০৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে পানিবন্দি লাখো মানুষ

The gallery was not found!

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার অধিকাংশই বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, বোয়ালখালী, রাউজান, পটিয়া ও আনোয়ারাসহ বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ। তলিয়ে গেছে বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের ও গ্রামীণ সড়ক।

বন্যার কারণে চট্টগ্রামের সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। চট্টগ্রাম-নাজিরহাট সড়কের বড়দীঘির পাড় এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় হাটহাজারীসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার একাধিক স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।

সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর পানি উপচে বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া এলাকা দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। ফলে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের খামার ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গেছে। উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর অর্ধবার্ষিক পরীক্ষাও বুধবার ও বৃহস্পতিবার স্থগিত করা হয়েছে।

বাঁশখালীতে সমুদ্রের জোয়ারের পানি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে অন্তত অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পুঁইছড়ি, শেখেরখীল, ছনুয়া, গন্ডামারা, চাম্বল, শীলকূপ, সরল, খানখানাবাদ, বাহারছড়া, পুকুরিয়া ও সাধনপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরো বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

রাউজান, ফটিকছড়ি, চন্দনাইশ, হাটহাজারী ও বোয়ালখালীর বিভিন্ন ইউনিয়নেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। অনেক গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে পার্বত্য জেলাগুলোতেও। বান্দরবানের রুমা, থানচি ও সুয়ালক সড়কে পাহাড়ধসের কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। প্রশাসন প্রয়োজন ছাড়া এসব এলাকায় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে।

আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত নিম্নাঞ্চল ও পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। একই সঙ্গে কক্সবাজার ও বান্দরবান ভ্রমণে আগ্রহীদের আপাতত যাত্রা স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার রাতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, সবাইকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

মেঘনা ব্যাংকের কোম্পানীগঞ্জ উপশাখার উদ্বোধন

Business Times24

বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে পানিবন্দি লাখো মানুষ

Update Time : ১১:৩৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার অধিকাংশই বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, বোয়ালখালী, রাউজান, পটিয়া ও আনোয়ারাসহ বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ। তলিয়ে গেছে বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের ও গ্রামীণ সড়ক।

বন্যার কারণে চট্টগ্রামের সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। চট্টগ্রাম-নাজিরহাট সড়কের বড়দীঘির পাড় এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় হাটহাজারীসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার একাধিক স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।

সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর পানি উপচে বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া এলাকা দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। ফলে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের খামার ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গেছে। উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর অর্ধবার্ষিক পরীক্ষাও বুধবার ও বৃহস্পতিবার স্থগিত করা হয়েছে।

বাঁশখালীতে সমুদ্রের জোয়ারের পানি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে অন্তত অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পুঁইছড়ি, শেখেরখীল, ছনুয়া, গন্ডামারা, চাম্বল, শীলকূপ, সরল, খানখানাবাদ, বাহারছড়া, পুকুরিয়া ও সাধনপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরো বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

রাউজান, ফটিকছড়ি, চন্দনাইশ, হাটহাজারী ও বোয়ালখালীর বিভিন্ন ইউনিয়নেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। অনেক গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে পার্বত্য জেলাগুলোতেও। বান্দরবানের রুমা, থানচি ও সুয়ালক সড়কে পাহাড়ধসের কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। প্রশাসন প্রয়োজন ছাড়া এসব এলাকায় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে।

আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত নিম্নাঞ্চল ও পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। একই সঙ্গে কক্সবাজার ও বান্দরবান ভ্রমণে আগ্রহীদের আপাতত যাত্রা স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার রাতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, সবাইকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।