যাচাই, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত, নগদ লেনদেনের তথ্য প্রতিবেদন এবং অভ্যন্তরীণ নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় সব ধরনের বিমা কার্যক্রমে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এ জন্য অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন, ২০১২, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে।

বিএফআইইউর নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি বিমা কোম্পানিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও প্রচলিত আইন বিবেচনায় নিয়ে নিজস্ব নীতিমালা তৈরি করতে হবে। পরিচালনা পর্ষদ অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শীর্ষ নীতিনির্ধারণী কমিটির অনুমোদনের পর তা বাস্তবায়ন করতে হবে। ব্যবসার ধরন, পরিচালনাগত বাস্তবতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত নীতিমালা পর্যালোচনাও করতে হবে।

কেন্দ্রীয় কমপ্লায়েন্স ইউনিট গঠন

অর্থপাচার প্রতিরোধে প্রতিটি বিমা কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় কমপ্লায়েন্স ইউনিট গঠন করতে হবে। এর নেতৃত্বে থাকবেন চিফ অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার। ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দুই ধাপ নিচের জ্যেষ্ঠ কোনো কর্মকর্তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া যাবে।

কোম্পানির ব্যবসার আকার, কার্যক্রমের পরিধি ও গ্রাহকসংখ্যা বিবেচনায় এই ইউনিটে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ করতে হবে। অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি মোকাবিলায় কৌশল ও কর্মসূচি প্রণয়ন এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও ইউনিটের দায়িত্ব হবে।

নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি, ঘাটতি ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ তুলে ধরে বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহীর পর্যবেক্ষণসহ প্রতিবেদনটি পরিচালনা পর্ষদ বা সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে উপস্থাপন করতে হবে। প্রতিবেদনটির একটি অনুলিপি প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিএফআইইউতে পাঠাতে হবে।

গ্রাহকের পরিচয় যাচাই ও লেনদেন পর্যবেক্ষণ

বিমা কোম্পানিগুলোকে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিএফআইইউর ইলেকট্রনিক কেওয়াইসি (ই-কেওয়াইসি) প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। বেনামি বা ছদ্মনামে হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।

সন্দেহজনক লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকার গ্রাহক এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লেনদেনে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

শুধু প্রধান কার্যালয় নয়, কোম্পানির সব শাখা, এজেন্সি, ইউনিট, দাবি নিষ্পত্তির এজেন্ট ও কমিশন এজেন্টের কার্যক্রমেও একই ধরনের নীতিমালা কার্যকর করতে হবে। এসব নীতিমালায় গ্রাহক শনাক্তকরণ, লেনদেন পর্যবেক্ষণ ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে।

১০ লাখ টাকা বা বেশি নগদ লেনদেনের তথ্য দিতে হবে

নির্দেশনায় নগদ লেনদেনের তথ্য প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। ব্যাংকিং বা মোবাইল আর্থিক সেবা চ্যানেল ব্যবহার না করে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ লেনদেন হলে পরবর্তী মাসের প্রথম সাত কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমে বিএফআইইউকে জানাতে হবে।

এ ছাড়া উদ্দেশ্যহীন, অস্বাভাবিক বা জটিল লেনদেনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের লেনদেন সন্দেহজনক মনে হলে অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত বিএফআইইউকে জানাতে হবে।

পলিসি বন্ধ হওয়া বা বিমার দাবি নিষ্পত্তির পরও গ্রাহকের কেওয়াইসি নথি, লেনদেনের রেকর্ড, নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত নথি অন্তত পাঁচ বছর নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে।

নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে বিমা খাতে গ্রাহক যাচাই, অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ও লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থপাচার এবং সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিরোধে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

দেশীয় ফ্যাশনে আস্থার প্রতীক ফিট এলিগ্যান্স, নেতৃত্বে সাফল্যের নতুন দিগন্ত

Business Times24

অর্থপাচার ঠেকাতে বিমা কোম্পানির লেনদেনে কঠোর নজরদারির নির্দেশ

Update Time : ১২:১৪:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

অর্থপাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে দেশের বিমা কোম্পানিগুলোর জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। নতুন নির্দেশনায় গ্রাহকের পরিচয় যাচাই, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত, নগদ লেনদেনের তথ্য প্রতিবেদন এবং অভ্যন্তরীণ নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় সব ধরনের বিমা কার্যক্রমে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এ জন্য অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন, ২০১২, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে।

বিএফআইইউর নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি বিমা কোম্পানিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও প্রচলিত আইন বিবেচনায় নিয়ে নিজস্ব নীতিমালা তৈরি করতে হবে। পরিচালনা পর্ষদ অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শীর্ষ নীতিনির্ধারণী কমিটির অনুমোদনের পর তা বাস্তবায়ন করতে হবে। ব্যবসার ধরন, পরিচালনাগত বাস্তবতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত নীতিমালা পর্যালোচনাও করতে হবে।

কেন্দ্রীয় কমপ্লায়েন্স ইউনিট গঠন

অর্থপাচার প্রতিরোধে প্রতিটি বিমা কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় কমপ্লায়েন্স ইউনিট গঠন করতে হবে। এর নেতৃত্বে থাকবেন চিফ অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার। ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দুই ধাপ নিচের জ্যেষ্ঠ কোনো কর্মকর্তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া যাবে।

কোম্পানির ব্যবসার আকার, কার্যক্রমের পরিধি ও গ্রাহকসংখ্যা বিবেচনায় এই ইউনিটে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ করতে হবে। অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি মোকাবিলায় কৌশল ও কর্মসূচি প্রণয়ন এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও ইউনিটের দায়িত্ব হবে।

নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি, ঘাটতি ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ তুলে ধরে বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহীর পর্যবেক্ষণসহ প্রতিবেদনটি পরিচালনা পর্ষদ বা সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে উপস্থাপন করতে হবে। প্রতিবেদনটির একটি অনুলিপি প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিএফআইইউতে পাঠাতে হবে।

গ্রাহকের পরিচয় যাচাই ও লেনদেন পর্যবেক্ষণ

বিমা কোম্পানিগুলোকে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিএফআইইউর ইলেকট্রনিক কেওয়াইসি (ই-কেওয়াইসি) প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। বেনামি বা ছদ্মনামে হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।

সন্দেহজনক লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকার গ্রাহক এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লেনদেনে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

শুধু প্রধান কার্যালয় নয়, কোম্পানির সব শাখা, এজেন্সি, ইউনিট, দাবি নিষ্পত্তির এজেন্ট ও কমিশন এজেন্টের কার্যক্রমেও একই ধরনের নীতিমালা কার্যকর করতে হবে। এসব নীতিমালায় গ্রাহক শনাক্তকরণ, লেনদেন পর্যবেক্ষণ ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে।

১০ লাখ টাকা বা বেশি নগদ লেনদেনের তথ্য দিতে হবে

নির্দেশনায় নগদ লেনদেনের তথ্য প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। ব্যাংকিং বা মোবাইল আর্থিক সেবা চ্যানেল ব্যবহার না করে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ লেনদেন হলে পরবর্তী মাসের প্রথম সাত কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমে বিএফআইইউকে জানাতে হবে।

এ ছাড়া উদ্দেশ্যহীন, অস্বাভাবিক বা জটিল লেনদেনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের লেনদেন সন্দেহজনক মনে হলে অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত বিএফআইইউকে জানাতে হবে।

পলিসি বন্ধ হওয়া বা বিমার দাবি নিষ্পত্তির পরও গ্রাহকের কেওয়াইসি নথি, লেনদেনের রেকর্ড, নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত নথি অন্তত পাঁচ বছর নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে।

নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে বিমা খাতে গ্রাহক যাচাই, অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ও লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থপাচার এবং সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিরোধে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।